সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ - আপনি কি নিরাপদ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিপদ বাড়ছে এবং এগুলোর মোকাবেলা করতে প্রয়োজন দক্ষতা ও সতর্কতা। 

সাইবার-অপরাধ-প্রতিরোধে-করণীয়-১০-টি-কাজ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের করণীয় হিসেবে আপনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় ও সাইবার অপরাধের উদাহরণ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ আরো তথ্য পেতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ সম্পর্কে আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারবেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা একদিকে যেমন সুবিধাগুলো পাচ্ছি তেমনি ভাবে সাইবার অপরাধের বেড়ে চলেছে।বাংলাদেশেও হাজারো মানুষ সাইবার অপরাধের স্বীকার করছেন। ফিশিং, র‍্যানসমওয়্যার, ডেটা চুরি, অনলাইন প্রতারণা এসব হুমকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশ সরকার সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের আইন এবং সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ যা আপনাকে অনলাইনে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

আপনার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। আপনি বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং কখনোই সেগুলি লিখে রাখবেন না। অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন মিশিয়ে কমপক্ষে দশটি ক্যারেক্টারের পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।উদাহরণস্বরূপ password123 এর পরিবর্তে আপনি p@s$w0rd23* পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। আপনি চেষ্টা করবেন নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার এবং

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন যেমনঃ LastPass বা Dashlane। হ্যাকাররা সাধারণত যে পাসওয়ার্ড গুলো অনুমান করতে পারে তা হলো জন্ম তারিখ, বিবাহবার্ষিকী এবং পোষা প্রাণীর নাম অথবা ফোন নম্বর ইত্যাদি। আপনি এসব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া আপনি টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন -2FA - ব্যবহার করুন, এক্ষেত্রে আপনি নিরাপদ থাকবেন।

তথ্যসূত্রঃ পিসিপিসি ভারত সরকার, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস। 

কম্পিউটার সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করুন

আপনার কম্পিউটার সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরী। এর জন্য সবার প্রথমে আপনি আপনার ফায়ারওয়াল ফায়ারওয়াল ( মানে হচ্ছে এক ধরনের নিরাপত্তা যা আপনার কম্পিউটার অথবা মোবাইল ডিভাইসকে ইন্টারনেট অথবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আসা ক্ষতিকর ডেটা অথবা অনুপ্রবেশকারীর হাত থেকে রক্ষা করে ) সক্রিয় রাখুন। এছাড়া আপনি আপনার কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল করুন এবং চেষ্টা করবেন নিয়মিত আপডেট করার। 

এটি আপনার কম্পিউটারকে বিভিন্ন ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। আপনার কম্পিউটারকে স্পাইওয়্যার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার ইন্সটল করুন। যে সমস্ত সরকারি অফিস এবং সংস্থাগুলো রয়েছে তাদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী।

তথ্যসূত্রঃ উইলিয়ামস লেক সিটি, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস। 

সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা

আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল যেমনঃ facebook, twitter এবং youtube ইত্যাদিতে প্রাইভেসি সেটিংস যাচাই করুন এবং প্রাইভেট মোডে রাখুন।এছাড়া আপনি অনলাইনে কি ধরনের তথ্য পোস্ট করছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনার মনে রাখা উচিত একবার ইন্টারনেটে কোনো তথ্য 

গেলে তা চিরকালের জন্য সেখানে থেকে যায়। বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য সাইবার অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। আপনার লোকেশন, ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য অজানা ব্যক্তিদের দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাছাড়া আপনি অজানা লিংকে ক্লিক করবেন না এবং অপরিচিত লোকদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করাই ভালো। 

তথ্যসূত্রঃ পিসিপিসি ভারত সরকার, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস।

মোবাইল ডিভাইস সুরক্ষিত রাখা

বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং, শপিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সবকিছু করি।  আপনার মনে রাখা উচিত মোবাইল ডিভাইস ও ভাইরাস অথবা একারদের কাছে দুর্বল। আপনি সবসময় বিশ্বস্ত উৎস যেমন google play store অথবা অ্যাপেল অ্যাপস স্টোর থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করবেন। 

আপনি অজানা লিংক থেকে ডাউনলোড করবেন না। ফোনে স্ক্রিন লক অথবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা ফেস আনলক সেট করুন। এছাড়া আপনি খুলে নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট ইন্সটল করুন। আপনি পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ব্যাংকিং এবং আর্থিক লেনদেন থেকে এড়িয়ে চলুন। আপনার মোবাইল ডিভাইস নির্দিষ্ট সময় পরপর অ্যাপ্লিকেশন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। 

তথ্যসূত্রঃ উইলিয়ামস লেক সিটি, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস।

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখুন

আপনার কম্পিউটার, মোবাইল এবং ট্যাবের অপারেটিং সিস্টেম যেমনঃ উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ইত্যাদি সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায় নিরাপত্তা ফাঁক বন্ধ করার জন্য নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকে। পুরনো সফটওয়্যারে আক্রমণ প্রতিরোধ করতে অটোমেটিক আপডেট চালু করুন। 

আমরা অনেক সময় আপডেট নোটিফিকেশন দেখেও সেগুলো পরে করব ভেবে বাতিল করে দেই।আপনি কি জানেন এটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। কারণ এসব আপডেট অনেক সিকিউরিটি ফিক্স থাকে যা আপনার সিস্টেমকে হ্যাকিং থেকে বাঁচায়। বাংলাদেশ আপনারা অনেকেই পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। চেষ্টা করবেন সবসময় লাইসেন্সড সফটওয়্যার ব্যবহার করার। 

তথ্যসূত্রঃ কাসপারস্কি, হাউ টু প্রোটেক্ট ইউরসেলফ ফ্রম সাইবারক্রাইম?

