বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়, এটি জানলে আপনি খুব সহজেই কম খরচে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন। এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে বিমান ভাড়া এবং জীবন যাত্রার খরচ অনেক কম, আমি আশা রাখি তা আপনার বাজেটের মধ্যে পড়বে।

বাংলাদেশ-থেকে-কম-খরচে-কোন-কোন-দেশে-যাওয়া-যায়

সাধারণত এই দেশগুলোতে ভিসা প্রক্রিয়ার সহজ এবং খরচও অনেক কম যা আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে। এছাড়া আজকের আর্টিকেলে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে থাকছে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় এবং কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচীপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়? সেটি জানতে পারলে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়ে যাবে। বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু অনেক সময় বিদেশ ভ্রমণের খরচ খুবই বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের কাছে। তবে কিছু দেশ রয়েছে যেখানে তুলনামূলকভাবে খরচ কম এবং সেখানে আপনি অনেক কিছু উপভোগ করতে পারবেন। চলুন, বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়? সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।

প্রতিবেশী দেশ ভারত

আপনি যদি কম খরচে ভ্রমণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে সর্বপ্রথম নজরে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। যেহেতু ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ হাওয়ায় সেখানে যাতায়াত খরচ অনেক কম এবং জনপ্রতি মাত্র আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা দিয়েই আপনি ভারতের কয়েকটি শহর ঘুরে আসতে পারবেন, বিশেষ করে আপনি যদি বাস রুটে যান। 

আপনার কেন যাওয়া উচিত


  • কলকাতার সংস্কৃতি, তাজমহল, রাজস্থান, দার্জিলিং, গ্যাংটক, সিকিম, শিমলা, মানালি, কুল্লু ও কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনি উপভোগ করতে পারবেন।
  • কাশ্মীরকে বলা হয় পৃথিবীতে এক টুকরো স্বর্গ। এই স্থানে গেলে আপনার মন এবং চোখ শীতল হয়ে যাবে এবং খুব সুন্দর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
  • এছাড়া এখানকার খাবার এবং হোটেল খরচও অনেক কম। 

নেপাল কেমন হতে পারে

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন তাহলে নেপাল অত্যন্ত সাশ্রয়ী গন্তব্যস্থল। এছাড়া নেপালের আকর্ষণীয় বিষয় হল অন-অ্যারাইভাল ভিসা ফ্রি (মানে হল আপনি গন্তব্য দেশে পৌঁছার পর সেখান থেকে ভিসা পাবেন এজন্য আপনাকে আগে থেকে আবেদন করতে হবে না) এতে করে আপনার ভ্রমণ আরো সহজ এবং আনন্দদায়ক হবে।

সেখানে আপনার কেন যাওয়া উচিত


  • কাঠমান্ডু ও পোখারার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনি উপভোগ করতে পারবেন
  • এছাড়া পাহাড়ি পরিবেশ, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা আপনাকে আকর্ষণ করবে
  • তাছাড়া আপনি ঢাকা থেকে সরাসরি বিমান অথবা ভারতের বাসে যেতে পারবেন।
  • এখানে থাকা, খাওয়ার এবং পর্যটকদের জন্য খরচ তুলনামূলকভাবে কম

সুখী মানুষের দেশ ভুটান

আপনি যদি ভুটান ভ্রমণ করতে চান তাহলে বাংলাদেশী হিসেবে সেখানে কোন ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে আপনার SDF (Sustainable Development Fee) দিতে হতে পারে। সহজ ভাষায় বললে এটি টেকসই উন্নয়নশীল যা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অথবা দেশে পর্যটক অথবা দর্শনার্থীদের থেকে চার্জ নেওয়া হয়।

সেখানে কেন যাওয়া উচিত


  • পারো ও থিম্পুর পাহাড়ি সৌন্দর্য ইত্যাদি আরো ঐতিহাসিক বিষয়গুলো দেখতে পাবেন।
  • তাছাড়া ভুটান পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যেখানে  GNH (Gross National Happiness) বা মোট জাতীয় সুখ পরিমাপ করা হয়।

ভারত মহাসাগরের মুক্তা শ্রীলংকা

আপনারা যারা বাংলাদেশী রয়েছেন তারা শ্রীলঙ্কায়  ETA (Electronic Travel Authorization - এটি একটি অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ভ্রমন অনুমতি) নিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

