কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায় - স্কলারশিপ হাতের মুঠোয়
কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায় সে সম্পর্কে জানতে অনেক
মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি আগ্রহ দেখা যায়। কিছু শিক্ষার্থীদের
উদ্দেশ্য থাকে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার। কিন্তু অনেকেই হয়তো
জানেন না কোন দেশে স্কলারশিপ পাওয়া সহজ। তবে চিন্তার কারণ নেই আমি যাবতীয় তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে
হাজির হয়েছি।
আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কোন দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ
বেশি এবং স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা, স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন এবং কোন দেশে সহজে
স্কলারশিপ পাওয়া যায় ইত্যাদি সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বিস্তারিত জানতে
এবং ভালো তথ্য পেতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
- কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
- ফুল ফ্রি স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়
- বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
- স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন
- ইউরোপের কোন দেশে ফ্রি পড়া যায়
- স্কলারশিপের জন্য কোন দেশগুলোয় আবেদন করা সুবিধাজনক
- ব্যক্তিগত মতামতঃ কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায় সে সম্পর্কে আপনারা যারা স্টুডেন্ট আছেন
তারা হয়তো অনেকেই জানেন না। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা একটু মেধাবী এবং
ট্যালেন্ট তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষা লাভের জন্য স্কলারশিপ এর দিকে বেশি মনোযোগ
থাকে। কিন্তু আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে, কোথায় সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়?
এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কলারশিপ এর
সিস্টেম সম্পর্কে জানতে হবে।
তাছাড়া কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে, কোন দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সুবিধা বেশি? এটি জানতে আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জানার পর তারা খুব সহজেই বুঝতে পারে কোথায় সহজভাবে স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব? আমি আপনাদের জন্য কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করব যেখানে আপনি সহজেই স্কলারশিপ পেতে পারেন এবং সেখানে পড়াশোনা করলে আপনি কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কেও জানাবো।
তাছাড়া কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে, কোন দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সুবিধা বেশি? এটি জানতে আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জানার পর তারা খুব সহজেই বুঝতে পারে কোথায় সহজভাবে স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব? আমি আপনাদের জন্য কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করব যেখানে আপনি সহজেই স্কলারশিপ পেতে পারেন এবং সেখানে পড়াশোনা করলে আপনি কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কেও জানাবো।
🠋
সতর্কতা
আমি আমার রিসার্চ এবং গবেষণা অনুযায়ী তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমার কাছে এ সমস্ত দেশগুলো উপযুক্ত মনে হয়েছে যার কারণে আপনাদের ভালোর জন্য সেগুলো শেয়ার করেছি। একজন মানুষ হিসাবে আমার ভুল থাকতেই পারে। ডিসিশন নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনি দেশগুলো সম্পর্কে আরো বিস্তারিত এবং ডিটেইলস জেনে নিবেন।
সতর্কতা
আমি আমার রিসার্চ এবং গবেষণা অনুযায়ী তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমার কাছে এ সমস্ত দেশগুলো উপযুক্ত মনে হয়েছে যার কারণে আপনাদের ভালোর জন্য সেগুলো শেয়ার করেছি। একজন মানুষ হিসাবে আমার ভুল থাকতেই পারে। ডিসিশন নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনি দেশগুলো সম্পর্কে আরো বিস্তারিত এবং ডিটেইলস জেনে নিবেন।
প্রথম দেশ জার্মানি আপনার জন্য কেন উপযুক্ত
আপনি হয়তো কম বেশি জেনে থাকবেন জার্মানি বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় শিক্ষা
ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত পরিচিত। আপনাদেরকে বলে রাখি জার্মানি বিদেশী
শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রোগ্রাম প্রদান করে থাকে। তার
মধ্যে একটি হলো DAAD -- German Academic Exchange Service. DAAD স্কলারশিপ
সকলের কাছে সবচেয়ে পরিচিত।
আপনি এখানে পড়াশোনা করলে খরচ তুলনামূলকভাবে একটু কম এবং আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোতে কোন ধরনের টিউশন ফি আপনাকে দিতে হবে না। তাছাড়া যে সমস্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন জার্মান সরকার সেসব শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে আপনার কি লাভ
1. আপনি যদি জার্মানিতে পড়াশোনা করেন তাহলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সাথে
পরিচিত হবে। এছাড়া আপনি প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করতে
পারবেন।
2. আপনি যদি চাকরি নিয়ে পেরেশানিতে থাকেন তাহলে বলে রাখি জার্মানিতে চাকরি
পাওয়া অত্যন্ত সহজ এবং সুবিধাজনক জায়গা। কারণ জার্মানিতে অনেক আন্তর্জাতিক
কোম্পানি রয়েছে। তাছাড়া আপনি এখানে গবেষণার সুযোগ পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ DAAD Scholarships
দ্বিতীয় দেশ কানাডা কেমন হবে আপনার জন্য
আপনাকে জানিয়ে রাখি কানাডা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ
এর ব্যবস্থা করে থাকে। Vanier Canada Graduate Scholarships এবং Ontario
Graduate Scholarship এই স্কলারশিপ গুলো একজন বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য
উন্মুক্ত থাকে। এতে করে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য তাদের প্রয়োজনীয়
সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পায়। তাছাড়া এই স্কলারশিপ আপনার সমস্ত খরচের জন্য
সহায়তা প্রদান করে থাকে। কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থার কথা যদি আমি বলি তাহলে এটি
অত্যন্ত উন্নত এবং আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য
সাশ্রয়ী।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে কি লাভ হতে পারে
1. আপনি যদি কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করেন তাহলে বিশ্বের
শীর্ষস্থানীয় ডিগ্রি পেতে পারেন। এছাড়া আপনি কর্মসংস্থানের জন্য যদি
পেরেশানিতে থাকেন তাহলে সেখানে খোলামেলা সুযোগ পাবেন।
2. কানাডায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কলারশিপ এর পাশাপাশি চাকরির সুযোগ প্রদান
করে থাকে যা আপনার জন্য ক্যারিয়ার গড়তে অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
তথ্যসূত্রঃ Government of Canada Scholarships
তৃতীয় দেশ আমেরিকা সেখানে কেন যাবেন
আমেরিকা অত্যন্ত উন্নত এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় একটি দেশ। আমেরিকা
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। তারা যে
সমস্ত স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে তাদের মধ্যে Fulbright Program এবং Hubert
Humphrey Fellowship Program অন্যতম। এই স্কলারশিপ একজন বিদেশী শিক্ষার্থীদের
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন
তাহলে বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া যদি চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায়
থাকেন তাহলে বলে রাখি এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও রয়েছে।
আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় কেন পড়বেন লাভ কি
1. যেহেতু এটি একটি উন্নত রাষ্ট্র বা দেশ এখানে যদি আপনি পড়াশোনা করেন তাহলে
বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গবেষণার সুযোগ পাবেন এতে
করে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং নিজের স্কিল উন্নত করতে পারবেন।
2. আপনাকে আরেকটি বিষয়ে তথ্য জানিয়ে রাখি যে আমেরিকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ
স্থানীয় দেশ বিশেষ করে কর্মসংস্থানের জন্য। আপনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে
সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং আমেরিকার শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মূল্যবান
হয়ে থাকে।
তথ্যসূত্রঃ Fulbright Program
চতুর্থ দেশ অস্ট্রেলিয়া এটি কি আসলে উপযুক্ত
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রোগ্রামের
ব্যবস্থা রয়েছে। বলে রাখা ভালো অস্ট্রেলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত
পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া Australia Awards এবং Endeavour Postgraduate Scholarship
এ ধরনের স্কলারশিপ বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রদান করে থাকে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ
স্কলারশিপ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি
অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চান তাহলে সেখানে শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে কম
এবং আপনি আরো স্কলারশিপ এর সুযোগ ও পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে কি লাভ হতে পারে
1. যেহেতু অস্ট্রেলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত পরিচিত এবং
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপনাকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করার
পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা করবে।
2. অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করলে আপনি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার
সাথে পরিচিত হন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খুব সহজে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
3. এছাড়া আপনি যদি গবেষণা করতে পছন্দ করেন তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণা সুযোগ
এর পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে আপনি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ Australia Awards Scholarships
পঞ্চম দেশ সুইডেন শিক্ষার জন্য কেমন
সুইডেন একটি উন্নত দেশ এবং আপনার মত বিদেশী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের
স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে।Swedish Institute Study Scholarships সুইডেনে
পড়াশোনা করার জন্য এটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলার্শিপ প্রোগ্রাম। আপনি
যদি পড়াশোনার জন্য সুইডেন নির্বাচন করে থাকেন তাহলে বলে রাখি এই দেশে উচ্চ
শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো এবং একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার জন্য সাশ্রয়ী।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে কি লাভ এবং কেন পড়া উচিত
- সুইডেন দেশ একজন বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য স্কলারশিপ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করে থাকে।
- আপনি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম গুলি খুব সহজভাবে পেতে পারেন।
- সুইডেন উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ এবং সহায়ক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের প্রদান করে থাকে
- সুইডেন বিশ্ববিদ্যালয় আপনি পড়াশোনা করলে বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গবেষণার সুযোগ পাবেন।
- সুইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনার উচ্চশিক্ষা যখন শেষ হয়ে যাবে পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আপনি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
তথ্যসূত্রঃ Swedish Institute Scholarships
ষষ্ঠ দেশ নেদারল্যান্ড কেন নির্বাচন করা উচিত
নেদারল্যান্ড বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রদান করে
থাকে। যার মধ্যে অন্যতম একটি স্কলারশিপ হল Orange Tulip Scholarship.