ডাটা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করুন

আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ট্যাগ রিটার্ন, আর্থিক তথ্য এবং ব্যাংকের বিবরণ ও ব্যক্তিগত নথি ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোরর জন্য এনক্রিপশন এনক্রিপশন - মানে মানে হলো এমন এক ধরনের প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার ডেটাকে একটি কোড অথবা সিক্রেট ফরমেটে রূপান্তরিত করা হয় যা শুধু আপনার অনুমোদিত ব্যক্তি অথবা ডিভাইসই সেই ডেটা এক্সেস বা পড়তে পারে - ব্যবহার করুন। এছাড়া আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ নিন এবং

সেগুলো অন্য কোন সুরক্ষিত জায়গায় সংরক্ষণ করার চেষ্টা করুন। ক্লাউড স্টোরেজে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখার আগে সেগুলো এনক্রিপ্ট করে নিবেন এবং একটি এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলেস ব্যাকআপ করে রাখুন। আপনার উচিত সেটিকে ও এনক্রিপ্ট করার। এতে করে আপনার কম্পিউটার অথবা ডিভাইস চুরি হলেও এতে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসগুলোর জন্য আমি মনে করি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

তথ্যসূত্রঃ উইলিয়ামস লেক সিটি, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস।

ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখা

আপনার বাড়িতে ব্যবহৃত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক যদি সঠিকভাবে সুরক্ষিত না হয় তবে তা হ্যাকারদের অনুপ্রবেশের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। আপনার ওয়াইফাই রাউটারের ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করুন এবং চেষ্টা করবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেওয়ার। এছাড়া সর্বদা WPA2 বা WPA3 এনক্রিপশন ব্যবহার করুন। অপরদিকে পাবলিক যে সমস্ত

ওয়াইফাই বা হটস্পট ব্যবহারের সময় অবশ্য সতর্ক থাকবেন। ভুল করেও এসব নেটওয়ার্কে আপনি আর্থিক লেনদেন অথবা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে এড়িয়ে চলুন। যদি আপনার পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে তবে VPN ব্যবহার করুন। আপনার বাসা অথবা অফিসের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কোন অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে ভুল করেও শেয়ার করবেন না। 

তথ্যসূত্রঃ উইলিয়ামস লেক সিটি, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস।

ই-আইডেন্টিটি সুরক্ষিত রাখা

ইন্টারনেটে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর অথবা ইমেইল, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্য সতর্ক থাকবেন। ওয়েবসাইট গুলো সুরক্ষিত কিনা বিশেষ করে HTTPS প্রোটোকল আছে কিনা তা যাচাই করুন বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটা বা ফর্ম পূরণ করার সময়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে প্রাইভেসি সেটিংস চালু রাখুন ও নিজের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য অনলাইনে পোস্ট করা থেকে এড়িয়ে চলুন। 

বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায় ফেসবুককে নিজের পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ছবি অনেকেই পোস্ট করেন যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। এই সমস্ত কাজ থেকে আপনাকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং অনলাইনে আপনার পরিচয় চুরি হলে সেটি হতে পারে আপনার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে। 

তথ্যসূত্রঃ কাসপারস্কি, হাউ টু প্রোটেক্ট ইউরসেলফ ফ্রম সাইবারক্রাইম?

স্ক্যাম ও প্রতারণা এড়ানো

আপনি অনলাইনে স্ক্যাম অথবা প্রতারণা থেকে বিরত থাকুন। কোন একটি কাজ করার আগে আপনি কয়েকবার চিন্তা করবেন। লোভ সৃষ্টি করে এরকম ইমেইল অথবা মেসেজ পেলে সেগুলো বিশ্বাস করার আগে যাচাই-বাছাই করে দেখুন। আপনার তথ্য চেক করতে অথবা পাসওয়ার্ড নিশ্চিত করতে বলে এমন ইমেইলের কখনোই উত্তর দেবেন না এবং এতে যে লিংক দেওয়া থাকবে সেখানে কখনো ক্লিক করবেন না। ফিশিং হলো এক ধরনের স্থায়ী বার অপরাধ

যেখানে হ্যাকাররা আপনাকে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক অথবা সরকারি অফিস ও অন্যান্য সংস্থার ভান করে ইমেইল পাঠিয়ে আপনার তথ্য চায়। এ ধরনের মেসেজে থাকা লিঙ্কে আপনি কখনোই ভুলেও ক্লিক করবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিকাশ অথবা নগদ ও রকেট ইত্যাদি নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত প্রতারণার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সেজন্য আপনি এসব ক্ষেত্রে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হট লাইন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন।

তথ্যসূত্রঃ পিসি পিসি ভারত সরকার, সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন টিপস। 