শ্রীলঙ্কায় আপনি কেন যাবেন


  • রাজধানী কলম্বো, ঐতিহাসিক ক্যান্ডি শহর, গল ও সমুদ্রসৈকত আপনাকে মুগ্ধ করবে।
  • এছাড়া চারিদিকে সমুদ্র দিয়ে ঘেরা এবং দ্বীপ দেশের ট্রপিক্যাল আবহাওয়া (গরম ও আর্দ্র) রয়েছে।
  • তাছাড়া এখানে রয়েছে সাশ্রয়ী হোটেল এবং সাগর তীরের মনোরম দৃশ্য যা আপনাকে আকর্ষণ করবে।

কম খরচে থাইল্যান্ড কেমন হতে পারে

আপনি যেহেতু একজন বাংলাদেশী এবং থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করতে চান সেক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য থাইল্যান্ড কর্তৃক অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা দেয়। এছাড়া থাইল্যান্ড হলো এশিয়ার অন্যতম সুন্দর দেশ।

থাইল্যান্ডে আপনি কেন যাবেন


  • থাইল্যান্ডের বিমান ভাড়া এবং হোটেল খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
  • এছাড়া ব্যাংকক, ফুকেট, পাতায়া ও চিয়াং মাই পর্যটকদের কাছে অন্যতম একটি পছন্দের গন্তব্য।
  • সুন্দর দ্বীপ, সৈকতসহ নজরকাড়া সব রিসোর্ট আপনাকে মুগ্ধ করবে।
  • তাছাড়া খাবার এবং কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য আমার মতে থাইল্যান্ড সেরা একটি দেশ।

মালয়েশিয়া আধুনিকতার শহর

আপনি যদি মালয়েশিয়া ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যান তাহলে বাংলাদেশী হিসেবে সহজেই ভিসা পেয়ে যাবেন। কম খরচে এশিয়ার মত এয়ারলাইনের অফারে কুয়ালালামপুর বা লাংকাউই ভ্রমণ করা সম্ভব।

আপনি সেখানে কেন যাবেন


  • উন্নত অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে।
  • কুয়ালালামপুরে পেট্রোনাস টাওয়ার, বাটু গুহা এবং লাংকাউই দ্বীপের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখি আপনি হতবাক হয়ে যাবেন।

ভিয়েতনাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাচীন সংস্কৃতি

আপনারা অনেকেই জানেন ভিয়েতনাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাচীন মাঠে পরিপূর্ণ একটি সুন্দর দেশ। আপনার পকেটে যদি ৮০ হাজার থেকে লাখ খানেক টাকা থাকে তাহলে আপনি সেখান থেকে ঘুরে আসতে পারবেন।

আপনার সেখানে কেন যাওয়া উচিত


  • ভিয়েতনামের চা সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ।
  • এছাড়া সেখানে হা লং বে, হোই আন প্রাচীন শহর, ও হানয়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্য সহ আরো অনেক আকর্ষণীয় এবং দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আপনাকে নতুন অভিজ্ঞতা শিখতে সাহায্য করবে।

কম খরচে ইন্দোনেশিয়া কেমন

ইন্দোনেশিয়াকে আরেক ভাষায় বালির স্বর্গীয় সৌন্দর্য বলা হয়। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনি ইন্দোনেশিয়ায় অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন। তাই আমার মতে কম খরচে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ
খুব ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

আপনার সেখানে কেন যাওয়া উচিত


  • প্রথমেই বললাম এটি বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হিসেবে পরিচিত।
  • এছাড়া এখানে সাগরের তীরে রিসোর্ট এবং সংস্কৃতির জন্য এটি অনেক জনপ্রিয়।
  • উবুদের ধান ক্ষেত, এবং কুতা সমুদ্র সৈকত আপনাকে আকর্ষণ করবে।

এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক শহর সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর হল এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে আধুনিক শহর। সিঙ্গাপুরের ভিসা আবেদন সহজ এবং আপনারা যারা বাংলাদেশী রয়েছেন তারা সহজেই ভিসা পেয়ে যাবেন।

