শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে - ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া জানুন এখনই

শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে? বিভিন্ন ধরনের রিসার্চ, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। শুটকি মাছে এলার্জি রয়েছে কিনা, এটি খেলে আপনার শরীরের উপর কি রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

শুটকি-মাছে-কি-এলার্জি-আছে

তাছাড়া আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে শুটকি মাছ ছাড়া আরও যে ধরনের মাছগুলো আছে যেমন পাঙ্গাস, ইলিশ, তেলাপিয়া ইত্যাদি মাছে এলার্জি রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে জানাবো। আকর্ষণীয়, চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আজকের আর্টিকেলের সাথেই থাকুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে

শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে

শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে? সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। শুটকি মাছ আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি খাবার। শুটকি মাছ সম্পর্কে হয়তো বা আপনারা কম বেশি জেনে থাকবেন। শুটকি মাছ দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ এবং খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সাধারণত ব্যবহার হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শুটকি মাছ খেলে কি এলার্জি হয়? দেখুন, খাদ্যে এলার্জি এখন একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুটকি মাছে এলার্জি নিয়ে বিভিন্ন রিসার্চ এবং গবেষণা কি বলে দেখে নেওয়া যাক।

গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ

আমরা শুটকি মাছের অ্যালার্জি নিয়ে কথা বলছি। মাছের এলার্জির লক্ষণ এবং ঔষধ আমার মতে অনেকটা একই রকম হতে পারে। সেজন্য আমি চাচ্ছি না সেগুলো বারবার রিপিট করতে যাতে আপনারা বিরক্ত বোধ করেন অথবা বিভ্রান্ত হোন। আর আপনি অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। নিজে থেকে কোন কিছু খাওয়ার অথবা ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না এতে বিপরীত হতে পারে। 

ট্রোপোমায়োসিনঃ শুটকি মাছের প্রধান প্রোটিন হলো Tropomyosin। এটি শেলফিশের মধ্যে থাকে এবং আপনার এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। Tropomyosin প্রোটিন শুটকি মাছের শিরা এবং মাংসের সাধারণত পাওয়া যায়। এই প্রোটিনের প্রভাবে আপনার শরীরে অ্যালার্জি সৃষ্টি হতে পারে। কিছু লক্ষণ দেখে নেওয়া যাক যেমনঃ--

  • আপনার মুখে অথবা গলায় ফোলা ভাব
  • শ্বাসকষ্ট
  • ত্বকে লালচে দানা এবং র‍্যাশ
  • পেটে অস্বস্তি
Margaret, 2015 প্রদত্ত গবেষণা অনুযায়ী, Tropomyosin প্রোটিন আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সহজে সনাক্ত হয় এবং রিঅ্যাকশন সৃষ্টি করে।

ক্রস-রিঅ্যাকটিভিটিঃ শুটকি মাছে সাধারণত যে প্রোটিন পাওয়া যায় তা অন্যান্য মাছের সাথে মিলতে পারে। যারা শুটকি মাছ খেলে এলার্জি অনুভব করেন, তারা অন্যান্য শেলফিশ যেমন ঝিনুক অথবা কাঁকড়া খাওয়ার সময় একই সমস্যা অনুভব করতে পারেন। তথ্য সূত্রঃ লেখকঃ Munera, 2013

হাইস্টামিন এবং এলার্জিঃ শুটকি এক ধরনের উপাদান থাকে যার নাম হাইস্টামিন। এই উপাদানটি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকে তাহলে শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণা থেকে জানতে পারি, শুটকি মাছের মধ্যে হাইস্টামিন উপাদান এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকতে পারে। যদি আপনার শরীরে এই উপাদানটি অধিক পরিমাণে থাকে তাহলে আপনার এলার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। তথ্যসূত্রঃ  American Camp Association (ACA)

শুটকি মাছের মধ্যে ভারী ধাতুঃ  ScienceDirect প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, শুটকি মাছের মধ্যে এক ধরনের ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায় যেটির নাম হচ্ছে Mercury। এগুলো পরিবেশের বিভিন্ন কারণে মাছের মধ্যে সাধারণত জমে যায়। যদি শুটকি মাছের মধ্যে এই ভারী ক্ষতিকর ধাতুর পরিমাণ বেশি পাওয়া যায় তাহলে এটি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। 

