শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায় - বিশেষজ্ঞদের ১০টি পরামর্শ

শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেন না। এখন কথা হচ্ছে শ্যামলা ত্বক আসলেই কি ফর্সা করা সম্ভব। সেটি জানতে হলে আপনাকে পুরো আর্টিকেলের সাথেই থাকতে হবে। আমি আপনাদের জন্য কিছু রিসার্চ এবং গবেষণা নিয়ে এসেছি, হতে পারে এগুলো আপনার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। 

শ্যামলা-ত্বক-ফর্সা-করার-উপায়


এছাড়া আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হওয়ার উপায় ও স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে হলে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায়

শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায়

শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায় কি হতে পারে আপনি কি জানেন? বর্তমানে প্রত্যেক মানুষই চাই তার নিজের ত্বক একটু ফর্সা এবং উজ্জ্বল হোক। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি শ্যামলা ত্বক ফর্সা হওয়া সম্ভব। আপনি অনেক সময় ৩ দিনে ফর্সা হওয়ার উপায় অথবা ১ রাতে ফর্সা হওয়ার উপায় এ ধরনের কথা গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় অহরহ দেখতে পাবেন। কিন্তু আসলেই কি ৩ দিনে ফর্সা অথবা ১ রাতে ফর্সা হওয়া সম্ভব। ত্বক ফর্সা করার নিরাপদ এবং কার্যকর উপায় সম্পর্কে যদি আপনি না জানেন তাহলে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চলুন, কিছু রিসার্চ এবং গবেষণা দেখে নেওয়া যাক।

একটু কষ্ট করে পড়ুন

শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কে সবার প্রথমে আমি কিছু গবেষণা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। গবেষণাগুলো আমি এজন্য উল্লেখ করেছি যেন আপনারা ত্বকে কোন কিছু ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকতে পারেন এবং কিছু বিখ্যাত রিসার্চ ভিত্তিক ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট থেকে ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। 

প্রথম গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী তথ্য

প্রকাশনা Skin Lightening/Bleaching এবং লেখক হলেন Susan Levine, C. Powell, L. Davids, Meagan Jacobs। গবেষণা থেকে আমি জানতে পারি, হাইড্রোকুইনন এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ত্বক ফর্সা করার জন্য সাধারণত ব্যবহার করা হয়। তবে আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে আপনার ত্বকে এটি ব্যবহার করেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা হল আপনার ত্বক অন্ধকার হয়ে যাওয়া যার মানে দাঁড়ায়, আপনার ত্বকে অস্বাভাবিক ডার্ক অথবা তামাটে ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া আপনার ত্বকে স্কিন অ্যাসিডিটি দেখা দিতে পারে, যার মানে হল আপনার ত্বকে এসিডের প্রভাব বাড়িয়ে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমনঃ মেলাজমা, র‍্যাশ অথবা ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। 

দ্বিতীয় গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য আমাদেরকে কি বলে

লেখক L. Davids, J. C. Van Wyk, N. Khumalo এবং প্রকাশনা হল Intravenous Glutathione for Skin Lightening: Inadequate Safety Data। গ্লুটাথায়ন এটি এমন একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সাধারণত ত্বক ফর্সা করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্লুটাথায়ন আপনার ত্বক ফর্সা করার জন্য উপকারী হতে পারে তবে এর কিছু দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রয়েছে।

তবে আপনাকে বলে রাখি এই দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কিন্তু সীমিত যা গবেষণা থেকে জানতে পারি। এছাড়া ইনট্রাভেনাস (IV) গ্লুটাথায়ন এমন একটি চিকিৎসা উপাদান যা আপনার শিরায় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আপনাকে ব্যবহারের আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে কারণ এটির ক্ষতিকর প্রভাব আপনার ত্বকের রং পরিবর্তন এবং অন্যান্য যাবতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয় গবেষণা আলফা আরবুটিন এটি আসলে কি

লেখক Nikhil Chandorkar, S. Tambe, P. Amin, C. Madankar এবং প্রকাশনা Alpha Arbutin as a Skin Lightening Agent: A Review। আলফা আরবুটিন এটি এমন একটি উপাদান যা একজন মানুষের ত্বক ফর্সা করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া আরেকটি উপাদান যেমন হাইড্রোকুইন, এটিও মূলত ত্বক ফর্সা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে দুইটি উপাদানের মধ্যে আলফা আরবুটিন আপনার ত্বকের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর এবং নিরাপদ। এটি আপনার ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমায়।