সাহায্যের জন্য সঠিক ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করুন

যদি আপনি কখনো সাইবার অপরাধের শিকার হন তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে সাহায্যের জন্য সঠিক ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে রিপোর্ট করতে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অথবা বাংলাদেশে নারীদের জন্য পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন PCSW নামে একটি বিশেষ সেবা চালু রয়েছে। তাদের ফেসবুক পেজের লিংক এবং হটলাইনঃ 01320000888 নম্বর এ যোগাযোগ করা যায়।

এছাড়া আপনি বাংলাদেশ কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম BD-CERT এর সাথেও যোগাযোগ করতে পারবেন। অবৈধ ইন্টারনেট কনটেন্ট দেখলে ও পরিচয় চুরি বাণিজ্যিক প্রতারণা শিকার হলে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করুন সেটি স্ক্রিনশট অথবা মেসেজ ইত্যাদি হতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন। 

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা

বাংলাদেশের ডিজিটাল এই অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেটের ব্যবহার যেমন ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অপরদিকে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধে ঝুঁকি। প্রতিদিন নতুন নতুন পদ্ধতিতে হ্যাকাররা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা চুরি, ফিশিং এবং র‍্যানসমওয়্যার - মানে এক ধরনের কম্পিউটার ভাইরাস - আক্রমণ চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এই সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং জনসচেতন মূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এই লেখায় আমরা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের সচেতনতা ও আমাদের  করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

সচেতনতা গড়ে তোলার জাতীয় উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করেছে যা সরকারি এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সাইবার হুমকি মোকাবেলায় পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এই কৌশল এজন্য করা হয় যেন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সহজ ভাষায় বললে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম - বিডি সিই আর টি - সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সেমিনার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন এর আয়োজন করে থাকে। 

আইনি কাঠামো এবং প্রয়োগ

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ - সংশোধিত ২০১৩ সাইবার অপরাধের সংজ্ঞা এবং শাস্তি ও তদন্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। এই আইনে বলা হয়েছে আপনি যদি অনলাইনে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ডেটা চুরি এবং ইলেকট্রনিক জালিয়াতির মত অপরাধ গুলো করেন তাহলে শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ছাড়া আইনের প্রয়োগে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সাইবার ট্রাইবুনাল এবং ডিজিটাল ফরেনসিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইসিটি সিকিউরিটি গাইডলাইন জারি করেছে যা ডেটা এনক্রিপশন, নেটওয়ার্ক সুরক্ষা এবং  ইনসিডেন্ট রেসপন্স - মানে কোন ধরনের সমস্যা অথবা বিপদ ঘটলে সেটি দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সমাধান করার - পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে।  এছাড়া যারা সরকারি কর্মকর্তা রয়েছে তাদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু হয়েছে এবং সেখানে থ্রেট অ্যানালিসিস - মানে সম্ভাব্য কোন সিস্টেম বা সংস্থার জন্য হুমকি বা আক্রমণ গুলো চিহ্নিত করা এবং বিশ্লেষণ করা - রিস্ক ম্যানেজমেন্ট - মানে হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বিপদ চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা -  এবং ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন শেখানো হয়। 

জনসাধারণের অংশগ্রহণ

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফোর উইমেন - পিসিএসডব্লিউ - নারীদের লক্ষ্য  হেল্পলাইন ০১৩২০-০০০৮৮৮ ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরামর্শ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রতি মাসে বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে গিয়ে সাইবার সিকিউরিটি ক্যাম্পেইন আয়োজন করে এবং সেখানে তাদের পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রাইভেসি সেটিংস সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। 

সাইবার সচেতনতা কি? সাইবার সচেতনতায় আমাদের করণীয়

সাইবার সচেতনতা বলতে সাধারণত ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং ডাটার নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান ও সতর্কতামূলক আচরণকে বোঝায়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ফিশিং আক্রমণ চিহ্নিতকরণ ও অনলাইন আইনি অধিকার সম্পর্কে ধারণা অন্তর্ভুক্ত। সাইবার সচেতনতাই আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আপনি সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারে। সাইবার সচেতনতায় আমাদের করণীয় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

    প্রতিরোধের প্রাথমিক ধাপসমূহ


  • সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনি কখনোই আপনার প্রোফাইলে ব্যক্তিগত তথ্য যেমনঃ জন্ম তারিখ অথবা ফোন নম্বর ইত্যাদি বিষয়ে শেয়ার করবেন না।ফেসবুকে প্রাইভেসি চেকআপ টোল ব্যবহার করে পোস্টের দৃশ্যমানতা সীমিত রাখবেন। তথ্যসূত্রঃ পুলিশ গভারমেন্ট বিডি।
  • অপারেটিং এবং এন্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট রাখবেন। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি প্রতি মাসে ক্রিটিক্যাল আপডেটের নোটিফিকেশন প্রদান করে। তথ্যসূত্রঃ সাইবার সিকিউরিটি ২০২৩।
  • সহজ পাসওয়ার্ড এর পরিবর্তে বিশেষ চিহ্ন যুক্ত ১২ ক্যারেক্টারের পাসওয়ার্ড আপনি ব্যবহার করবেন এবং ব্যাংক একাউন্টে টু সেক্টর অথেন্টিকেশন চালু করবেন। তথ্যসূত্রঃ গাইডলাইন অন আইসিসি সিকিউরিটি বাংলাদেশ ব্যাংক। 