নেদারল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং সেখানে আন্তর্জাতিক
শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেশটি প্রদান করে থাকে। আপনি
যদি নেদারল্যান্ডে স্কলারশিপের জন্য পড়াশুনা করতে চান তাহলে আমার মতে সেটি
আপনার জন্য বেস্ট অপশন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে কি লাভ এবং কেন সেখানে পড়া উচিত
- আপনি যদি নেদারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন তাহলে সেখানে সাশ্রয়ী স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে।
- নেদারল্যান্ড বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত, উন্মুক্ত এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- নেদারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করলে সেখানে আপনি আন্তর্জাতিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবেন পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
- যেহেতু নেদারল্যান্ড একটি উন্নত দেশ সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা আপনাকে নতুন প্রযুক্তি এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
তথ্যসূত্রঃ Study in Netherlands Scholarships
সপ্তম দেশ দক্ষিণ কোরিয়া স্কলারশিপ এর জন্য কেমন
প্রত্যেকটি দেশে কোনো না কোনো সুযোগ-সুবিধা বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া উজ্জ্বল দেশ হওয়ার
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এর
ব্যবস্থা করে থাকে। Korean Government Scholarship Program (KGSP) এটি একটি
খুবই জনপ্রিয় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম যা আপনার মত বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য
ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কেন পড়া উচিত
- আপনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশোনা করলে স্কলারশিপ তো পাবেনই তার পাশাপাশি টিউশন ফি, ঢাকা এবং খাওয়া সবই এর অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- তাছাড়া KGSP স্কলারশিপ প্রোগ্রাম একদম বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয় একটি প্রোগ্রাম।
- দক্ষিণ কোরিয়া শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক এবং বিশ্বমানের হয়ে থাকে।
- আপনি কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মবাজারে কর্মসংস্থানের বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ Korean Government Scholarship Program
অষ্টম দেশ ফিনল্যান্ড কেমন হতে পারে
ফিনল্যান্ড অত্যন্ত উন্নত একটি দেশ। এই দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য
Finnish Government Scholarships এ ধরনের একটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এর ব্যবস্থা
করে থাকে। এর মাধ্যমে আপনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। আপনি যদি
ফিনল্যান্ড এ পড়াশোনা করার জন্য ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে বলে রাখা ভালো এই দেশে
শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ পাওয়া অত্যন্ত সহজ এবং এদের প্রক্রিয়াটি খুবই
সোজা। এই দেশে স্কলারশিপ এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তাদের সমস্ত খরচ মেটাতে
পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে আপনার কি লাভ হবে
- ফিনল্যান্ড একটি অত্যন্ত মানসম্মত এবং গবেষণা ও প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
- আপনি ফিনল্যান্ড এ পড়াশোনা করলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা লাভের পাশাপাশি উচ্চমানের চাকরির সহজে পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ Study in Finland Scholarships
ফুল ফ্রি স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়
ফুল ফ্রি স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় আপনাদের মধ্যে অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা হয়তো পুরোপুরি বিষয়টি সম্পর্কে ক্লিয়ার নন। স্কলারশিপ মানে হল সহজ ভাষায় পড়াশোনার খরচ, টিউশন ফি, থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ সম্পূর্ণরূপে কভার করে। আপনি বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইলে এটি অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। যদি আপনি এমন স্কলারশিপ পেতে চান তাহলে কিন্তু নির্দিষ্ট ধাপ আপনাকে মেনে চলতে হবে। আমার রিচার্জ এবং গবেষণা দিয়ে আমি চেষ্টা করব আপনাদের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে। সাথেই থাকুন--প্রথম ধাপ সঠিক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম খুঁজে বের করতে হবে
আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্কলারশিপ প্রোগ্রাম
সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। প্রায় প্রত্যেকটি উন্নত দেশ আন্তর্জাতিক এবং
বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ অফার করে থাকে। এইসব অফারের
মধ্যে কিছু প্রোগ্রাম রয়েছে যা পুরোপুরি ফ্রী মানে হচ্ছে ফুল স্কলারশিপ। এই
স্কলারশিপ এর মাধ্যমে আপনি পড়াশোনা থেকে শুরু করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া এবং
অন্যান্য যাবতীয় খরচ এর সুবিধা পাবেন।
স্কলারশিপ প্রোগ্রাম কিভাবে খুজবেন
- আপনি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট যেমনঃ mopme.gov.bd থেকে স্কলারশিপ বিষয়ক যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
- DAAD, Fulbright, Commonwealth Scholarships, Australia Awards, Erasmus Mundus ইত্যাদি এর মত স্কলারশিপ প্রোগ্রাম গুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক মানের এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায়ই পুরোপুরি ফ্রি থাকে।
- আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করতে চান সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে স্কলারশিপের খোঁজ নিতে পারেন। ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ দেশগুলোতে স্টুডেন্টদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ফুল ফ্রি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের সুযোগ রয়েছে যেমনঃ Chevening Scholarship (UK), Commonwealth Scholarship (UK), Fulbright Scholarship (USA), Australia Awards (Australia) ইত্যাদি।