শুটকি মাছের ব্যাপারে সতর্কতা

আমি আমার পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, শুটকি মাছ অথবা যে কোন শুকনো মাছ খাওয়ার পূর্বে আপনার যদি অ্যালার্জি নিয়ে কোনরকম সন্দেহ থাকে তবে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। তারা আপনার জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আপনি অনায়াসে কোন সমস্যা থাকলে সেটি থেকে বাঁচতে পারবেন। 

পাঙ্গাস মাছে কি এলার্জি আছে কিভাবে বুঝবেন

পাঙ্গাস মাছ আমাদের কাছে অনেক প্রিয় একটি খাবার, যা আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি মাছ হিসেবে পরিচিত। আমি নিজেও পাঙ্গাস মাছ খেতে খুব ভালোবাসি। পাঙ্গাস মাছ কিছু মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, বিশেষ করে আপনাদের মধ্যে যাদের অ্যালার্জি রয়েছে। অ্যালার্জি সৃষ্টির মূল কারণ হচ্ছে মাছের প্রোটিন, যা আপনার শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পাঙ্গাস মাসে এলার্জি রয়েছে কিনা চলুন সেই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পাঙ্গাস মাছের এলার্জি নিয়ে প্রথম গবেষণা

২০১০ সালের একটি গবেষণা  Monosensitivity to Pangasius and Tilapia Caused by Allergens Other than Parvalbumin যার লেখক হচ্ছেন D. Ebo, A. Kuehn, C. Bridts, C. Hilger, F. Hentges, W. Stevens তার তথ্য অনুযায়ী, পাঙ্গাস মাছের প্রতি কিছু ব্যক্তির এলার্জি হতে পারে। একটি গবেষণায় একজন

রোগীর পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার পর মৌখিক এলার্জি সিনড্রোম দেখা যায় কিন্তু তিনি যখন অন্য মাছ এবং শেলফিশ যেমন ঝিনুক ইত্যাদি খাওয়ার পর কোন সমস্যা হয়নি। গবেষণা থেকে জানতে পারি, এই এলার্জি হওয়ার সম্ভবত কারণ ছিল  18-কিলোডালটন (kDa) এবং 45-kDa প্রোটিন।

পাঙ্গাস মাছের এলার্জি নিয়ে দ্বিতীয় গবেষণা

২০১৪ সালের আরেকটি গবেষণা পত্র যার শিরোনাম ছিল Specific IgE to Fish Extracts Does Not Predict Allergy to Specific Species within an Adult Fish Allergic Population এবং লেখক ছিলেন  K. Schulkes, R. Klemans, Lidy Knigge, M. D. de Bruin-Weller, C. Bruijnzeel-Koomen, Å. Marknell deWitt, J. Lidholm, A. Knulst তার কথা অনুযায়ী, পাঙ্গাস মাছে

এলার্জি সাধারণত ইমিউনোগ্লোবুলিন E (IgE) যার মানে হচ্ছে সহজ ভাষায় (এটি এক ধরনের অ্যান্টিবডি যা আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম তৈরি করে) প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পাঙ্গাস মাছের প্রোটিন আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইমিউন সিস্টেম দ্বারা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং তখন এটি আমাদের শরীরে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

পাঙ্গাস মাছের এলার্জি নিয়ে তৃতীয় গবেষণা

আমি আরেকটি গবেষণাপত্র দেখি যেটি প্রকাশ পায় ২০২০ সালে এবং গবেষণার শিরোনাম ছিল  Development of New White Fish Allergy after Bone Marrow Transplantation from a Non-atopic Donor যার লেখক ছিলেন  Maylene Xie, M. Fajt তার মূল বক্তব্য হলো, পাঙ্গাস মাছের মধ্যে যে এলার্জি রয়েছে তা অন্যান্য মাছের সাথে

ক্রস-রিঅ্যাকটিভিটি (এক ধরনের এলার্জি প্রোটিন যা অন্যান্য এলার্জি প্রোটিনের মত দেখতে হয় অথবা একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়) সৃষ্টি করতে পারে। আমি আপনাকে সহজ ভাষায় বলি তাহলে একজন ব্যক্তি যদি পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার পরে এলার্জি অনুভব করেন, তাহলে অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রেও তার একই ধরনের এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার আগে সতর্ক হোন