প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভূমিকা

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসি প্রতি মাসে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে যারা গ্রাহক রয়েছেন তাদের সচেতনতামূলক এসএমএস পাঠাই। অপরদিকে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ফিশিং ওয়েবসাইট ব্লক করতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টি ডোমেইন নিষিদ্ধ করে তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ অক্টোপাস সাইবার ক্রাইম কমিউনিটি - কাউন্সিল অফ ইউরোপ। 

শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ

জাতীয় শিক্ষা ক্রমে ডিজিটাল লিটারেসি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে আপনি দেখতে পাবেন ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তার যে বেসিক নিয়ম-কানুন রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে শেখানো হয়। এছাড়া যারা সরকারি কর্মজীবী রয়েছে তাদের জন্য ই লার্নিং প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে সেখানে সাইবার হুমকি করনের ভিডিও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। তথ্যসূত্রঃ government official training bd।

প্রযুক্তিগত সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন

আপনার বাড়ির ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে WPA3 এনক্রিপশন চালু রাখার পাশাপাশি রাউটারের ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। অফিসিয়াল কাজে আপনি vpn ব্যবহার করবেন কারন এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারি গাইড লাইনে। তথ্যসূত্রঃ ড্রাফট সাইবার সিকিউরিটি ACT ২০২৩ এবং গাইডলাইন অন আইসিটি সিকিউরিটি বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয়

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন যত বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষ তত বেশি সাইবার হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ডেটা চুরি হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে উপমহল পর্যন্ত। এ পরিস্থিতিতে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সমষ্টিগত সচেতনতাই পারে সাইবার ঝুঁকি কমিয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে। চলুন, আমরা সরকারে নীতিমালা, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে কিছু পদক্ষেপ উপস্থাপন করব।

আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩ এর মাধ্যমে সরকার ডিজিটাল অপরাধের সংজ্ঞা এবং শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গঠন করেছেন। এই আইনের সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা বিধান রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জাতীয় ডেটা সেন্টারে এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০ টি ভুয়া ওয়েবসাইট ব্লক করা হচ্ছে। তবে আমার মতে আইনের প্রয়োগে দক্ষতা বাড়াতে সাইবার ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের আধুনিকরণ প্রয়োজন। তথ্যসূত্রঃ সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩, সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাসিটি রিভিউ - পোর্টাল গভর্মেন্ট এবং বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম। 

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে

বাংলাদেশই গভর্নমেন্ট সি আই আর টি - BGD e-GOV CIRT - সাইবার হামলা প্রতিরোধে ২৪/৭ মনিটরিং সেন্টার পরিচালনা করে থাকেন। তাছাড়া তারা সাম্প্রতিক ফিসিং প্রতিরোধ ক্যাম্পেন চালু করেছে যেখানে প্রতিমাসে ১০০ প্লাস সরকারি ওয়েবসাইটের ভুল নীতি সনাক্ত করে সংশোধন করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থের স্বল্পতার কারণে অনেক মন্ত্রণালয় এখন শুধু পাসওয়ার্ড প্রটেকশন ও অ্যান্টিভাইরাস এর উপর নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরো স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশই গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট এবং সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাসিটি review - পোর্টাল গভমেন্ট। 

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভ এন্টিভাইরাস সরকারের সাথে যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটি সাধারণ মানুষ এর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করে থাকে। এখানে প্রায় ৫০০ প্লাস উদ্যোক্তাকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। টেলিকম অপারেটরদের মাধ্যমে বিটিআরসি মাসে গড়ে ২০ লক্ষ ব্যবহারকারীর মোবাইলে সচেতনামূলক এসএমএস পাঠায় তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো এবং অন্যান্য ওয়েবসাইট।

নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া

বর্তমানে সকল সরকারি ওয়েবসাইটে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এ WPA3 এনক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ডেটা সেন্টারে রিয়েল টাইম ভালনারেবিলিটি স্ক্যানিং - মানে হল এমন এক ধরনের প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক অথবা সফটওয়্যারে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা সনাক্ত করা হয় - সিস্টেম চালু হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ১০০০ প্লাস সাইবার ইভেন্ট মনিটর করতে পারে। ব্যক্তিগত

পর্যায়ে vpn ব্যবহারের হার গত দুই বছরে ৩০০% বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমানে অনেক বড় সংস্থা অথবা প্রতিষ্ঠান তাদের কম্পিউটার বা সার্ভারে পুরো ডেটা এনক্রিপ্ট করতে যাচ্ছে না। বিশেষভাবে ৬৮% প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা পুরোপুরি এনক্রিপ্ট করে না অর্থাৎ তাদের ডেটা সুরক্ষিত নয়। তথ্যসূত্রঃ সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাসিটি রিভিউ পোর্টাল গভমেন্ট। 

শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন

জাতীয় শিক্ষা ক্রমে ষষ্ঠ থেকে সাইবার হাইজিন - মানে হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান তাদের ডিভাইস, সফটওয়্যার, একাউন্ট অথবা নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে - বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই লার্নিং প্লাটফর্মে ৫০০ প্লাস ভিডিও টিউটোরিয়াল আপলোড করা হয়েছে এবং সেখানে ফিশিং ইমেইল সনাক্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কৌশল শেখানো হয়। সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের ঘাটতি এখনো ৮৫% যা পূরণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

ইমারজেন্সি রেসপন্স ব্যবস্থা

কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম কোন সাইবার আক্রমণ সনাক্ত হলে ৯০ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানায়। এছাড়া তারা সাইবার ফায়ার ড্রিল চালু করেছে যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে একবার হ্যাকিং শিমুলেশন ট্রেনিং করে। যারা সাধারণ নাগরিক রয়েছে তাদের জন্য হট লাইনঃ ০১৩২০-০০০৮৮৮ চালু রয়েছে যেখানে গত বছরে ১২০০০ প্লাস অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তথ্যসূত্র বাংলাদেশই গভার্নমেন্ট কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট এবং বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম। 

সাইবার অপরাধের বৈশিষ্ট্য এবং সাইবার ক্রাইম আইন বাংলাদেশ 

বর্তমান যুগের সাইবার অপরাধ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেটের প্রসার এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণার মত অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনারা সাইবার অপরাধের বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রকারভেদ ও বাংলাদেশে বিদ্যমান সাইবার ক্রাইম আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাবেন। 

সাইবার অপরাধের বৈশিষ্ট্য

সাইবার অপরাধ সাধারণ তো অন্যান্য অপরাধের থেকে কিছু দিক দিয়ে আলাদা। চলন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

  1. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নেইঃ সাইবার অপরাধ যে কোন স্থানে বসে করা যেতে পারে। একজন হ্যাকার দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের যেকোন প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তির ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। তথ্যসূত্রঃ সাইবার ক্রাইম LAW ইন বাংলাদেশ এবং অক্টোপাস সাইবার ক্রাইম কমিউনিটি
  2. প্রমাণ সংরক্ষণ এবং শনাক্তকরণ কঠিনঃ যেহেতু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগ সেক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ সহজেই মুছে ফেলা অথবা পরিবর্তন করা তেমন একটি কঠিন কাজ না।অপরাধীরা প্রায় ছদ্মবেশে কাজ করে যা তাদের সনাক্তকরণ কঠিন করে তোলে।তথ্যসূত্রঃ অক্টোপাস সাইবার ক্রাইম কমিউনিটি এবং ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস অফ দা স্কেলেটিং সাইবার ক্রাইম। 
  3. উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভরতাঃ সাধারণত একজন সাইবার অপরাধী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।এটির সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিপদজনক এবং প্রতিরোধ করা কঠিন। তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার এবং ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস অফ দা স্কেলেটিং সাইবার ক্রাইম। 
  4. সামাজিক প্রকৌশল এবং কৌশলঃ সামাজিক প্রকৌশল ব্যবহার করে অপরাধীরা সাধারণত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেই। সেজন্য আপনারা সতর্ক থাকবেন ভুল করেও অপরিচিত কোন ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগত কোন তথ্য শেয়ার করবেন না। এটি ফিশিং আক্রমণের একটি সাধারণ পদ্ধতি। তথ্য সূত্রঃ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাকিং টপস ইন বাংলাদেশ এবং এনালাইসিস অফ দা স্কেলেটিং সাইবার ক্রাইম।
  5. বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিঃ সাইবার অপরাধ সংগঠিত হওয়ার ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয় বিষয়টা কিন্তু এমন না, বরং মানসিক চাপ, সামাজিক সম্মানহানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তথ্যসূত্রঃ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাকিং টপস ইন বাংলাদেশ এবং এনালাইসিস অফ দা স্কেলেটিং সাইবার ক্রাইম।

সাইবার অপরাধের প্রকারভেদ

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যেমনঃ ১. ব্যক্তিগত অপরাধ ২. প্রতিষ্ঠান অথবা সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ ৩. সরকারি অথবা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ। 

ব্যক্তিগত অপরাধ গুলো হলো


  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাকিং।
  • ফিশিং আক্রমণ।
  • পরিচয় চুরি এবং অনলাইনে হয়রানি অথবা ব্ল্যাকমেইল।

প্রতিষ্ঠান অথবা সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ


  • হ্যাকিং এবং ডেটা চুরি।
  • ম্যালওয়্যার অথবা ভাইরাস ছড়ানো।
  • অনলাইন পেমেন্ট জালিয়াতি।
  • সফটওয়্যার পাইরেসি।

সরকার ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ


  • সাইবার গুপ্তচর বৃত্তি।
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অথবা অন্যান্য বিষয়ের উপর আক্রমণ।
  • সাইবার সন্ত্রাসবাদ।

বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইম আইন

বাংলাদেশ সরকার সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করেছে। চলুন নিচে উল্লেখযোগ্য আইনগুলো দেখে নেওয়া যাক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন

২০০৬ সালে এ আইনের সাইবার অপরাধের কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা তুলে ধরা হলো।

ধারা ৫৪ঃ কম্পিউটার ব্যবস্থায় কোন মুদিত প্রবেশের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা।

ধারা ৫৭ঃ ইন্টারনেটে অপমানজনক তথ্য প্রকাশের জন্য আপনার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা লাগতে পারে। 

