মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট - এক মাসে ফিট শরীর

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কেমন হয় জানেন কি? যদি আপনি দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে চান তাহলে এই ডায়েট চার্ট আপনার জন্য ১০০% কার্যকরী। আপনি প্রাকৃতিক উপাদান, অত্যন্ত সহজ পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে দ্রুত ওজন কমাতে পারবেন। 

মেয়েদের-ওজন-কমানোর-ডায়েট-চার্ট


এই ডায়েট চার্টের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন প্রতিদিন কেমন খাবার আপনার খাওয়া উচিত? কত গ্রাম খাওয়া উচিত? ইত্যাদি আরও বিষয়। এছাড়া আপনি জানতে পারবেন সাপ্তাহিক সেরা ডায়েট চার্ট যা আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে। মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট সম্পর্কে জানতে এবং আরও তথ্য পেতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কি বা কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে জানতে অনেক মা-বোনেরা আগ্রহী থাকেন। আপনি যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করেন তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি আপনাকে খরচ করতে হবে। আপনার শরীরে বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) নামে একটি উপাদান থাকে এটির কাজ হলো আপনি যদি আপনার শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি খান তাহলে শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি জমিয়ে রাখে এবং ফ্যাটে পরিণত করে।

আর যদি আপনি শরীরের চাহিদার চেয়ে একটু কম ক্যালোরি গ্রহণ করেন তাহলে আপনার শরীর জমানো ফ্যাট ব্যবহার করে শক্তি পাওয়ার জন্য এর ফলে আপনার ওজন কমে যায়। তাছাড়া আপনার ওজন কমানোর পিছনে ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেটি আপনাকে নিয়মমাফিক এবং অতিরিক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মা-বোনদের সবার কিন্তু শরীরে আকার এবং শারীরিক কার্যকলাপ এক হয় না। নিচে আপনাদের সুবিধার্থে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

মেয়েদের-ওজন-কমানোর-ডায়েট-চার্ট

পুষ্টি উপাদানপ্রয়োজনীয় পরিমাণ
চর্বি (Fat)৭৮ গ্রাম এর বেশি নয়
স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Saturated Fat)২৪ গ্রাম এর বেশি নয়
মুক্ত চিনি (Free Sugar)২৭ গ্রাম এর বেশি নয়
প্রোটিন (Protein)৪৫ গ্রাম পর্যন্ত
কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate)অন্তত ২৬৭ গ্রাম
ফাইবার (Fibre)৩০ গ্রাম
লবণ (Salt)৬ গ্রাম এর বেশি নয়

আপনি ওজন কমাতে চাইলে কখনোই অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করবেন না পাশাপাশি চিনিযুক্ত খাবার গুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করবেন কারণ এ সমস্ত খাবার আপনার ওজন বাড়াতে পারে। আপনাদের সুবিধার্থে দৈনিক ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট তুলে ধরা হলো। আপনি যদি এটি ভালোভাবে ফলো করেন ইনশাল্লাহ খুব শীঘ্রই কাঙ্খিত ফলাফল পাবেন বলে আশা করছি। 

প্রথম দিনের জন্য ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

পুষ্টি উপাদান প্রয়োজনীয় পরিমাণ
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার পানি খান
৮:০০ AM ২ টি বেসন চিল্লা এবং ২ চামচ সবুজ চাটনি খান
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির খাওয়ার চেষ্টা করুন
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত সালাদ খেলে খুব ভালো হয়
২:১০ PM ১ বাটি পালক শাকের ডাল এবং আধা বাটি সেদ্ধ ভাত খেতে হবে
৪:০০ PM ১ কাপ দুধ খাওয়ার চেষ্টা করুন 
৫:৩০ PM ১ বাটি মিশ্রিত সালাদ খেতে হবে
৮:৫০ PM ১ বাটি লো ফ্যাট পনির কারি এবং ১ মেসি রুটি খান