  • আগে থেকে আপনার এলার্জি রয়েছে কিনা তা বুঝতে হবে
  • আপনার যদি ছোট শিশু এবং ঘরে বৃদ্ধ কেউ থাকেন তাহলে তাদের জন্য সতর্ক থাকতে হবে
  • প্রথমবার যদি খান তাহলে অল্প করে শুরু করেন
  • খাবার আগে অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করে নিবেন কারণ ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন পদার্থ এতে থাকতে পারে
  • চেষ্টা করবেন বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ উৎস থেকে মাছ কেনার
  • মাছ যদি প্যাকেট জাত হয় তাহলে তার লেভেল ভালো করে পড়ুন
  • সবশেষে বলবো আপনি চিকিৎসকের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত

ইলিশ মাছে কি এলার্জি আছে কেন সতর্ক হওয়া উচিত

ইলিশ মাছ আমাদের বাঙালির জন্য এক আবেগের নাম। ইলিশ মাছের গন্ধ, স্বাদ এবং মাংসের জন্য এটি আমাদের হৃদয়ের জায়গা করে নিয়েছে। আমি এই মাছ খেয়েছি কিন্তু কোনরকম সমস্যা অনুভব করিনি বিশেষ করে অ্যালার্জি জাতীয়। তবে আপনাদের শরীরের জন্য কখনো কখনো এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে তাদের জন্য যাদের শরীর খুব বেশি সংবেদনশীল। কিছু রিসার্চ এবং গবেষণার তথ্য নিয়ে যাচাই করার চেষ্টা করব ইলিশ মাছের এলার্জি রয়েছে কিনা। তাহলে চলুন ধাপে ধাপে বিষয়গুলো দেখে নেওয়া যাক।

সবার প্রথমে দেখুন ইলিশ মাছের এলার্জি লক্ষণ

  • আপনার ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি অথবা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে
  • আপনার ঠোঁট, চোখ অথবা মুখ ফুলে যেতে পারে
  • চুলকানি সৃষ্টি হতে পারে
  • আপনি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন
  • পেটে ব্যথা, বমি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে প্রথম গবেষণা

২০০৫ সালে প্রকাশনা ছিল Indian Journal of Clinical Allergy এবং যার শিরোনাম ছিল Allergic Reactions to Hilsa Fish Proteins in Sensitive Individuals এবং লেখক হলেন, Das, K., et al গবেষণা থেকে যা জানা যায় তা হল ইলিশ মাছ খাওয়ার পর কিছু মানুষের শরীরে এলার্জি দেখা দিতে পারে। ইলিশ মাছের মধ্যে এমন কিছু প্রোটিন থাকে যা আপনার সংবেদনশীল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে এবং এতে করে এলার্জির লক্ষণ দেখা যায়। 

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে দ্বিতীয় গবেষণা

২০০৬ সালের Journal of Allergy and Immunology Research প্রকাশনা যার শিরোনাম ছিল Food Allergy from Tenualosa ilisha (Hilsa): Clinical and Immunological Observations এবং লেখক হলেন Chatterjee, A., Roy, S., & Das, P. গবেষণাপত্র পড়ে আমি যেটি বুঝতে পারি, ইলিশ মাছের পেশিতে কিছু প্রোটিন রয়েছে যেগুলোর কারণে মানুষের মধ্যে এলার্জির সৃষ্টি হতে পারে এবং কিছু মানুষ এই উপাদান গুলোর প্রতি সংবেদনশীল।

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে তৃতীয় গবেষণা

২০১৯ সালের Food Chemistry and Toxicology Journal প্রকাশনা যার শিরোনাম ছিল Nutritional Composition and Allergen Profile of Hilsa (Tenualosa ilisha) in Different Growth Stages এবং লেখক হলেন De, R., et al গবেষণা আমাদের যে তথ্য দেয় তা হলো একটি ইলিশ মাছের বিভিন্ন বয়সে এর প্রোটিন এবং এলার্জির পরিমাণ পরিবর্তন হয়। যে সমস্ত ইলিশ মাছ ছোট রয়েছে তাদের এলার্জির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে চতুর্থ গবেষণা

2022 সালের একটি গবেষণা শিরোনাম Shellfish and Fish Allergies সেখানে যেটি বলা রয়েছে তা হলো আপনি মাছ খাওয়ার পর এলার্জির কি লক্ষণ হতে পারে সেটি সাধারণত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে আপনার ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট এবং পেটের সমস্যা।