তথ্যসূত্রঃ সাইবার ক্রাইম LAW ইন বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

এই আইনটি সাধারণত আইসিটি আইনের কিছু ধারা বিলুপ্ত করে নতুনভাবে প্রণীত হয়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারা দেখে নিন।

ধারা ১৮ঃ বেআইনি প্রবেশ অথবা সহায়তার জন্য আপনার সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।

ধারা ২১ঃ মুক্তিযুদ্ধ অথবা জাতীয় প্রতীক নিয়ে অপপ্রচার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা হতে পারে।

ধারা ৩২ঃ সরকারি গোপন তথ্য আপনি যদি প্রকাশ করেন তাহলে আপনার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। 

তথ্যসূত্রঃ সাইবার ক্রাইম LAW ইন বাংলাদেশ

সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩

ডিজিটাল সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে নতুনভাবে এই আইন চালু করা হয়। এতে কিছু বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র কম্পিউটার ভিত্তিক অপরাধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ

বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলুন, কিছু প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

বাংলাদেশই গভর্নমেন্ট CIRT: এ সংস্থা সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে সাইবার আক্রমণ মোকাবিলা এবং কিভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি NCSA: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষার কাজ করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে।

বিশেষ পুলিশ ইউনিটঃ বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে যা তদন্ত ও ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

তথ্যসূত্রঃ সাইবার ক্রাইম LAW ইন বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্রচলিত ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম

সাইবার অপরাধ এই নামটি হয়তো আপনি কম বেশি শুনে থাকবেন। ২০২৫ সালে এসে যদি আপনি সাইবার অপরাধ সম্পর্কে না জানেন তাহলে আপনাকে সেই বিষয়ে একবার ভাবা উচিত। কারণ সেই সম্পর্কে যদি আপনি সচেতন না হোন তাহলে না জানার কারণে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সাইবার অপরাধ একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ধরনের সাইবার অপরাধ। 

যেখানে হ্যাকিং থেকে শুরু করে অনলাইন প্রতারণা এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল হয়রানি মানুষের জীবনকে অস্থির করে তুলছে। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা যায় আমাদের দেশে সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট হ্যাকিং এর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ২১.৬৫% এবং ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর শিকার হওয়ার হার ৭৮.৭৮%। এদের মধ্যে অধিকাংশ হলেন নারী যার পরিমাণ ৫৯%। এক নজরে, ১০ টি সাইবার অপরাধের তালিকা দেখে নিন।

  1. ফিশিংঃ এটি এমন এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে অপরাধীরা ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করার জন্য ভুয়া ইমেজ অথবা বার্তা পাঠায়। সেজন্য আপনি সতর্ক থাকবেন।
  2. আইডেন্টিটি থেফটঃ এটি এমন এক ধরনের সাইবার অপরাধ যেখানে অপরাধীরা অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য যেমনঃ লেনদেনে তথ্য অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে এবং অন্যান্য জালিয়াতি করে। 
  3. র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণঃ এটি হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অনুপ্রবেশ করে ব্যবহারকারীদের ফাইল এনক্রিপ্ট করে এবং আপনার কাছ থেকে মুক্তিপণ না নেওয়া পর্যন্ত অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। 
  4. হ্যাকিংঃ এটি হল আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার অথবা নেটওয়ার্কে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ এবং এর অপব্যবহার যেমনঃ সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে সংরক্ষিত তথ্যের সাথে ছেড়ছাড় কড়া এবং অন্যান্য অবৈধ কাজের ব্যবহার করা হয়।
  5. সাইবার হয়রানিঃ এটি হলো এমন এক ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমে যা অপরাধীরা ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিকে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। 
  6. আর্থিক প্রতারণাঃ ডিজিটাল অথবা ইলেকট্রনিক মাধ্যমের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা বাংলাদেশের দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে সাইবার অপরাধীরা আপনার অনলাইন ব্যাংকিং অথবা পেমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে আর্থিক প্রতারণা করে যেমনঃ টাকা চুরি করা অথবা অর্থ লেনদেনের জালিয়াতি করা ইত্যাদি।
  7. ম্যালওয়্যার আক্রমণঃ এটি এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা আপনার কম্পিউটারের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে ক্ষতিসাধন করে। এটি ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স, স্পাইওয়্যার, অ্যাডওয়্যার, এবং রুটকিট আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  8. ডিডিওএস আক্রমণঃ এটি একটি সাইবার আক্রমণ পদ্ধতি যা একটি ওয়েবসাইট বা সার্ভারের ওপরে অতিরিক্ত ট্রাফিক বা অনুরোধ পাঠিয়ে সেগুলোকে আঁচল করে দেয়।
  9. পাইরেসিঃ পাইরেসি হল সফটওয়্যার, মিউজিক, মুভি অথবা ছবি তাদের কপিরাইট লংঘন করে অবৈধভাবে সেগুলো ব্যবহার করা অথবা কপি করা। 
  10. সাইবার সন্ত্রাসঃ সাইবার অপরাধ অথবা সন্ত্রাস হলো প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্যে ভয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পরিচালনা করা হয়।
বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমি জানতে পারি, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর সাইবার আক্রমণ ১৩.৬৫%। এছাড়া নতুন ধরনের সাইবার অপরাধ ২০২৩ সালে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এখন মোট অপরাধ ১১.৮৫%। এছাড়া পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত সাইবার অপরাধ ও দিন দিন বেড়ে চলেছে ভুক্তভোগীদের ১১.৩৫% কে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া জানতে পারে মাত্র ১২% ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা চান এবং তাদের মধ্যে ৮৭.৫% কোনো ফলাফল পাননি। সাইবার অপরাধের যারা শিকার হয়েছেন সামাজিক ক্ষতি হয়েছে ৪৭.৭২% এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪০.১৫%।