দ্বিতীয় দিনের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবার
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি শরীর বেয়ে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে
৮:০০ AM ১ বাটি স্যাম্বার এবং ২টি ইডলি এখানে আপনি ফাইবার এবং প্রোটিন পাবেন
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির এটি আপনার জন্য প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে
২:০০ PM ১ টি বাটিতে মিশ্রিত শাকসবজি আপনি সালাদ হিসেবে খেতে পারেন
২:১০ PM ১ বাটি আলু এবং বেগুনের তরকারি এবং ১ বাটি দই ও ২ টি রুটি
৪:০০ PM ১ কাপ ফল এবং ১ গ্লাস লস্যি এটি আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী
৫:৩০ PM আধা কাপ দুধ কফি। তবে চেষ্টা করবেন চিনি ছাড়া খাবার
৮:৫০ PM ১ টি বাটিতে মিশ্রিত শাকসবজি
৯:০০ PM ১ বাটি ভিন্ডি তরকারি, ১ বাটি সবুজ মুগ ডাল, এবং ১ রুটি এগুলো পুষ্টিকর এবং আপনার শরীরের জন্য শক্তি প্রদানকারী খাবার

তৃতীয় দিনের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবার
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি
৮:০০ AM ১ গ্লাস দুধ এবং ১ বাটি পোহা
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাক সবজির সালাদ
২:১০ PM ১ বাটি পনির কারি এবং ১টি মিসি রুটি
৪:০০ PM ১ কাপ পেঁপে এবং ১ গ্লাস লস্যি
৫:৩০ PM ১ কাপ দুধ চা
৮:৫০ PM আবারও ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজির সালাদ
৯:০০ PM ১ বাটি আলু বেগুনের তরকারি, ১ রুটি এবং ১ বাটি দই

চতুর্থ দিন ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবারের নাম
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি
৮:০০ AM ১ গ্লাস দুধ ও ২টি মাল্টিগ্রেইন টোস্ট
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির (রোস্ট বা কাঁচা)
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
২:১০ PM ১ বাটি সেদ্ধ পনির এবং শাকসবজি, ১টি রুটি ও ২ টেবিল চামচ সবুজ চাটনি
৪:০০ PM আধা বা ছোট কলা ও ১ গ্লাস লস্যি
৫:৩০ PM ১ কাপ চা (কম চিনি অথবা চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করবেন)
৮:৫০ PM ১ কাপ শাকসবজি সালাদ
৯:০০ PM ১ বাটি মুগ ডাল কারি ও আধা বাটি মেথি রাইস

পঞ্চম দিন ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবারের নাম
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি
৮:০০ AM ১ গ্লাস ফল এবং বাদামের স্মুদি এবং ১টি ডিমের অমলেট
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির (রোস্ট বা কাঁচা)
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
২:১০ PM ১ বাটি ভিন্ডি, ১ কাপ সবুজ মুগ ডাল এবং ১টি রুটি
৪:০০ PM ১টি কমলা এবং ১ গ্লাস লস্যি
৫:৩০ PM ১ কাপ কফি (কম চিনি)
৮:৫০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
৯:০০ PM ১ বাটি পালক ছোলা এবং আধা বাটি সেদ্ধ ভাত

ষষ্ঠ দিন ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবারের নাম
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি
৮:০০ AM ২টি উত্তপম এবং ২ টেবিল চামচ সবুজ চাটনি
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির (রোস্ট বা কাঁচা)
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত সালাদ
২:১০ PM ১ বাটি মসুর ডাল এবং আধা বাটি মেথি রাইস
৪:০০ PM আধা আপেল এবং ১ গ্লাস লস্যি
৫:৩০ PM ১ কাপ কফি (কম চিনি)
৮:৫০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
৯:০০ PM ১ বাটি সেদ্ধ পনির এবং শাকসবজি, ১টি রুটি ও ১ বাটি দই

সপ্তম দিন ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

দিনের সময় খাবারের নাম
৬:৩০ AM ১ গ্লাস শসার ডিটক্স পানি
৮:০০ AM ১ বাটি ওটস পোরিজ দুধে, সাথে ৩০ গ্রাম বাদাম
১২:০০ PM ১০০ গ্রাম পনির (রোস্ট বা কাঁচা)
২:০০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
২:১০ PM ১ বাটি ডাল, ১ বাটি গাজর ও মটরশুঁটির সবজি, ১টি রুটি
৪:০০ PM ১ কাপ মিশ্রিত ফল এবং ১ গ্লাস লস্যি
৫:৩০ PM ১ কাপ চা (চিনি ছাড়া)
৮:৫০ PM ১ বাটি মিশ্রিত শাকসবজি সালাদ
৯:০০ PM ১ কাপ ডাল, ১ বাটি লাউয়ের তরকারি এবং ১টি রুটি