চতুর্থ গবেষণা প্রাকৃতিক উদ্ভিদ উপাদান

এটির লেখক হচ্ছেন M. Lüder এবং এটির প্রকাশনা The Olive - A Natural Supplier of Active Ingredients for Skin Lightening and Age Spot Reduction। প্রাকৃতিক উদ্ভিদ যেমনঃ জলপাই গাছ, লাইকরিস, বাদামী সীউইড ইত্যাদি উপাদান আপনার ত্বক ফর্সা করতে সহায়ক হতে পারে। জলপাই এর নির্যাস(পাতা, ফল, বা তেলের থেকে প্রাপ্ত) থেকে আপনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাবেন। এছাড়া এটি আপনার মেলানিন উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। এতে করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। 

পঞ্চম গবেষণা থেকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী

লেখক হচ্ছেন Aarushi Gulati, Stephanie Jackson, Andrew Igbokwe, Tsz Chun Chung, James Keane, Leonard B. Goldstein এবং প্রকাশনা The Rationale for Skin Lightening Treatments, Along with Their Cultural Implications and Consequences। সানস্ক্রিম সম্পর্কে হয়তো আপনি কম বেশি অবগত আছেন। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বক ফর্সা হওয়ার ক্ষেত্রে

প্রাথমিক এবং নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে কাজ করতে পারে। সানস্ক্রিম আপনার ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এই সানস্ক্রিম সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষার পাশাপাশি আপনার ত্বক কালো হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।

ষষ্ঠ গবেষণা অনুযায়ী যা জানতে পারি

লেখক হচ্ছেন Diani Mega Sari, E. Anwar, Nurjanah, Ayun Erwina Arifianti এবং প্রকাশনা হচ্ছে Antioxidant and Tyrosinase Inhibitor Activities of Ethanol Extracts of Brown Seaweed (Turbinaria conoides) as Lightening Ingredient। সীউইড মানে হচ্ছে (সমুদ্রের উদ্ভিদ অথবা শৈবাল) এর মধ্যে কিছু নির্যাস শুরু হয়েছে যেমনঃ Turbinaria conoides এটি আপনার ত্বক ফর্সা করার জন্য কার্যকরী হতে পারে। আপনার ত্বকে মেলানিন উৎপাদন কমাতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হওয়ার উপায়

আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হতে চান তাহলে আমার মতে এটি খুব সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত। কারণ বর্তমানে বাজারে এমন অনেক ধরনের ক্রিম পাওয়া যায় যা সমসাময়িক আপনার ত্বক ফর্সা করতে সক্ষম কিন্তু এর কিছু খারাপ দিক রয়েছে। সমসাময়িক ফল লাভের আশায় আপনি ব্যবহার করবেন না, তাহলে এর ক্ষতি আপনাকে সারাজীবন ভোগ করে যেতে হবে। তাহলে চলুন, কিভাবে আপনি প্রাকৃতিক ভাবে ফর্সা হবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

প্রথম উপাদান অ্যাপেল সিডার ভিনেগার

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আপনার ত্বকে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের দাগ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের অতিরিক্ত রঙের পরিবর্তন, দাগ, অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন ইত্যাদি কমাতেও সাহায্য করে। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যাসিড যা আপনার ত্বকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি তৈরি করার জন্য আপনি আপেল সিডার ভিনেগার এবং পানি সমান পরিমাণে মিশিয়ে প্রত্যেক দিন ২-৩ মিনিটের জন্য আপনার ত্বকে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তথ্যসূত্রঃ Healthline - Home Remedies for Pigmentation: How to Remove Dark Spots

দ্বিতীয় উপাদান অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে কারণ এতে অবস্থিত অ্যালোইন নামক উপাদান আপনার ত্বকের অতিরিক্ত দাগ, সানস্পট, তামাটে ভাব ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা আপনি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান। আপনি প্রতি রাতে অ্যালোভেরা জেল আপনার ত্বকে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ Healthline - Home Remedies for Pigmentation: How to Remove Dark Spots