সাইবার অপরাধের শাস্তি কি এবং সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন

সাইবার অপরাধে মোকাবিলায় সরকার কঠোর শাস্তি মূলক আইন জারি করেছেন। সাইবার অপরাধে ধরন অনুযায়ী শাস্তি ও ততটা কঠোর হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে কেউ যদি কারো মানহানি করে সেক্ষেত্রে কারাদণ্ড বাতিল করে শুধু জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে অপরদিকে হ্যাকিংয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধের আইনি কাঠামো

আইসিটি আইন ২০০৬। এই আইনে প্রথমবারের মতো সাইবার অপরাধের সংজ্ঞা এবং এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়। ধারা ৫৬ অনুযায়ী কেউ যদি হ্যাকিং করে তাহলে তার শাস্তি ৩ বছর থেকে ১০ বছর জেল খাটতে হবে অথবা দুই লাখ টাকা জরিমান। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮

এ আইনের ধারা ছিল ২৫, সেখানে অনলাইনে কেউ যদি কারো মানহানি করে অথবা মানহানি কর তথ্য প্রকাশ করে তাহলে তার শাস্তি ছিল ৩ বছর কারাদণ্ড। কিন্তু ২০২৩ সালে সেটি সংশোধনী হয় এবং কারাদণ্ড বাতিল করে 25 লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা চালু করা হয়। অপরদিকে সরকারি গোপনীয়তা কেউ যদি ভঙ্গ করে তাহলে তার শাস্তি ১৪ বছর থেকে কমিয়ে ৭ বছর করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩

এখানে আমরা দেখতে পাই সাইবার সন্ত্রাসের সংজ্ঞা পরিষ্কার করা হয়েছে। ধারা ৩২ অনুযায়ী কেউ যদি হ্যাকিং করে তাহলে তার ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা বিধান রাখা হয়েছে। 

প্রধান সাইবার অপরাধ ও শাস্তির মাত্রা


  • আপনি যদি ডিজিটাল তথ্য ভান্ডারেই বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন তাহলে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা লাগবে।
  • তথ্য ধ্বংস অথবা পরিবর্তন করলে আপনার ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা লাগবে।
  • দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে আপনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ৫ কোটি টাকা জরিমানা লাগতে পারে।

আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি


  • আপনি যদি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে জালিয়াতি করেন তাহলে ৬ মাস থেকে ৩ বছর কারাদণ্ড প্লাস ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
  • ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং করলে আপনার ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা লাগতে পারে।
  • সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকিং করলে আপনার ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
  • সাইবার স্পেসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালে আপনার যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
  • ইলেকট্রনিক মাধ্যমে হুমকি প্রদান করলে আপনার ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা লাগতে পারে।
  • মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা রাখতে পারে।