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে পঞ্চম গবেষণা

প্রকাশনার বছর ছিল ২০২৪ সাল  Muscle Transcriptome Provides Insights into the Allergen Profile of Habitat-Specific Mature Hilsa shad Tenualosa ilisha যার লেখক ছিলেন Sadia Noor Mou, Afsana Akter Rupa, Md Arko Ayon Chowdhury এবং অন্যান্য সহকর্মীরা এবং প্রকাশনা সংস্থা হল Current Chinese Science. গবেষণায় আমি যে বিষয়টি লক্ষ্য করি যে ইলিশ মাছের মাংসের ২৮ টি পরিচিত এলার্জি সৃষ্টিকারী প্রোটিন পাওয়া গেছে। তার মধ্যে একটি হলো parvalbumin যার মানে যদি আপনাকে সহজ ভাবে বলি এটি একটি মাছের প্রোটিন

যা আপনার শরীরে এলার্জি সৃষ্টি তৈরি করে। তাছাড়া আপনাদের জানার সুবিধার্থে আরো যদি কিছু প্রোটিনের নাম বলি তা হল tropomyosin, filamin C, creatine kinase, aldolase A, G3PD ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা বলেন এই উপাদান গুলো আমাদের শরীরের IgE (ইমিউনোগ্লোবুলিন E - এটি এক ধরনের প্রোটিন যা আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম তৈরি করে) এর সাথে যুক্ত হয়ে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে ষষ্ঠ গবেষণা

২০২৫ সাল, প্রকাশনা সংস্থা হল Indian Journal of Experimental Biology এবং গবেষণা শিরোনাম ছিল Identification of allergens in Indian fishes: hilsa and pomfret exemplified by ELISA and immunoblotting ও লেখক হলেন, Arpita Das, P. Chakraborti, U. Chatterjee, Gautam Mondal. তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পরীক্ষাটি করা হয়েছিল ১০ জন
এলার্জি রোগীর উপর, এবং তাদের প্রত্যেকের রক্তে ইলিশ মাছের প্রোটিনের প্রতি এলার্জির প্রতিক্রিয়া ছিল। এছাড়া আরো যেটি জানতে পারি তা হল যে ইলিশ মাছের প্রোটিন প্রোফাইলে ৫০-kDa কিলোডালটন উচ্চ ওজনের এলার্জি সনাক্ত করা হয়। যদি আপনি মাছ প্রেমি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার শরীরের রিঅ্যাকশন সৃষ্টি হতে পারে

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে সপ্তম গবেষণা

প্রকাশনার বছর ছিল ২০০৬ সাল এবং সংস্থা হল International Archives of Allergy and Immunology ও গবেষণার শিরোনাম ছিল Changes in the Allergenicity during Different Preparations of Pomfret, Hilsa, Bhetki and Mackerel Fish যার লেখক ছিলেন, U. Chatterjee, G. Mondal, P. Chakraborti. গবেষণা থেকে আমি যা বুঝতে পারলাম তা হল কাঁচা ইলিশ মাছে এলার্জির সম্ভাবনা বেশি থাকে কিন্তু আপনি যদি সিদ্ধ অথবা ভাজা ইলিশ করেন তাহলে অ্যালার্জির মাত্রা অনেক খানি কমে যায়।

ইলিশ মাছের এলার্জির চিকিৎসা ও আপনার জন্য করনীয়

  1. আপনি যদি ইলিশ মাছ খেয়ে এলার্জি অনুভব করেন বা আপনার শরীরে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাহলে দেরি না করে একজন এলার্জি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করুন
  2. এলার্জির জন্য সাধারণত চিকিৎসক অ্যান্টিহিস্টামিন নামক ঔষধ দিয়ে থাকেন। আপনি চিকিৎসকের পরামর্শে অবশ্যই ঔষধ নেবেন
  3. এলার্জির আকার যদি গুরুতর হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে গুরুতর ক্ষেত্রে Epinephrine Auto-injector Epipen - এটি হলো এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জেক্টর যা জরুরি অবস্থায় এপিনেফ্রিন নামক একটি ঔষধ শরীরে ইনজেক্ট করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহার হয় প্রাণঘাতী এলার্জি মোকাবেলা করার জন্য