আপনি সেখানে কেন যাবেন


  • মারিনা বে, সেন্তোসা দ্বীপ ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওস ইত্যাদি বিষয়বস্তু একজন পর্যটক হিসেবে আপনাকে আকর্ষণ করবে।
  • এছাড়া সিঙ্গাপুর পৃথিবীর সবচেয়ে পরিছন্ন এবং সুশৃঙ্খল একটি শহর।
  • প্রযুক্তি এবং প্রকৃতির অপূর্ব সংগৃহীত শুনে গার্ডেন বাই দ্য বে একটি অসাধারণ দর্শনীয় স্থান, যা আপনাকে নতুন অভিজ্ঞতা শিখতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

কম খরচে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে আমরা অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ইউরোপ মহাদেশের কথা যদি বলি তাহলে সেটি সমৃদ্ধ ইতিহাস, মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনার কাছে ইউরোপ ভ্রমণ হতে পারে একটি স্বপ্নের মতো। আপনার পকেটে যদি লাখখানেক টাকা থাকে তাহলে ইউরোপের বেশ কিছু দেশে যাওয়া সম্ভব। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায় এবং এই দেশগুলো আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা দেখে নিন।

ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী খরচ

আপনাকে মনে রাখতে হবে, ইউরোপে সাধারণত তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম ইউরোপ এবং মধ্য ইউরোপ। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে চান তাহলে খরচ সবচেয়ে কম এবং অপরদিকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার খরচ মাঝারি পর্যায়ের হয়ে থাকে।

ভিসা ধরন অনুযায়ী খরচ

আপনার ভিসার ধরন অনুযায়ী খরচের কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে। যেমনঃ স্টুডেন্ট ভিসাঃ পূর্ব ইউরোপে ৪-৫ লাখ এবং মধ্য ইউরোপে  ৫-৭ লাখ ও পশ্চিম ইউরোপে ৫-১০ লাখ টাকা লাগতে পারে। টুরিস্ট ভিসাঃ পূর্ব ইউরোপে ৩-৫ লাখ এবং মধ্য ইউরোপে ৪-৬ লাখ ও পশ্চিম ইউরোপে ৫-১৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসাঃ পূর্ব ইউরোপে ৫-১০ লাখ মধ্য ইউরোপে ১০-১৪ লাখ এবং পশ্চিম ইউরোপে ১২-১৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। 

কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়

প্রথম দেশটি হলো পোল্যান্ড। এখানে খরচ আপনার আনুমানিক ৬-৮ লাখ টাকা লাগতে পারে। পূর্ব ইউরোপে এটি অবস্থিত হয় সেখানে আপনার থাকা এবং খাওয়া ও অন্যান্য খরচ তুলনামূলকভাবে একটু কম। ভিসা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে সেখানে কম। যেহেতু এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সেক্ষেত্রে আপনি ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এখানে ঐতিহাসিক স্থান যেমনঃ আউশভিৎস, ক্র্যাকো শহর, ওয়ারসর পুরাতন শহর ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়া যারা বাংলাদেশী ভাইয়েরা রয়েছেন তাদের জন্য সেখানে বিভিন্ন কাজের সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে শিক্ষাগতমান উচ্চমান এবং তুলনামূলকভাবে কম টিউশন ফি হয়ে থাকে যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুযোগ।

দ্বিতীয় হচ্ছে হাঙ্গেরি

এখানে যেতে আপনার খরচ আনুমানিক ৬-৭ লাখ টাকা লাগতে পারে। এটি পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত এবং আপনার ভিসা পেতে তুলনামূলক কষ্ট কম হবে ও থাকা খাওয়ার খরচ কম। এছাড়া এখানে বুদাপেস্ট - ডানিউবের রানী নামে পরিচিত, ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর যা আপনার চোখ জুড়িয়ে দিবে। এছাড়া রয়েছে হাঙ্গেরিয়ার বিখ্যাত খাবার, সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক সংস্কৃতি এবং স্থাপত্য,প্রাকৃতিক তাপ স্প্রিং ও স্পা কালচার ইত্যাদি।