শাস্তির ধরন এবং প্রয়োগ পদ্ধতি


  • সাধারণ সাইবার অপরাধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার সম্ভব।
  • হ্যাকিং অথবা সাইবার সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে আপনার জামিন গ্রহণযোগ্য হবে না মানে নন বেইল যোগ্য।
  • জরিমানা পরিষদে ব্যর্থ হলে আপনার ৩-৬ মাস জেল খাটতে হতে পারে।
  • অপরাধের জন্য যে অর্থদণ্ড বা জরিমানা নির্ধারণ করা হয় সেই অর্থ অপরাধের শিকার যিনি হয়েছেন তাকে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রদান করতে হবে।
  • প্রতিটি জেলায় সাইবার ট্রাইবুনাল গঠনের পরিকল্পনা।
  • মামলায় নিষ্পত্তির সময়কাল ১৮০ কার্যদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ আইন এবং চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিষয় বিস্তারিত
স্বাধীনতা বনাম নিরাপত্তা আপনি হয়তো কখনো ভাবতে পারেন স্বাধীনতা আর নিরাপত্তা এই দুইটা কীভাবে একসঙ্গে চলতে পারে? স্বাধীনতার সীমা কখনো কখনো নিরাপত্তার জন্য সংকুচিত হয় কিন্তু কীভাবে? এই প্রশ্ন আমাদের সবার মনে আছেই আইনে যখন এদিক-ওদিক প্রশ্ন উঠে তখন মানুষের চিন্তা অনেক গভীর হয়ে যায়।
সাংবাদিকদের জন্য ধারা ৪৩ বাতিল মনে করুন আপনি একজন সাংবাদিক আপনার কাজ হল সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া কিন্তু হঠাৎ একটা বিধান বাতিল হয়ে যায় যা আপনার কাজকেই সীমাবদ্ধ করে দেয়। ধারা ৪৩ এখন আর নেই এর মানে সংবাদমাধ্যমের কাজ আগের মতো স্বাধীন থাকবে না। ভাবুন তো এটা কি ভালো না খারাপ?
"ডিজিটাল অপরাধ" এর অস্পষ্ট সংজ্ঞা আজকাল যখন ডিজিটাল অপরাধের কথা আসে তখন আমাদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে এর আসল সংজ্ঞা কী? আইনবিদরা বলছেন প্রযুক্তির গতি এত দ্রুত যে আইন সেই অনুযায়ী ঠিকঠাক চলতে পারে না। ডিজিটাল অপরাধের সীমানা এতটাই মিশে গিয়েছে যে আমরা কখনো বুঝতেই পারি না আসলেই অপরাধ কী?
শাস্তির সমতা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ হ্যাকিং আর সাইবার সন্ত্রাস যদি একে অপরকে তুলনা করে দেখা হয় তাহলে কি শাস্তির মধ্যে সমতা রাখা যায়? একদিকে আমরা দেখছি সাধারণ হ্যাকিংয়ের শাস্তি অন্যদিকে সাইবার সন্ত্রাসের শাস্তি অনেক বেশি। কিন্তু কেন? একই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি কেন এত ভিন্ন?
আর্থিক জালিয়াতির শাস্তি কম হওয়া আপনি যখন শুনবেন যে আর্থিক জালিয়াতির শাস্তি তুলনামূলক কম তখন কি আপনার মনে হবে এটা কি ন্যায়বিচার? সাধারণত যাদের বড় বড় অর্থনৈতিক অপরাধ থাকে তাদের শাস্তি অনেক কম দেওয়া হয় কিন্তু কেন? বিষয়টি আসলেই প্রশ্নবিদ্ধ।
আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি যখন পরিবর্তিত হয় তখন সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রমাণ সংগ্রহে সমস্যা আসা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের স্বল্পতা এইসব বিষয়গুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা আপনি কি কখনো ভেবেছেন সাইবার অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ কতটা কঠিন। আইটি বা কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন এমন কেউ যদি বলতো এই প্রমাণটি ঠিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব নয় আপনি কি বিশ্বাস করতেন? কিন্তু বাস্তবে এমনই হয়।
ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের স্বল্পতা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের অভাব এতটাই প্রকট যে প্রতিটি মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত চালানো খুবই কঠিন। এমনকি অনেক সময় প্রযুক্তির উন্নতি ও ল্যাবের দক্ষতা কম থাকায় অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যায়।
ক্রস-বর্ডার অপরাধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাব ক্রস-বর্ডার অপরাধ কখনো কখনো এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাবের কারণে এই অপরাধগুলোর মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জনসচেতনতার অভাব সাইবার অপরাধ নিয়ে সচেতনতা কতটা প্রয়োজন? বেশিরভাগ মানুষ জানে না কিভাবে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে আমরা প্রতিদিন সাইবার হামলার শিকার হতে পারি।
৮৭.৫% মামলায় ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পান না এটি এক কঠিন বাস্তবতা—৮৭.৫% সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা কোনো প্রতিকার পান না। এভাবে বিচার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের আরও হতাশ করে তোলে।
সাইবার সচেতনতা প্রশিক্ষণের অভাব সাইবার সচেতনতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন ধারণা নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকলে কিভাবে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি? এরই ফলে সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়া আমাদের জন্য সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন অনেক উন্নয়ন হচ্ছে বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। নিরাপদ ইন্টারনেট জোন তৈরি এবং এআই ভিত্তিক সাইবার থ্রেট ডিটেকশন সিস্টেম চালু হওয়া এসবই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো।
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রযুক্তি তো একদিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা জানি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর ব্যবহার কতটা জরুরি।
নিরাপদ ইন্টারনেট জোন প্রতিষ্ঠার প্রকল্প সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন নিরাপদ ইন্টারনেট জোন তৈরি করার প্রকল্প চলছে। এই উদ্যোগ সাইবার অপরাধের হার কমাতে সাহায্য করবে।
এআই ভিত্তিক সাইবার থ্রেট ডিটেকশন সিস্টেম চালু এখন এআই প্রযুক্তি দিয়ে সাইবার হুমকি সনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইন্টারপোলসহ আরও কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সাথে কাজ করছে যার মাধ্যমে সাইবার অপরাধের তদন্ত আরও দ্রুত হবে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সক্ষমতা বৃদ্ধি সাইবার অপরাধের তদন্তকারী টিমের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা আরো দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে।

ব্যক্তিগত মতামতঃ সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় ১০ টি কাজ সম্পর্কে আশা করি আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। সাইবার অপরাধ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে সেই সাথে সাইবার অপরাধগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। সাইবার অপরাধগুলো অনেক সময় সংঘটিত হয় আপনার দোষের কারণে। একটি ভুল পদক্ষেপের জন্য অনেকেই সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে। আজকের মত এখানে শেষ করছি ইনশাল্লাহ পরবর্তী কোন আর্টিকেলে আবার কথা হবে সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই দোয়া করি এবং আর্টিকেলটি শেয়ারের মাধ্যমে আপনার আশেপাশের মানুষদের সতর্ক করে দিন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url