ইলিশ মাছের এলার্জি নিয়ে আমার মতামত

ইলিশ মাছে এলার্জি হবে কিনা বা আপনার শরীরের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা সেটি নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি আজ পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যার মোকাবেলা করিনি। অন্য ক্ষেত্রে এলার্জি অনুভব করেছি কিন্তু মাছের ক্ষেত্রে তেমন একটি অনুভব করিনি। ইলিশ মাছে আপনার এলার্জিক রয়েছে কিনা সেটি যাচাইয়ের জন্য হালকা কিছু খেয়ে দেখুন। যদি সমস্যা অনুভব করেন তাহলে তৎক্ষণাৎ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। 

তেলাপিয়া মাছে কি এলার্জি আছে কিছু সতর্ক নেওয়া উচিত

তেলাপিয়া মাছ স্বাদে এবং গুণের দিক দিয়ে জনপ্রিয় একটি সুপার ফুড হিসেবে আমাদের সকলের কাছে পরিচিত। আমি নিজেও এ মাছ খেতে খুব পছন্দ করি বিশেষ করে ভাজি মাছ। তবে প্রশ্ন আসতে পারে ভাই এই মাছ খেলে কি কোনরকম এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তেলাপিয়া মাছ  খেলে এলার্জি হবে কিনা এটা নির্ভর করবে ব্যক্তির ওপর। তেলাপিয়া মাছের এলার্জি নিয়ে গবেষণা এবং রিসার্চ কি বলে চলুন সে বিষয়গুলো এক নজরে দেখে নেয়া যাক।

গবেষণা শিরোনাম এবং লেখক প্রকাশনার বছর বিস্তারিত বর্ণনা
Tilapia (Oreochromis mossambicus) allergens identified using techniques such as ELISA, SDS-PAGE, 2D gels, Western blotting, and MALDI-TOF mass spectrometry
লেখক: Rong Liu, E. Yang, Chuyi Liu, W. Xue
২০১২ আপনারা যে গবেষণা দেখছেন সেখান থেকে আমি জানতে পারি, তেলাপিয়া মাছের মধ্যে এমন কিছু প্রোটিন রয়েছে যা আপনার শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। প্রোটিন গুলো হলো fructose-bisphosphate aldolase A, enolase 3 (beta muscle) ইত্যাদি। তাছাড়া মাছের এলার্জির প্রধান কারণ হিসেবে যেটি কে শনাক্ত করা হয় তা হলো parvalbumin
Monosensitivity to pangasius and tilapia triggered by allergens distinct from parvalbumin
লেখক: D. Ebo, A. Kuehn, C. Bridts, C. Hilger, F. Hentges, W. Stevens
২০১০ তেলাপিয়া মাছে 18-kDa এবং 45-kDa প্রোটিন থাকার কারণে সাধারণত আপনার মধ্যে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
Are fish tropomyosins allergens?
লেখক: J. González-Fernández, B. Veleiro, A. Daschner, C. Cuéllar
২০১৬ Tropomyosin এটি আরেক ধরনের প্রোটিন যা তেলাপিয়া মাছের মধ্যে উপস্থিত থাকে এবং এটি আপনার শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।

তেলাপিয়া মাছের এলার্জির লক্ষণ

  1. আপনার ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে
  2. মুখ অথবা চোখে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে
  3. শ্বাসকষ্ট সহ বমি এবং পেট খারাপ হতে পারে

সামুদ্রিক মাছে কি এলার্জি আছে রিসার্চ এবং গবেষণা কি বলে

সামুদ্রিক মাছে এলার্জি কথাটা কতটুকু সত্য সেটা জানতে আমাদের অনেকের মধ্যে আগ্রহ কাজ করে। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ আমাদের প্রধান খাদ্য। যদি সেই মাছ সামুদ্রিক হয় তাহলে তার কোন কথাই নেই। সামুদ্রিক মাছ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাদের সামুদ্রিক মাছ খেলে এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। মাঝেমধ্যে এই এলার্জি আপনার জীবনঘাতী ও হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্যে সামুদ্রিক মাছের ব্যাপারে আপনাকে সচেতন হতে হবে। রিসার্চ এবং গবেষণা কি বলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