তৃতীয় হলো বুলগেরিয়া

আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হন তাহলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ৪-৫ লাখ এবং টুরিস্ট ভিসার জন্য ৩-৫ লাখ এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য ৫-১০ লাখ টাকা লাগতে পারে। এখানে ভিসা প্রাপ্তির হার ভালো এছাড়া এখানে কালো সাগরের সুন্দর উপকূল, স্কি রিসোর্ট ও পর্বতীয় এলাকা, প্রাচীন থ্রেশিয়ান সভ্যতার নিদর্শন, প্রাচীন থ্রেশিয়ান সভ্যতার নিদর্শন ইত্যাদি উপস্থিত রয়েছে। এছাড়া আপনি যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।

চতুর্থ রোমানিয়া

আপনি যদি ফ্লাইট টিকিট আগে থেকে বুক করেন সেক্ষেত্রে প্রায় ৬৫,০০০ হাজার টাকা লাগতে পারে। এছাড়া এখানে থাকা খাওয়া ও ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া অন্যান্য দিকের কথা যদি বলি তাহলে কার্পাথিয়ান পর্বতমালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ট্রানসিলভানিয়া অঞ্চল ও ব্রান ক্যাসল (ড্রাকুলা ক্যাসল) ইত্যাদি নিদর্শন সেখানে দেখতে পাবেন।

পঞ্চম হচ্ছে স্লোভাকিয়া

এখানে যেতে খরচ প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। এছাড়া এখানে খাবারও ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং হোটেলে থাকার খরচ আনুমানিক  ৪,৫০০-৫,৫০০ টাকা লাগতে পারে। এছাড়া এই দেশে প্রাচীন প্রাসাদ এবং দুর্গ, সুউচ্চ টাট্রা পর্বতমালা, অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন এলাকার সদস্য ইত্যাদি বিষয় সেখানে দেখতে পাবেন।

ইউরোপ যেতে কি কি লাগে

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাওয়ার নিয়ম আপনাদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার নন।বাংলাদেশ থেকে আপনি যদি ইউরোপ যেতে চান সেটি নির্ভর করবে আপনার উপর। এখানে রয়েছে স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। 

আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসা চান সেক্ষেত্রে


  • ইউরোপীয় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার লেটার থাকতে হবে
  • আর্থিক সঙ্গতি প্রমাণের কাগজপত্র
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সম্পত্তির দলিল

আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা চান


  • বৈধ কাজের অফার লেটার থাকতে হবে
  • সরকারি এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া সম্ভব
  • প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আপনি বোয়েসেল, বিএমইটি'র মাধ্যমে সরকারিভাবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন

আপনি যদি টুরিস্ট ভিসা পেতে চান সেক্ষেত্রে


  • ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্ট প্রস্তুত থাকতে হবে
  • আর্থিক সংগতি প্রমাণ করতে হবে
  • হোটেল অথবা থাকার জায়গার বুকিং
  • ফেরার ফ্লাইট টিকিট বুকিং
  • ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থাকতে হবে

ইউরোপে দৈনিক খরচের হিসাব দেখুন


  • হোস্টেল অথবা বাজেট হোটেলে ৮০০-৯০০ টাকা লাগতে পারে
  • দৈনিক ৬০০ টাকা খাবারের পিছনে ব্যয় হতে পারে যেগুলো সাধারণ খাবার রয়েছে
  • একটি দেশ ভরে দেখার খরচ আনুমানিক ২৫,০০০-৩০,০০০ হাজার টাকা লাগতে পারে

সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি

বিদেশে কাজের সন্ধানে যাওয়া বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছে স্বপ্নের একটি বিষয়। আপনি যদি এই স্বপ্নকে সফল করতে চান তাহলে বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশ যাওয়া অত্যন্ত জরুরী। আমাদের বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের নিরাপদ এবং বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে নানা ধরনের সেবা প্রদান করে থাকেন। আজকে লেখার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি এবং বিদেশ যাওয়ার সরকারি এজেন্সির দরকারি পদক্ষেপ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সবার প্রথমে প্রাথমিক প্রস্তুতি

আপনি যদি বিদেশ যেতে চান সে ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে হবে। এ সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কিছু নির্দেশনা দেখে নেওয়া যাক। আপনি বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিন এবং পাসপোর্ট তৈরি করুন। বিদেশ যাওয়ার আগে আপনি লাভ এবং ক্ষতির হিসাব করুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন। পাসপোর্ট পাবার পর আপনার নিজ জেলার DEMO (জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস) এ যোগাযোগ করুন।