দ্বিতীয় ধাপ স্কলারশিপের জন্য যোগ্যতা যাচাই
স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য আপনাকে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো, আপনি
যে স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করতে ইচ্ছুক তার শর্তাবলী আগে ভালোভাবে বুঝে
নিবেন। স্কলারশিপের যোগ্যতার জন্য সাধারণত বিভিন্ন নিয়ম থাকে। কিছু নিয়ম তুলে
ধরা হলো যেমনঃ--
- প্রথমত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যার মানে হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষার মান এবং আপনি যে বিষয়ে আবেদন করতে ইচ্ছুক সেই বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে। সাধারণত ৩.৫ এর উপরে CGPA হতে পারে।
- দ্বিতীয়ত আপনার ভাষাগত দক্ষতা, সহজ ভাষায় বললে অনেক স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আপনাকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং দক্ষতা প্রমাণের জন্য TOEFL বা IELTS পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন হতে পারে।
- এছাড়া আপনার মধ্যে অন্যান্য কোন বিশেষ দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা থাকলে স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
- এসিএট/জিইআর/GRE স্কোর (যদি প্রয়োজন হয়)
তৃতীয় ধাপ আপনি আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন
আপনি ফুল স্কলারশিপের আবেদনের জন্য সবার প্রথমে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র
আপনাকে প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আবেদন
প্রক্রিয়া সফল করতে এটি অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
- আপনার স্কলারশিপের জন্য সঠিকভাবে পূর্ণ আবেদন পত্র থাকতে হবে
- পূর্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ফলাফলগুলো আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখতে হবে
- সিলেবাস অথবা কারিকুলাম ভিটা মানে হচ্ছে আপনার একাডেমী ও অন্যান্য দক্ষতার বর্ণনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়
- ভাষা পরীক্ষার স্কোর মানে হচ্ছে TOEFL, IELTS অথবা আপনাকে যে ভাষায় পড়াশোনা করতে হবে তার স্কোর
- রেফারেন্স লেটার যেটি শিক্ষক বা কেউ আপনার কর্মদক্ষতার প্রশংসা করতে পারে। সেই ব্যক্তির কাছ থেকে আপনাকে রেফারেন্স চিঠি সংগ্রহ করতে হবে
- আপনাকে মোটিভেশন লেটার বা পি.এস.এ লিখা লাগতে পারে যাতে করে আপনি তাদেরকে বোঝাতে পারেন কেন আপনি এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য ব্যক্তি
- কিছু স্কলারশিপের ক্ষেত্রে হয়তো আপনাকে সাক্ষাৎকার দিতে হতে পারে সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন
চতুর্থ ধাপ স্কলারশিপ এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে
- আবেদন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনাকে স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য সবার আগে প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার প্রথমে আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে কারণ স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া অনেক বড় একটি সুযোগ। আপনি কখনোই চাইবেন না এই সুযোগ হাতছাড়া হোক। সেজন্য মেন্টালি প্রস্তুত থাকুন।
- এরপর আপনার কাজ হল আপনি যে দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার পর যাচ্ছেন সেখানে ভিসা, স্বাস্থ্য বীমা, থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নিবেন।
- আপনাকে স্কলারশিপ এর ধরন বুঝতে হবে যেমনঃ সরকারি স্কলারশিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ। অনেক দেশ রয়েছে যারা সরকারিভাবে স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। সেই দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ও কানাডা ইত্যাদি। অপরদিকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা তাদের স্নাতক, স্নাতক উত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ বৃত্তি প্রদান করে থাকে।
পঞ্চম ধাপ বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে হবে
আপনি স্কলারশিপ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পেতে পারেন,
সেজন্য আপনাদের সুবিধার্থে কিছু প্রধান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এর উদাহরণ নিচে
দেওয়া হল।
- DAAD (German Academic Exchange Service) --- এটি হলো জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য বিশ্বের মধ্যে সেরা স্কলারশিপ।
- Fulbright Program ---- এই স্কলারশিপটি আমেরিকায় পড়াশোনা জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- Erasmus Mundus ----- এই স্কলারশিপ টি ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ।
- Commonwealth Scholarships ---- এখন যে স্কলারশিপ আপনি দেখছেন সেটি হল ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশগুলোর।
- Australia Awards ---- যারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এটি একটি উজ্জ্বল সুযোগ।
- Swedish Institute Scholarships ---- এই স্কলারশিপ সুইডেনে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য।
সপ্তম ধাপ ফান্ডিং অথবা স্কলারশিপ অফার খুঁজুন
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক শিক্ষার্থী
রয়েছে যাদেরকে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ দিতে চায়। সেজন্য আপনাকে চোখ খান খোলা
রাখতে হবে। তাদের ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল পেজে এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত
আপডেট হয়। মাঝেমধ্যে আপনি ভিজিট করে দেখবেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে
তালিকা আমি নিচে তুলে ধরলাম।।
- Scholarships.com
- Chevening.org (UK Government Scholarships)
- fulbright.org (USA Government Scholarships)
অষ্টম ধাপ আপনি কোথায় আবেদন করবেন
- দেখুন স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে আপনি স্কলারশিপ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং কেমন করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় তার ডিটেলস জানতে পারবেন। ভুল কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে হয়তো আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।
- বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা স্কলারশিপ প্রদান করে সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট গুলো থেকে আবেদন প্রক্রিয়া আপনাকে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশের একটি ওয়েবসাইট যেমনঃ University Grants Commission (UGC) এবং Ministry of Education এ ওয়েবসাইট গুলোতে স্কলারশিপ এ যাবতীয় তথ্য আপনি পেয়ে যাবেন।
স্কলারশিপের আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনাকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হতে পারে সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আপনি যদি তাদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হন তাহলে আপনার হাতে চমৎকার সুযোগ আসবে। স্কলারশিপ পাওয়ার মাধ্যমে আপনার পড়াশুনা স্বাস্থ্যই হবে এবং নতুন দেশে যাত্রার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা
যারা ভালো স্টুডেন্ট তাদের অনেকেই বিদেশে পড়াশোনা করা একটি স্বপ্ন। কোন স্টুডেন্ট চাই বিদেশে পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো মানের শিক্ষা অর্জন করতে আবার কেউ চায় ভালো গবেষণার সুযোগ। এছাড়া অনেক স্টুডেন্ট রয়েছে যাদের ইচ্ছা বিদেশে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে ও নতুন দেশের অভিজ্ঞতা নিতে চায়। তবে এই স্বপ্ন পূরণে যেতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে খরচ। এখানে এসেই অনেক স্টুডেন্ট হতাশ হয়ে পড়ে। তবে আপনাদের জন্য বলি হতাশ হবেন না কারণবর্তমানে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফুল ফ্রি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম রয়েছে। যেখানে আপনার পড়াশোনা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ তারা বহন করবে। যেহেতু আপনার সামনে ভালো একটি সুযোগ রয়েছে, এই সুযোগ অর্জনের জন্য কিছু যোগ্যতা আপনার মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে। আমি যোগ্যতা বলতে বোঝাচ্ছি আপনি কতটুকু প্রস্তুত, আপনার দক্ষতা কেমন এবং আপনি সেই সুযোগের জন্য উপযুক্ত কিনা। বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
প্রথম যোগ্যতা ভালো একাডেমিক ফলাফল অর্জন
বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো আপনার ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। কারণ যে কোন ভালো স্কলারশিপের প্রথম শর্ত হলো আপনার রেজাল্ট ভালো থাকতে হবে। SSC, HSC বা স্নাতক (Honours/Pass) ইত্যাদি পর্যায়ে রেজাল্ট ভালো হলে আপনি প্রথম ধাপেই অনেকখানি এগিয়ে যাবেন।SSC ও HSC: GPA 4.5/5.0 বা তার বেশি এবং Honours/Masters: CGPA 3.5+/4.0 রেজাল্ট আপনার থাকতে হবে। আপনার একাডেমির ফলাফল ভালো হলে খুব সহজেই DAAD (জার্মানি), Fulbright (USA), Erasmus (ইউরোপ) এর মত জনপ্রিয় এবং উন্নত দেশগুলোতে স্কলারশিপের জন্য আপনাকে নির্বাচিত করা হবে।
দ্বিতীয় যোগ্যতা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেখানে আপনাকে
যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষায় অনর্গল কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে। এই বিষয়ে যদি
আপনার দক্ষতা কম থাকে তাহলে অনেকখানি পিছিয়ে যাবেন। সেখানকার ক্লাস সাধারণত
ইংরেজিতে হয়। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে সাধারণত যা লাগে IELTS: 6.5 –
7.5 এবং TOEFL: 85 – 100+ পরীক্ষার ফলাফল এরকম থাকতে হবে।
তৃতীয় যোগ্যতা স্টেটমেন্ট অব পারপাস SOP অথবা মোটিভেশন লেটার
এখানে আপনার কাজ হল চিঠিতে আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হবে। আপনি কেন
স্কলারশিপ চান, আপনার পড়াশোনার লক্ষ্য কি এবং ভবিষ্যতে কি করতে চান সে
সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে। এখানে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা লিখতে হবে
পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য ও পরিষ্কার রাখতে হবে এবং চেষ্টা করবেন অতি প্রশংসা না
করতে বাস্তব কথা তুলে ধরুন। স্টেটমেন্ট অব পারপাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক
সময় CGPA থেকেও এটি বেশি গুরুত্ব পায়।
চতুর্থ যোগ্যতা রেফারেন্স লেটার
এর জন্য আপনাকে আপনার দুইজন শিক্ষক অথবা একাডেমিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে চিঠি
সংগ্রহ করতে হয়। এখানে তারা আপনার শিক্ষা এবং চরিত্র ও অন্যান্য বিষয়গুলো
সম্পর্কে তুলে ধরেন। ভালো রেফারেন্স আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
সেজন্য সর্বদা চেষ্টা করবেন সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক এবং গবেষণার সুপারভাইজার।
পঞ্চম যোগ্যতা সহ শিক্ষা কার্যক্রম অথবা নেতৃত্ব ও সামাজিক কাজ
আপনাকে শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আপনার অন্যান্য দক্ষতা ও
থাকতে হবে তাহলে খুব সহজে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। আমি যে
সমস্ত দক্ষতার কথা বলছি তা হলো বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সামাজিক সংগঠন এবং ব্লাড
ডোনেশন ও দুর্যোগ অথবা
বিপর্যয়ের সময় অসহায় মানুষদের সহায়তা ইত্যাদি। Chevening (UK), Erasmus (EU) এই স্কলারশিপে লিডারশিপ গুণকে সাধারণত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেজন্য চেষ্টা করবেন বেশি করে ভালো কাজ করার এবং উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে শামিল রাখবেন।
বিপর্যয়ের সময় অসহায় মানুষদের সহায়তা ইত্যাদি। Chevening (UK), Erasmus (EU) এই স্কলারশিপে লিডারশিপ গুণকে সাধারণত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেজন্য চেষ্টা করবেন বেশি করে ভালো কাজ করার এবং উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে শামিল রাখবেন।
ষষ্ঠ যোগ্যতা গবেষণা ও পাবলিকেশন
আপনি যদি কোন বিষয়ে গবেষণা করেন অথবা কোন পেপার প্রকাশ করেন তাহলে আপনার জন্য
স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ অনেকখানি বেড়ে যায়। হতে পারে সেটি কোন নির্দিষ্ট
বিষয়ের উপর একাডেমিকভাবে লিখা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বা গবেষণা পত্র,
অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং কোন কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ইত্যাদি। অনেক
দেশে স্কলারশিপ শুধু গবেষণার উপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়। তাই চেষ্টা করবেন এ
সমস্ত যোগ্যতা গুলো অর্জন করার।
সপ্তম যোগ্যতা ভাষা অথবা দেশভিত্তিক অতিরিক্ত যোগ্যতা