তৃতীয় উপাদান লাল পেঁয়াজ

লাল পেঁয়াজের ভেতরে অবস্থিত কার্যকরী উপাদান অথবা পুষ্টি উপাদান গুলো বের করে তৈরি করা তেল আপানার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকরী হতে পারে। কারণ এতে অবস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্রঃ Healthline - Home Remedies for Pigmentation: How to Remove Dark Spots

চতুর্থ উপাদান গ্রিন টি

গ্রিন টি আপনার ত্বকে অবস্থিত যাবতীয় সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অবস্থিত ক্যটেচিন নামক উপাদান আপনার ত্বকের দাগ, সানস্পট, তামাটে ভাব ইত্যাদি সহ আরো যাবতীয় সমস্যা কমাতে সহায়ক। আপনার ত্বকের দাঁত কমানোর জন্য গ্রিন টি ব্যাগ চাইলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ Healthline - Home Remedies for Pigmentation: How to Remove Dark Spots

পঞ্চম উপাদান দুধ

দুধের মধ্যে অবস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড আপনার ত্বকের অন্ধকার দাগ মানে হচ্ছে ত্বকের ভেতরে যে সমস্যাগুলো অনুভব করে তা কমাতে সাহায্য করে। আপনি দুধ অথবা মিষ্টি দুধের সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ Cleveland Clinic - Hyperpigmentation: What it is, Causes, & Treatment

ষষ্ঠ উপাদান টমেটো পেস্ট

টমেটো পেস্টে সাধারণত লাইকোপের নামক উপাদান থাকে যা আপনার ত্বককে বিভিন্ন ক্ষতিকারক জিনিসের হাত থেকে সুরক্ষা দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করার জন্য আমার মতে প্রাকৃতিক উপায় হতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ Healthline - Home Remedies for Pigmentation: How to Remove Dark Spots

সপ্তম উপাদান হাইপার গিগমেন্টেশন

এটি হলো এক ধরনের ত্বকের সমস্যা যেখানে আপনার ত্বক অতি কালো হয়ে যায়, এবং এই কালো দাগগুলি আপনার বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন হরমোনাল পরিবর্তন,মেলাজমা, চামড়ায় আঘাত ইত্যাদি। আপনি সঠিক চিকিৎসা এবং সান প্রটেকশন ব্যবহার করলে এটির সমাধান দ্রুত করা সম্ভব।

তথ্যসূত্রঃ  Hyperpigmentation: What it is, Causes, & Treatment

অষ্টম উপাদান ভিটামিন সি

ভিটামিন সি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এটি আপনার ত্বকে অবস্থিত ডার্ক স্পট এবং দাম কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে, এতে করে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হয়। আপনি ভিটামিন সি সিরাম অথবা ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আশা করি ভালো একটি ফলাফল পাবেন।

বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রঃ WebMD , Mayo Clinic, PubMed 

নবম উপাদান লেবুর রস

লেবুর রসের সাধারণত অ্যাসিডিক উপাদান থাকে যা আপনার তো ফর্সা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে আপনি কখনোই সরাসরি লেবুর রস ত্বকে লাগাবেন না এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এতে আপনার ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক এবং সংবেদনশীল করতে পারে। লেবুর রস আপনি মধু, অলিভ অয়েল এবং গোলাপ জল ও দই ইত্যাদির সাথে ব্যবহার করতে পারেন।

বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রঃ WebMD

স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় সঠিকটা জানুন

স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার জন্য আপনারা অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক অথবা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করে থাকেন। কিন্তু আমি আপনাদেরকে প্রশ্ন করছি এটা কি সত্যিই আপনাকে স্থায়ী ফর্সা দিতে সক্ষম। আপনার ত্বক সাধারণত জেনেটিক্স দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই কোন ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে এটি স্থায়ীভাবে বদলানো সম্ভব না খুব কম। তবে আপনি যদি কিছু স্কিন কেয়ার রুটিন এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করেন তাহলে সমসাময়িকভাবে আপনার ত্বক ফর্সা হতে পারে। তাহলে চলুন কিছু রিসার্চ এবং গবেষণা দেখে নেওয়া যাক এ সম্পর্কে।