এই ডায়েট চার্ট কেন আপনার জন্য উপকারি

আমি চেষ্টা করেছি পর্যাপ্ত পুষ্টি গুণসম্পন্ন খাবার উল্লেখ করতে এবং সেগুলো সহজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার। আপনি দৈনন্দিন জীবনে সহজেই অনুসরণ করতে পারবেন। আপনি চেষ্টা করবেন অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার না খাবার এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর। আপনি যেন সারাদিন কাজ করতে গিয়ে কোনরকম দুর্বলতা অনুভব না করেন সে জন্য প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ কিছু খাবার যুক্ত করেছি। আশা করি ডায়েট চার্টটি আপনাকে সঠিক এবং স্বাস্থ্যকর উপায় ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

১ মাসে ৫ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

আপনি যদি মাসে ৫ কেজি ওজন কমাতে চান তাহলে প্রোটিন, শস্য, ফলমূল এবং শাকসবজি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেতে হবে। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিনিযুক্ত পানিও এবং অতিরিক্ত লবণ আপনাকে অল্প পরিমাণে খেতে হবে ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। ওজন কমাতে হলে অবশ্যই আপনাকে ডায়েট চার্ট ফলো করতে হবে। কিন্তু অনেকেই সঠিক ডায়েট চার্ট তৈরি করতে পারেন না। চিন্তার কোন কারণ নেই, চলুন ১ মাসে ৫ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কিভাবে তৈরি করবেন তা দেখে নেওয়া যাক।

মেয়েদের-ওজন-কমানোর-ডায়েট-চার্ট

সকালের নাস্তা আপনার কেমন হওয়া উচিত সকাল ৮-৯ টা

  • আপনি ফল অথবা বাদামের সাথে ওটস কিংবা একবাটি গবে রুটি ও সবজির তরকারি খেতে পারেন। এছাড়া আপনি ডিমের সাথে গমের টোস্ট অথবা প্রোটিন শেখও খেতে পারেন।

সকাল ১০-১১ টার মধ্যে কি খাবেন

  • আপনি এক মুঠো বাদাম অথবা এক টুকরো ফল খেতে পারেন। তাছাড়া একলাস দুধ অথবা দইও খাওয়া যায়।

দুপুরের খাবার বিকাল ১-২ টা কি খাবেন

  • প্রোটিনের উৎস রয়েছে যেমন মুরগি, মাছ, ডাল, সালাদ এবং ভাত অথবা কুইনোয়া যা সুপারফুড গাছের বীজ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আপনি সবজির তরকারির সাথে অথবা দইয়ের সাথে গরুর রুটি খেতে পারেন।

বিকালের নাস্তা ৩-৪ টা কি খাওয়া উচিত আপনার

  • আপনি বিকালের নাস্তায় সবুজ চা গ্রিন টি এবং এক কাপ মিষ্টি ছাড়া ভেষজ চা। এ ছাড়া আপনি ভাজা বাদাম অথবা বীজের একটি অংশ খেতে পারেন।

রাতের খাবার বিশেষ করে ৭-৮ টা

  • রাতের খাবারে আপনি ভাতের সাথে সবজি অথবা গ্রিল করা মুরগি এবং মাছ খেতে পারেন। এছাড়া আপনি টোফু মানে টোফু এটি হলো একটি জনপ্রিয় খাবার যা সয়া দুধ থেকে প্রস্তুত করা হয়) মসুর ডাল, নুডুলস ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন।