আপনি যদি কিছু দেশের ভাষা জানেন তাহলে এটি হতে পারে আপনার জন্য দারুন সুযোগ
কারণ কিছু দেশ তাদের ভাষা জানলে বা বিশেষ কোর্স করলে স্কলার্শিপে বাড়তি সুবিধা
দেয়। যেমন জার্মানি B1(আপনার যোগ্যতা মাঝারি লেভেলের) লেভেলের জার্মান ভাষা
থাকলে সুবিধা পাবেন অপরদিকে জাপান JLPT (Japanese Language Proficiency
Test মানে জাপানিজ ভাষা জানার দক্ষতার পরীক্ষা) স্কোর প্রয়োজন হতে পারে এবং
কোরিয়া TOPIK (Test of Proficiency in Korean-কোরিয়ান ভাষা জানার দক্ষতার
পরীক্ষা) স্কোর বাড়তি সুবিধা দেয়।
বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রঃ
- GM Alam et al. (2010) -- Higher Education Policy in Bangladesh: Impacts and Outcomes
- Faruq, M. L. B. (2021) --- Migrating Abroad: Experience of Bangladeshi Students in Sweden
- UGC Bangladesh এবং Education Ministry (MoE)
স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন
স্কলারশিপের জন্য আবেদন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আপনি যদি বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে চান তাহলে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। স্কলারশিপের আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনি বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। আপনার পড়াশুনার যাবতীয় খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। প্রথমবারের মতো স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করা অনেক সময় আপনার জন্য জটিল হতে পারে। তবে আপনি যদি সঠিকভাবে ধাপে ধাপে স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন তাহলে খুব সহজেই আপনার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তাহলে চলুন কিভাবে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন।প্রথম ধাপ স্কলারশিপ এর জন্য তথ্য সংগ্রহ করুন
সবার প্রথমে আপনার কাজ হল আপনি যে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন তার
সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। স্কলারশিপের জন্য কিছু বিষয় আপনাকে জানতেই
হবে যেমনঃ আপনার স্কলারশিপ টি কোন দেশে অথবা কোন বিশ্ববিদ্যালয় দেয়া হচ্ছে
সেটি জানতে হবে, আবেদন করার শর্তাবলী এবং যোগ্যতা ও সময়সীমা সম্পর্কে আপনাকে
অবগত থাকতে হবে এবং আবেদন করতে কোন ডকুমেন্ট অথবা কাগজপত্র প্রয়োজন সে
সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ আবেদনের জন্য ফরম পূরণ করতে হবে
স্কলারশিপের আবেদনের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে সঠিকভাবে
আবেদনের ফরমটি পূরণ করতে হবে। আপনার এই ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত
যোগ্যতা এবং ভাষা দক্ষতা ও স্কলারশিপ সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য দিতে
হবে।
তৃতীয় ধাপ ডকুমেন্ট প্রস্তুত এবং আপলোড করতে হবে
আপনার আবেদন ফরম যখন সফলভাবে পূরণ করা হয়ে যাবে তখন আপনাকে নির্দিষ্ট
ডকুমেন্ট যেমনঃ শিক্ষাগত সনদপত্র, অভিজ্ঞতা সনদ, রেফারেন্স লেটার এবং ভাষাগত
দক্ষতা ইত্যাদি সংগ্রহ করে আবেদন পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ আপনার আবেদন সাবমিট করুন
আপনি সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পর আবেদন ফরমটি সাবমিট করতে হবে। আপনাকে কিছু
স্কলারশিপে আবেদন ফ্রি দিতে হতে পারে এবং সেটি আপনাকে সময়মতো পরিশোধ করতে
হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার কাজ হল, আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কিনা
সেটা যাচাই করা।
পঞ্চম ধাপ ফলাফল এবং পরবর্তীতে করণীয়
আপনার আবেদন জমা দেয়ার পর স্কলারশিপ কর্তৃপক্ষ আবেদন ভালো করে যাচাই-বাছাই
করে দেখবে। আপনি যদি নির্বাচিত হন, তবে পরবর্তী পদক্ষেপে আপনাকে কি করতে হবে
সেই বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। হতে পারে সেটি সাক্ষাৎকারের তারিখ,
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং ভিসা প্রক্রিয়া ইত্যাদি।
তথ্যসূত্রঃ
- Sbm Scholarship Application Form -- Official Source
- UNESCO/China Scholarship Information -- Official Source
ইউরোপের কোন দেশে ফ্রি পড়া যায়
আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে চান তাহলে অনেক সময় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার সব ফ্যামিলির অবস্থা কিন্তু একরকম নয়। ইউরোপের এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে আপনি বিনামূল্যে পড়াশোনা করতে পারবেন। এছাড়া উচ্চ শিক্ষা লাভের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ভালো সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি স্কলারশিপের মাধ্যমে সেই দেশগুলো যেতে পারেন তাহলে পড়াশোনা খরচ অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পারবেন। চলুন ইউরোপের কোন দেশগুলোতে ফ্রিতে পড়া যায় তা দেখে নেওয়া যাক।প্রথম দেশ নরওয়ে এটি কেন নির্বাচন করলাম
নরওয়েতে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য এমনকি আন্তর্জাতিক ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের
জন্যও টিউশন ফি নেই। আপনি যদি এই দেশে পড়াশোনা করতে চান তাহলে শুধু কিছু
নির্দিষ্ট ফি মানে সেমিস্টার ফি দিতে হতে পারে তবে টিউশন ফি বা বড় খরচ নেই।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণত ইংরেজি মাধ্যমে কোর্স পড়ানো হয়, যা আপনার জন্য
অনেক সুবিধা জনক। তাছাড়া আপনি গবেষণার সুযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ছাত্রদের
জন্য আরও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দেশ আইসল্যান্ড এটিই বা কেন
আইসল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিক্ষার্থীদের জন্য কোন টিউশন
ফি থাকেনা। তবে এখানে আপনার কিছু সেবার ফ্রি নেওয়া হতে পারে। চিন্তার কারণ
নেই সেই ফি এর পরিমাণ খুবই কম। এছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক
শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ভাষায় কোর্স রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ
সুবিধা যদি বলি তাহলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
তাছাড়া আপনি কম খরচের পাশাপাশি উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন এবং
ভবিষ্যৎ সুন্দর ও আরামদায়ক হবে।
এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ Charles University, Czech Technical University in Prague, Masaryk University তাদের নিজস্ব স্কলারশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। এই স্কলারশিপ গুলো সাধারণত যারা মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের পড়াশোনার খরচ কমাতে সাহায্য করে। এখানে পড়াশোনা করলে আপনি টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা এবং আবাসনের খরচ বাদে হয়তো সহায়তা পেতে পারেন। তাছাড়া আপনি এখানে ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ University of Malaya, Universiti Kebangsaan Malaysia, Universiti Sains Malaysia ইত্যাদিতে তাদের নিজস্ব স্কলারশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। আপনার জন্য হতে পারে মালয়েশিয়া সেরা সিদ্ধান্ত। এছাড়া এখানে পড়াশোনা করলে আপনি টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা সংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত করা থাকে।
এছাড়া আপনার প্রতিষ্ঠানের সম্মানীয় শিক্ষকবৃন্দ অথবা অন্যান্য পদে যারা রয়েছে তাদের সাথে আপনি অবশ্যই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবেন। কারণ স্কলারশিপের জন্য তাদের রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। অনেক দেশ রয়েছে যারা ভালো রেফারেন্স দেখে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি ইনশাল্লাহ পরবর্তী কোন আর্টিকেল আবার কথা হবে। দোয়া রাখি সুস্থ থাকুন এবং আপনার গন্তব্যর দিকে সফলভাবে এগিয়ে যান।
তৃতীয় দেশ ফিনল্যান্ড নির্বাচন করার কারণ
ফিনল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের জন্য EU (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এবং EEA (ইউরোপীয়
অর্থনৈতিক এলাকা) শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পড়াশোনা চালু রয়েছে। কিন্তু
যারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অথবা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু টিউশন ফি
নেওয়া হয়। তবে চিন্তার কারণ নেই আপনি ফিনল্যান্ডে বিভিন্ন স্কলারশিপ এর
সুবিধা পাবেন। এখানে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি কোর্স, অন্যান্য
সুযোগ-সুবিধা, উন্নত প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
চতুর্থ দেশ অস্ট্রিয়া এটি কেমন
অস্ট্রিয়ায় যারা ইউরোপীয় শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের জন্য ফি অথবা টিউশন
চার্জ কম ধার্য করা হয়েছে। তবে যারা আন্তর্জাতিক এবং বিদেশী শিক্ষার্থী
রয়েছে তাদের জন্যও খরচ কম। তবে আপনার কিছু টিউশন ফি দিতে হতে পারে। এছাড়া
এখানে ইংরেজি কোর্স প্রদান করা হয়।
পঞ্চম দেশ ডেনমার্ক কেমন হতে পারে
ডেনমার্কে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা
রয়েছে। তবে যারা আন্তর্জাতিক অথবা বিদেশি শিক্ষার্থী তাদের জন্য এখানে
কিছু স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া আমার মতে এখানে টিউশন ফি মাফ
করা হতে পারে।
ষষ্ঠ দেশ সুইডেন আসলেই ফ্রি পড়া যায়
সুইডেনের যে সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
দেশগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা একদম ফ্রি কোন খরচ লাগবে না। কিন্তু
যারা বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের জন্য এখানে স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা
রয়েছে। আপনাকে বলে রাখি সুইডেনে কিন্তু বেশ কিছু স্কলারশিপ হয়েছে
শুধুমাত্র যারা বিদেশী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের জন্য। এর মাধ্যমে
আপনি ছাড়াই ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন।
তথ্য সূত্রঃ
- www.studyinsweden, Study in Finland
- www.studyindenmark.dk, Study in Austria
- Study in Norway,Study in Iceland
স্কলারশিপের জন্য কোন দেশগুলোয় আবেদন করা সুবিধাজনক
যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা ট্যালেন্ট এবং মেধাবী তাদের অনেকের জীবনের ইচ্ছা
থাকে বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী
পিছিয়ে আসে আর্থিক সমস্যার কারণে। যদিও কোন দেশেই একেবারে সহজে
স্কলারশিপ পাওয়া যায় না তবে কিছু দেশ বিদেশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের
জন্য স্কলারশিপের সুযোগ নিয়ে আসে। হয়তো এর কারণ হতে পারে মেধাবী
শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা অথবা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক
বজায় রাখা। নিচে আমি এমন কিছু দেশের কথা আলোচনা করব যেখানে
স্কলারশিপের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।
প্রথম দেশ হাঙ্গেরি
মধ্য ইউরোপে অবস্থিত এ শহর। হাঙ্গেরি বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য
উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। হাঙ্গেরির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ
প্রোগ্রাম হল Stipendium Hungaricum Scholarship Programme। এটি
সাধারণত হাঙ্গেরির শিক্ষা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত
হয়। আপনি হাঙ্গেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে সম্পূর্ণ টিউশন ফি
মওকুফ। এর পাশাপাশি মাসিক উপবৃত্তি এবং হোস্টেলে বিনামূল্যে থাকার
সুযোগ ও স্বাস্থ্য বীমা ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তথ্যসূত্রঃ Stipendium Hungaricum official website
দ্বিতীয় শহর পোল্যান্ড
ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলো পোল্যান্ড। পোল্যান্ড এর
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহ
বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয়ে থাকে।
এখানকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও ভালো অবস্থানে
রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, আই ডি এবং বিজনেস ও মেডিসিন বিষয়ে পড়ার জন্য
পোল্যান্ড সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। পোল্যান্ড এর সরকার বিদেশি
শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছেন।
পোল্যান্ড এ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হল Visegrad
Scholarship Program। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে আপনি
থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের খরচ অনেক কম সেজন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা
এখানে পড়াশোনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
তথ্যসূত্রঃ Study in Poland official website
তৃতীয় শহর বেলজিয়াম
পশ্চিম ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত অত্যন্ত ছোট একটি দেশ হলো বেলজিয়াম।
এটি ইউরোপের রাজধানী এবং অনেক মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার
কেন্দ্র। বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে
খ্যাতিসম্পন্ন। এখানে সাধারণত ফরাসি, ডাচ এবং জার্মানি ভাষায় বিভিন্ন
প্রোগ্রাম পড়ানো হয়। তাছাড়া এখানে আপনি আরেকটি সুবিধা পাবেন তা হল
বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি মাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের কোর্স অফার করে।
বেলজিয়ামে আপনি বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি স্কলারশিপ এর সুযোগ পাবেন। বেলজিয়ামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হল VLIR-UOS Scholarship Programme। এছাড়া ওয়ালোনিয়া-ব্রাসেলস ফেডারেশনও বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকে। বেলজিয়ামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ KU Leuven, Ghent University, Université libre de Bruxelles (ULB), Université catholique de Louvain (UCLouvain) তাদের নিজস্ব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে।
বেলজিয়ামে আপনি বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি স্কলারশিপ এর সুযোগ পাবেন। বেলজিয়ামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম হল VLIR-UOS Scholarship Programme। এছাড়া ওয়ালোনিয়া-ব্রাসেলস ফেডারেশনও বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকে। বেলজিয়ামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ KU Leuven, Ghent University, Université libre de Bruxelles (ULB), Université catholique de Louvain (UCLouvain) তাদের নিজস্ব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে।
তথ্যসূত্রঃ
- Study in Belgium official website
- VLIR-UOS Scholarship Programme website
- Wallonia-Brussels Federation scholarships website
- developpement/bourses (This is the website for ARES, which manages scholarships for the Wallonia-Brussels Federation)
চতুর্থ দেশ চেক প্রজাতন্ত্র
চেক প্রজাতন্ত্র হলো মধ্য ইউরোপের সুন্দর একটি দেশ। এই দেশে বিদেশী
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই দেশে
সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ করুণামূলক কম এবং আপনি যদি স্কলারশিপ পান তাহলে
এখানে পড়াশোনা করা বেশ সুবিধা জনক হতে পারে। চেক প্রজাতন্ত্রের সরকার
সাধারণত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা
করে থাকে। চেক প্রজাতন্ত্রের শিক্ষা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করা
হয়ে থাকে।
এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ Charles University, Czech Technical University in Prague, Masaryk University তাদের নিজস্ব স্কলারশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। এই স্কলারশিপ গুলো সাধারণত যারা মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের পড়াশোনার খরচ কমাতে সাহায্য করে। এখানে পড়াশোনা করলে আপনি টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা এবং আবাসনের খরচ বাদে হয়তো সহায়তা পেতে পারেন। তাছাড়া আপনি এখানে ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা সুযোগ পাচ্ছেন।
তথ্যসূত্রঃ
- Ministry of Education, Youth and Sports of the Czech Republic
- Study in the Czech Republic
পঞ্চম দেশ মালয়েশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ হলো মালয়েশিয়া। বর্তমানে
এশিয়ান শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষার
কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার এবং এদেশে অবস্থিত বিভিন্ন
ধরনের বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক অথবা বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য
বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য
স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল স্তরে পড়াশোনা করার সুযোগ আপনি এখানে পাবেন।
তাছাড়া মালেশিয়ার সরকার Malaysia International Scholarship (MIS)
স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে।
এছাড়া মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেমনঃ University of Malaya, Universiti Kebangsaan Malaysia, Universiti Sains Malaysia ইত্যাদিতে তাদের নিজস্ব স্কলারশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। আপনার জন্য হতে পারে মালয়েশিয়া সেরা সিদ্ধান্ত। এছাড়া এখানে পড়াশোনা করলে আপনি টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা সংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত করা থাকে।
তথ্যসূত্রঃ Malaysia International Scholarship (MIS)
ব্যক্তিগত মতামতঃ কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়
কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায় আশা করি আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনারা কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। স্কলারশিপ এর জন্য আপনাকে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। আপনি অবশ্যই পারবেন যদি আপনি সঠিক দিকনির্দেশনের সাথে সামনে এগিয়ে চলতে পারেন। স্কলারশিপ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড এর রেজাল্ট ভালো হতে হবে এবং অন্যান্য বিষয়গুলো যেমন সমাজে বিপদগ্রস্ত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের সাহায্য করতে হবে।এছাড়া আপনার প্রতিষ্ঠানের সম্মানীয় শিক্ষকবৃন্দ অথবা অন্যান্য পদে যারা রয়েছে তাদের সাথে আপনি অবশ্যই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবেন। কারণ স্কলারশিপের জন্য তাদের রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। অনেক দেশ রয়েছে যারা ভালো রেফারেন্স দেখে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি ইনশাল্লাহ পরবর্তী কোন আর্টিকেল আবার কথা হবে। দোয়া রাখি সুস্থ থাকুন এবং আপনার গন্তব্যর দিকে সফলভাবে এগিয়ে যান।
সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url