সামুদ্রিক মাছের এলার্জি প্রথম গবেষণা

প্রকাশনার বছর ২০০১ এবং প্রকাশনার নাম হল Occupational and Environmental Medicine ও লেখক হচ্ছেন M. Jeebhay, T. Robins, S. Lehrer, A. Lopata. গবেষণা আমাদের যে তথ্যটি দেয় তা হল সামুদ্রিক মাছ এবং শেলফিশে বিশেষ করে শামুক ঝিনুক ইত্যাদিতে উপস্থিত প্রোটিন গুলির মধ্যে parvalbumin এবং tropomyosin প্রধান এলার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান। 

সামুদ্রিক মাছের এলার্জি দ্বিতীয় গবেষণা

প্রকাশনার বছর হলো ১৯৯২ সাল এবং প্রকাশনা Journal of Food Safety ও তার লেখক হচ্ছেন S. Lehrer, A. Helbling, C. Daul. গবেষণা থেকে জানা যায় সামুদ্রিক মাছের এলার্জি সাধারণত চিংড়ি এবং অন্যান্য শেলফিশের সাথে সম্পর্কিত থাকে। এখানে এলার্জির প্রধান কারণ হিসেবে যেটি উল্লেখ করা হয় তা হল parvalbumin প্রোটিন।

সামুদ্রিক মাছের এলার্জি WHO - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রকাশিত সূত্র থেকে জানা যায়, পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২% মানুষ সামুদ্রিক মাছ অথবা শেলফিশ খেলে এলার্জিতে আক্রান্ত হন। 

সামুদ্রিক মাছের এলার্জি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন FDA

ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ২০২০ সালে তাদের এক গবেষণা সূত্র থেকে জানা যায় সমুদ্রের বসবাসকারী মাছ এবং শেলফিশের প্রোটিন (ট্রোপোমায়োসিন) একই। এই প্রোটিন আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে বাধ্য করে।

সামুদ্রিক মাছের এলার্জির প্রধান কারণ কি

সামুদ্রিক মাছে সাধারণত দুইটি প্রধান প্রোটিন থাকে যার মধ্যে একটি হল tropomyosin এবং অপরটি হল parvalbumin। আপনি যখন সামুদ্রিক মাছ খান তখন এই দুই প্রোটিন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা আক্রমিত হয়। যার ফলস্বরূপ আপনার শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যদি এ ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। কারণ অতিরিক্ত এলার্জি সৃষ্টি হলে আপনার জীবন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

ব্যক্তিগত মতামতঃ শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে

শুটকি মাছে কি এলার্জি আছে? সে সম্পর্কে আশা করি আপনারা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। শুটকি মাছের মধ্যে থাকা প্রোটিন যেমন হিস্টামিন এবং ট্রোপোমায়োসিন উপস্থিতির কারণে মানুষ সাধারণত এলার্জি অনুভব করে থাকে। সবার ক্ষেত্রে এমন নাও হতে পারে। আপনারা যদি শুটকি মাছ খাওয়ার পর কোন রকম সমস্যা অনুভব করেন তাহলে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবে। একা থেকে কোন কিছু করতে যাবেন না। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং আজকের মত এখানেই শেষ করছি ইনশাল্লাহ পরবর্তী কোন আর্টিকেলে আবার কথা হবে। সে পর্যন্ত দোয়া রাখি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

FAQ Frequently Asked Questions প্রশ্ন এবং উত্তর পর্ব

১ প্রশ্নঃ রুই মাছে কি এলার্জি আছে?

উত্তরঃ হ্যাঁ রুই মাছে এলার্জি হতে পারে। এটির কারণ হলো সামুদ্রিক মাছ এবং তাজা পানির মাছের মধ্যে একই ধরনের প্রোটিন থাকে যেমন parvalbumin এবং tropomyosin। সেজন্য আপনি অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। তবে আমার মতে এই মাছটি আমি অনেক বেশি খায়, ইনশাল্লাহ কোন সমস্যা অনুভব করিনি।

২ প্রশ্নঃ পুটি মাছে এলার্জি আছে?

উত্তরঃ সামুদ্রিক মাছ সহ বেশিরভাগ মাছের মধ্যে parvalbumin প্রোটিন থাকে। এটি পুঁটি মাছের মধ্যেও থাকতে পারে। তবে আমার জানা মতে পুটি মাছ খেয়ে এলার্জির শিকার হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক কম এবং এটি কম প্রচলিত। তাই নিজের অবস্থান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url