রাত ৯-১০ টা আপনার কি খাওয়া উচিত

  • আপনি চাইলে এক গ্লাস দুধ এবং এক কাপ ভেষজ চা গ্রহণ করতে পারেন।

১ মাসে ৫ কেজি ওজন কমানো কি আসলেই সম্ভব গবেষণা কি বলে

  •  Healthline: তাদের প্রদত তথ্য অনুযায়ী ক্যালরি কন্ট্রোল করতে হলে আপনাকে ক্যালরি খরচ করতে হবে। আপনি যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করেন তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ করুন। যদি আপনি একদিনে ৫০০-৭০০ ক্যালরি খরচ করতে পারেন তাহলে প্রায়ই ০.৫ -১ এক কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব। যদি চান একমাসে ৫ কেজি ওজন কমাবেন তাহলে এই নিয়ম বা হিসাব মেনে চলতে পারেন। 
  • Medical News Today: তাদের তথ্য অনুযায়ী আপনি যদি প্রোটিন খান তাহলে পেট ভরা থাকবে এবং আপনার মাংসপেশি শক্ত হবে। প্রোটিনের ভালো উৎস রয়েছে ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল এবং বাদাম।
  • WebMD: আপনি কখনোই চিনি, মিষ্টি, সাদা ভাত এবং ময়দা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না। যদি পারেন এর বদলে ফলমূল-শাকসবজি এবং গোটা শস্য, ওটস, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি খাবারগুলো খান।
  • Mayo Clinic: অলিভ অয়েল, বাদাম এবং আভোকাডো আপনার জন্য খুব উপকারী। ভাজাপোড়া এবং ফাস্টফুড চেষ্টা করবেন এড়িয়ে যাওয়ার।
  • Harvard Health: আপনি কি জানেন শাকসবজি এবং ফলমূলে ক্যালরি কিন্তু কম রয়েছে তবে পুষ্টির দিক দিয়ে এটি অনেক বেশি। এটি যদি আপনি খান তাহলে আপনার পেট ভরা থাকবে এবং ওজন কমবে।
  • Healthline: চেষ্টা করবেন দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার। পানি আপনার শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কমায়।
  • CDC: আপনি যদি শুধু ডায়েটই করে যান তাহলে ওজন কমানো খুব একটি সম্ভব হবে না পাশাপাশি আপনাকে ব্যায়ামও করতে হবে। আপনি ভোরে ঘুম থেকে উঠে সপ্তাহে ৫ দিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, জগিং ইত্যাদি করতে পারেন।
  • Sleep Foundation: আপনার যদি রাত জাগার অভ্যাস থাকে তাহলে এখনই সেটি বর্জন করুন কারণ রাতে যদি কম ঘুম হয় তাহলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা অধিকাংশ বেশি। সেজন্য রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান।
  • NCBI: বাইরে যে সমস্ত প্যাকেটটা খাবার যেমন চিপস, কোলড্রিংস ইত্যাদি বর্জন করুন এগুলোতে অনেক বেশি ক্যালরি রয়েছে।
  • Harvard Health: খাবার সময় তাড়াহুড়ো না করে চেষ্টা করবেন ধীরে খেতে। কারন আপনি যখন ধীরে খাবেন তখন বেশি খাওয়া হয়না এবং পেট ভরে থাকে।

কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকুন না হলে ক্ষতি হতে পারে

  • আপনি হঠাৎ করে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। যতটা সম্ভব ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যান।
  • যদি ডায়েট শুরু করেন সেক্ষেত্রে একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। তিনি আপনাকে বিচার বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবে গাইড করতে পারবেন

১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়

আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে এতক্ষণে অবশ্যই আপনি জেনেছেন যে ওজন কমাতে হলে অবশ্যই আপনাকে ক্যালরির ঘাটটি তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে কম ক্যালোরি গ্রহণ এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে বেশি ক্যালরি আপনাকে খরচ করতে হবে। বিভিন্ন গবেষণা পত্র থেকে যে বিষয়টি জানতে পাই তা হলো ওজন কমাতে হলে অবশ্যই আপনাকে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য, কম কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। চলুন বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।

মেয়েদের-ওজন-কমানোর-ডায়েট-চার্ট

বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে ১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর পরিকল্পনা