স্কিন হোয়াইটনিং ট্রিটমেন্ট

বর্তমানে আপনি ত্বক ফর্সা করার জন্য অনেক ধরনের ট্রিটমেন্ট পেয়ে যাবেন। অনেকে দাবী করে এটি আসলেই কাজ করে আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু আশঙ্কা থেকে যায়। বৈজ্ঞানিকভাবে এরকম প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের ত্বকের যে স্বাভাবিক রঙ রয়েছে তা পরিবর্তন করা অসম্ভব। গ্লুটাথিয়ন ইনজেকশন অথবা লেজার ট্রিটমেন্ট দ্বারা আপনার ত্বকের স্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন করা সম্ভব কিন্তু স্থায়ীভাবে যে পরিবর্তন হবে এরকম কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই আপনারা সতর্ক থাকবেন।

তথ্যসূত্রঃ Wikipedia on Skin Whitening

মাইক্রোনিডলিং ও টপিক্যাল গ্রোথ ফ্যাক্টরের মাধ্যমে ত্বক পুনঃজন্ম

মাইক্রোনিডলিং হলো এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যা খুব ছোট ছোট সূচ দ্বারা সূচ আপনার ত্বকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তৈরি করা হয়। এটি করার জন্য এক ধরনের বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এখন মনে প্রশ্ন হতে পারে এটি করলে কি লাভ হবে? এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনার ত্বকের পুননির্মাণের সাহায্য করে। সহজ ভাবে বললে ত্বকের প্রাকৃতিক রি জেনারেশন প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং আপনার ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার ত্বকের যাবতীয় সমস্যা অথবা দাগ দূর করা সম্ভব।

তথ্যসূত্রঃ Facial Skin Rejuvenation through Microneedling Combined with Topical Growth Factors: A Randomized Controlled Study

ধীরে ধীরে ত্বক ফর্সা করার প্রক্রিয়া

লেখক হচ্ছেন Piyaporn Donsing, J. Viyoch এবং প্রকাশনা  Thai Breadfruit's Heartwood Extract: A New Approach to Skin Whitening। এই গবেষণা থেকে জানতে পারি প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ব্যবহারে আপনার ত্বক আস্তে আস্তে ফর্সা হতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদান যেমনঃ পিয়ালিটিক অ্যাসিড এবং গোলাপী কাঠের নির্যাস আপনার ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।

মেলাটোনিন এবং উদ্ভিদের তেল

গবেষক হচ্ছেন  吴娟 (Wu Juan) ও প্রকাশনা Skin Whitening Cream। এখানে আমি যে তথ্যগুলো পাই তা হল মেলাটোনিন মূলত একটি হরমোন যা আমাদের দেহের ঘুম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে। তবে এটি আপনার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। মেলাটোনিনের ব্যবহার আপনার ত্বকের মেলানিন কমাতে সাহায্য করে এবং এতে করে ত্বক ফর্সা হয়। এটি আপনার ত্বকে অবস্থিত মেলানিন কমিয়ে উজ্জ্বল এবং স্বদেশ করতে সাহায্য করে।

আপনি যদি মেলাটোনিন ব্যবহার করতে চান তাহলে মেলাটোনিনযুক্ত ক্রিম অথবা সিরাম খোঁজ করার চেষ্টা করুন। তাছাড়া এই গবেষণায় মেলাটোনিনের সাথে উদ্ভিদের তেল যেমনঃ অলিভ অয়েল অথবা কাস্টর তেল আপনার ত্বকে প্রাকৃতিক উপায়ে শোষিত হয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।

টুরমেরিক এর ব্যবহার

টুরমেরিক হলো এক ধরনের জনপ্রিয় এবং প্রাকৃতিক উপাদান যা চিকিৎসা ও রান্নার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি সাধারণত মসলা যা হলুদ ও রঙের গাছের মূল থেকে উৎপন্ন হয়। এটি সাধারণত দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। এটিতে অবস্থিত কুরকুমিন আপনার মেলানিন উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। আরেক গবেষণায় দেখা যায় কুরকুমিন ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা আনতে সাহায্য করে। তবে আপনি যদি এটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ত্বকের উপর হালকা প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্রঃ Healthline

ব্যক্তিগত মতামতঃ শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায়

শ্যামলা ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কে আশা করি আপনারা মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। আমার মতে আপনি ত্বক ফর্সা করার জন্য প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করুন। ত্বক ফর্সা করার জন্য বাজারে যে সমস্ত ক্রিম পাওয়া যায় সেগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন কারণ এই সমস্ত ক্রিমে অনেক ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে যা আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। ত্বক সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে আপনার ত্বক সমস্ত ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url