এই প্রাথমিক ধাপগুলো আপনি সম্পূর্ণ করলে এরপর থেকে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করা, কারণ আপনি এটি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না।  প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নাগরিকদের বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে থাকি এর মধ্যে হল

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য তথ্য ও পরামর্শ প্রদান

আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমনঃ পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং জাতীয় পরিচয় পত্র ও সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার তথ্য আপনাকে জমা দিতে হবে। এ সব তথ্য প্রদানের পর ৩-৭ কার্য দিবসের মধ্যে আপনাকে সেবা প্রদান করা হবে। বিদেশে চাকরির আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আপনাকে আবেদন পত্র, পাসপোর্ট এবং চুক্তিপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এটির জন্য আপনাকে কিছু ফি প্রদান করতে হতে পারে যেমন সাধারণ কর্মী ফি ২০০০০ টাকা এবং দক্ষ কর্মী ফি ৩০০০ টাকা এবং এই সেবা প্রাপ্তির সময়সীমা আনুমানিক ৭ কর্ম দিবস হতে পারে।

বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা

আপনি বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সরকার এই ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে যেমনঃ

কারিগরি প্রশিক্ষণঃ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর মিশন অনুযায়ী বিশ্বে বাজার চাহিদার ভিত্তিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যারা বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকতর কল্যাণ এবং অধিকার নিশ্চিত করা।

বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামঃ জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টারনের মতো বিশেষ প্রোগ্রামের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রোগ্রামের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এক্ষেত্রে জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক প্রত্যাহিত ডিমান্ড লেটার যাচাই করনের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। 

বিদেশ যাওয়ার সরকারি এজেন্সি দরকারি পদক্ষেপ এবং পদ্ধতি

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এবং সংশোধিত আইন ২০২৩ ধারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনি যদি একজন রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে চান তাহলে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। মহা পরিচালক, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। এই আবেদনের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র লাগাতে পারে। এক নজরে সেগুলো দেখে নিন।

  • আপনার ট্রেড লাইসেন্সের সঠিক এবং বৈধ অনুলিপি লাগবে
  • ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সহ আয়কর রিটার্নের বৈধ এবং সঠিক অনুলিপি থাকতে হবে
  • আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ বিগত বছরের ব্যাংক হিসাব বিবরণী লাগবে
  • এছাড়া আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অথবা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন
  • অঙ্গীকারনামা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে
  • আবেদন পাওয়ার পর মহাপরিচালক আপনার তথ্য বলি এবং কাগজপত্র যাচাই করে সরকারের কাছে আপনার জন্য সুপারিশ করবেন
  • সরকার ৩ মাসের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর অথবা নাম মঞ্জুর করেন
আপনি যদি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স পেতে চান তাহলে আপনাকে কিছু শর্ত বলি মেনে চলতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্টকে আইন এবং বিধি অনুযায়ী আপনার আচরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। লাইসেন্সের প্রতি মেয়াদে রিক্রুটিং এজেন্টকে ২০০ জন কর্মী বিদেশে প্রেরণ করতে হবে। এছাড়া নারী অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপত্তা জমানোর প্রদান করতে হবে। 

রিক্রুটিং এজেন্টের দায়িত্ব এবং আচরণ


  • আইন-পালন
  • অফিস রক্ষণাবেক্ষণ
  • তথ্য ও পরামর্শ প্রদান
  • কর্মীদের প্রশিক্ষণ
  • তদন্তে সহযোগিতা করা
  • ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা

সাব এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া


  • রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য সাব এজেন্ট নিয়োগ করতে পারে
  • রিক্রুটিং এজেন্টদেরকে তাদের মহাপরিচালকের অনুমোদন নিয়ে দেশ অথবা বিদেশে প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়
  • যদি কোন ব্যক্তি বিদেশে প্রতিনিধি হতে চান তবে তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশন থেকে প্রত্যানপত্র নিতে হবে। যদি সেই দেশে বাংলাদেশের মিশন না থাকে তাহলে অন্য কোন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশন থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিতে হবে
  • সাব এজেন্টের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমের জন্য রিক্রুটিং এজেন্ট এবং নিয়মকৃত প্রতিনিধি উভয় দায়ী থাকবেন

অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ

নিষিদ্ধ কার্যকলাপঃ বর্তমান সরকার অবৈধ কার্যকলাপের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। বেআইনি কার্যকলাপ এবং ভুয়া ভিসা সংগ্রহ ও দলগত ভিসা ভাঙানো সহ যেকোনো ভ্রমণ, অধ্যায়ন বা উমরাহর ভিসা বৈদেশিক চাকরির জন্য ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

সাব এজেন্টের নিষেধাজ্ঞাঃ তাদের নির্দেশনা আছে যে, তারা ভ্রমণ এবং অধ্যায়ন অথবা উমরা সহ দেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কোন কাজে জড়িত হতে পারবে না।

জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণঃ বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বিদেশীদের সঙ্গে কাজ করার সময় জাতীয় আদর্শ এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

বিদেশ যাওয়ার নিয়ম কিভাবে সফলভাবে আবেদন করবেন

আমাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানি না। কেউ বিদেশে যান কাজের জন্য আবার কেউ বিদেশে যান পড়াশোনা জন্য। বাংলাদেশ সরকার বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করেছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আপনারা জানতে পারবেন বিদেশ যাওয়ার নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে। আপনি যদি সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে চান সেক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, বোয়েসেলের মধ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করে থাকে। চলুন আপনি কিভাবে প্রতারিত ছাড়া নিরাপদে বিদেশ যেতে পারেন সে বিষয়ে দেখে নেয়া যাক।

বিদেশে যাওয়ার নিয়ম


  • সবার প্রথমে আপনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগাযোগ করুন। যেমনঃ probashi.gov.bd এবং bmet.gov.bd। এখানে আপনি নিয়মিত চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাবেন।
  • বৈধ এজেন্সি বাছাই করুন। সরকার যাদেরকে অনুমোদিত করেছে সে সমস্ত রিক্রুটিং এজেন্সি আপনাকে বেছে নিতে হবে। 
  • নিবন্ধন এবং প্রশিক্ষণ। আপনাকে আপনার জেলা কর্মসংস্থান অফিসে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
  • প্রাক প্রশিক্ষণ ভাষা যেমন ইংরেজি অথবা আরবি কাজের দক্ষতা এবং সংস্কৃতি অভিযোজন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক
  • আপনাকে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন পাসপোর্ট, ভিসা, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট।

বিদেশ যাওয়ার জন্য কি কি প্রয়োজন যাত্রা শুরু করার সেরা উপায়

আপনি বিদেশে যেতে চাইলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। তা না হলে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো সঠিক অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি লাগবে সে বিষয়ে অবগত নন। চলুন এ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল পেজগুলোতে কি উল্লেখ রয়েছে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

  • আপনার ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট যেমন বৈধ পাসপোর্ট অন্তত ছয় মাস মেয়াদ।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্ম নিবন্ধন এর সনদ।
  • শিক্ষাগত সনদ যেমনঃ এসএসসি/এইচএসসি/ডিগ্রী অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুবাদ ও অ্যাটেস্টেড ( কাগজপত্র অথবা ডকুমেন্টের সত্যতা ও বৈধতা )
  • চাকরির সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যেমনঃ ভিসা/ওয়ার্ক পারমিটঃ এটি আপনি গন্তব্য দেশে দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করুন।
  • নিয়োগ পত্র ও চুক্তির কপি।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এটি জেলা পুলিশ সুপার এর অফিস থেকে সংগ্রহ করুন।
  • মেডিকেল রিপোর্ট/সরকারি হাসপাতাল থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করুন।
  • ব্যাংক সলভেন্সি ( মানে হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির আর্থিক স্তিতিশীলতা বা সামর্থ্য ) সার্টিফিকেট
  • বীমা পলেসি/ কিছু দেশে হয়তো বাধ্যতামূলক হতে পারে
  • পরিবারের অনাপত্তি পত্র/ মহিলা আবেদনকারীদের জন্য।
  • অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট/ আপনার পূর্বের চাকরির প্রমাণপত্র।

বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দরকারি পদক্ষেপ এবং পদ্ধতি

আপনি যদি বিদেশে কাজ অথবা পড়াশোনা করতে যেতে চান তাহলে সঠিক প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। এই প্রশিক্ষণ গুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো আপনাদের ভাষাগত দক্ষতা, পেশাগত দক্ষতা এবং সংস্কৃতিক মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আপনি যদি দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রাম এবং জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্নশীপের মত প্রকল্পগুলোতে অংশ নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা কি কি।

বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ

ধাপ বিষয় বিস্তারিত বিবরণ
ভাষা ও যোগাযোগ প্রশিক্ষণ - কোরিয়ান ভাষা (EPS-টপিক পরীক্ষা)
- জাপানি ভাষা (JLPT পরীক্ষার প্রস্তুতি)
- আরবি ভাষা (সৌদি আরবের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ)
কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন - ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স (ওয়েল্ডিং, প্লাম্বিং, এয়ারকন্ডিশনিং)
- হাউসকিপিং (৩০ দিনের প্রশিক্ষণ)
- কৃষি ও লাইভস্টক (মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রশিক্ষণ)
সাংস্কৃতিক অভিযোজন - গন্তব্য দেশের রীতিনীতি, আইন-কানুন ও নিরাপত্তা নিয়ে ওরিয়েন্টেশন সেশন
- জাপানে কর্মঘণ্টা ও ছুটির নিয়ম
- সৌদি আরবে শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া

সরকারি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম

প্রোগ্রাম বিস্তারিত বিবরণ
EPS প্রোগ্রাম (দক্ষিণ কোরিয়া) - ৬ মাসের সমন্বিত প্রশিক্ষণ
- প্রথম ৩ মাস: কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি
- পরবর্তী ৩ মাস: ফ্যাক্টরি-ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ
- সফলদের কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ
টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ (জাপান) - JLPT N4 লেভেলের জাপানি ভাষার দক্ষতা প্রয়োজন
- ৪৫০ ঘণ্টার কারিগরি প্রশিক্ষণ (ইলেকট্রিক্যাল বা মেকানিক্যাল ট্রেডে)

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণের ধাপসমূহ

ধাপ বিষয় বিস্তারিত বিবরণ
নিবন্ধন - জেলা জনশক্তি অফিস (ডেমো) বা বিএমইটি ট্রেনিং সেন্টারে নিবন্ধন করুন
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন: পাসপোর্টের ফটোকপি, ভিসা/ওয়ার্ক পারমিট, অঙ্গীকারনামা
প্রশিক্ষণ সময়সূচি - সাধারণ কর্মী: ৩ দিনের কোর্স (দৈনিক ৬ ঘণ্টা)
- গৃহকর্মী: ৩০ দিনের রেসিডেনশিয়াল প্রশিক্ষণ
মূল্যায়ন - লিখিত পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক মূল্যায়ন
- উত্তীর্ণদের প্রশিক্ষণ সনদ দেওয়া হয়, যা এমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য  আবশ্যক

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্বাচনের সর্তকতা

বিষয় বিস্তারিত বিবরণ
লাইসেন্স যাচাই - বিএমইটি-এর ওয়েবসাইট থেকে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন স্ট্যাটাস চেক করুন
ফি কাঠামো - সরকারি কোর্সের ফি সাধারণত ২,০০০-৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকে
- অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে ১৬১৩৫ হেল্পলাইনে রিপোর্ট করুন
ব্যাচের আকার - ছোট ব্যাচে (৩০-৪০ জন) প্রশিক্ষণ নেওয়া উত্তম, যাতে ব্যক্তিগত মনোযোগ পাওয়া      যায়

ব্যক্তিগত মতামতঃ বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় আশা করি আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। বিদেশে ভ্রমণের পূর্বে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যাবতীয় তথ্য ঠিক আছে কিনা সেটি যাচাই করে নিবেন এবং বৈধ পথে ভ্রমণ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন। অবৈধ পথ অবলম্বন করলে আপনার জেল অথবা জরিমানা হতে পারে সেজন্য সাবধান। আমার রিসার্চ এবং গবেষণা অনুযায়ী কম খরচে ভালো কিছু দেশের নাম উল্লেখ করেছি। ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই আপনারা যে দেশে যেতে চাচ্ছেন সে দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url