  • ১-৫ দিন ---------- সকালের খাবারঃ লেবু-মধু পানি, ওটস বা ডিম সেদ্ধ
  • ৬-১০ দিন -------- সকালের খাবারঃ ডিটক্স পানি, ব্রাউন ব্রেড + পিনাট বাটার
  • ১১-১৫ দিন ------- সকালের খাবারঃ গ্রীক দই + মধু, ড্রাই ফ্রুটস
  • ১-৫ দিন ------ মধ্যাহ্নভোজন লাঞ্চঃ বাদামি চালের ভাত, সবজি, গ্রিলড মাছ/মুরগি
  • ৬-১০ দিন ----- মধ্যাহ্নভোজন লাঞ্চঃ ডাল, সবজি ও গ্রিলড চিকেন বা টফু
  • ১১-১৫ দিন ----- মধ্যাহ্নভোজন লাঞ্চঃ স্যালাড + প্রোটিন (ডিম/মাছ)
  • ১-৫ দিন ------ বিকেলের নাস্তাঃ ১ কাপ গ্রিন টি, ৫-৬টি বাদাম
  • ৬-১০ দিন ---- বিকেলের নাস্তাঃ ১ কাপ গ্রিন টি, ফলের সালাদ
  • ১১-১৫ দিন --- বিকেলের নাস্তাঃ নারকেলের পানি এবং অল্প শুকনো ফল
  • ১-৫ দিন ------- রাতের খাবারঃ হালকা স্যুপ বা সালাদ, ছোলা
  • ৬-১০ দিন ----- রাতের খাবারঃ রুটি ও সবজি এবং রান্না করুন কম তেলে
  • ১১-১৫ দিন ----- রাতের খাবারঃ হালকা খাবার, স্যুপ, ফল
  • ১-৫ দিন -------- ব্যায়ামঃ ৩০ মিনিট ওয়ার্কআউট + ৩০ মিনিট হাঁটা
  • ৬-১০ দিন ------ ব্যায়ামঃ ৪৫ মিনিট কার্ডিও + ১৫ মিনিট স্কোয়াট
  • ১১-১৫ দিন ----- ব্যায়ামঃ ১ ঘণ্টা জিম/হোম ওয়ার্কআউট

২০২৫ সালের সাম্প্রতিক গবেষণা এবং তথ্য

Medical News Today তাদের তথ্য অনুসারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যদি আপনি ওজন কমাতে চান তাহলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, ক্যালোরি ট্র্যাকিং, উচ্চ-প্রোটিন খাবার, চিনিমুক্ত ডায়েট, ফাইবারযুক্ত খাবার, এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

HealthifyMe প্রদত তথ্য অনুযায়ী জানা যায় আপনি ১৫ দিনে ২-৩ কেজি ওজন কমান তাহলে সেটি নিরাপদ ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ অল্প সময়ে আপনার ক্যালরির ঘাটতি যেমন পড়ে অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যায়াম আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

Quora বিশেষজ্ঞদের মতে জানা যায় ৫ কেজি ওজন কমানো সম্ভব কিন্তু এটি আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ। যদি আপনার দিকনির্দেশনা গুলো ভুল পদ্ধতি হয় তাহলে পেশী ক্ষয়, ডিহাইড্রেশন এবং ক্লান্তি ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। 

১ মাসে ২০ কেজি ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

এক মাসে ২০ কেজি ওজন কমানো আসলেই কি সম্ভব? যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করে থাকেন তাহলে বিভিন্ন গবেষণাপত্র এবং রিসার্চ অনুযায়ী আমি বলবো না। এটি মোটেও বিজ্ঞানসম্মত ভাবে নিরাপদ নয়। আমি অধিকাংশ গবেষণা অনুযায়ী জানতে পারি, প্রতি সপ্তাহে ০.৫ কেজি ওজন কমানো আপনার জন্য নিরাপদ। আপনি যখন দ্রুত সময়ে ওজন কমাতে চাইবেন তখন কড়া ডায়েটের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করবেন এতে করে আপনার পেশির ক্ষতি থেকে শুরু করে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। বিষয়টিকে সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব। 

১ মাসে ২০ কেজি ওজন কমানো আপনার জন্য বাস্তবসম্মত না ঝুঁকিপূর্ণ

  • কত ক্যালরিতে ১ কেজি ওজন বাড়ে জানেন কি? ১ কেজি ওজন বাড়াতে হলে আপনাকে ৭৭০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। আপনি যদি ১ কেজি ওজন কমাতে চান তাহলে ৭,৭০০ ক্যালরি ঘাটতি আপনাকে তৈরি করতে হবে
  • তাহলে যদি ২০ কেজি ওজন কমাতে চান ১,৫৪,০০০ ক্যালরি ঘাটতি দরকার
  • এখন ১ মাস = ৩০ দিন তাহলে আপনাকে ৫,১৩৩ ক্যালোরি কম খেতে হবে এবং এর চাইতে বেশি খরচ করতে হবে
এটি আপনার জন্য কঠিন একটি কাজ এবং আমি মনে করি আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য কখনোই এরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না। 

প্রথম ১৫ দিনের পরিকল্পনা দেখুন

দিন খাদ্য পরিকল্পনা ব্যায়াম পরিকল্পনা
১-৫ দিন সকাল: গরম পানি, সহজ প্রোটিনযুক্ত খাবার
মধ্যাহ্নভোজন: সহজ শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার
বিকেল: গ্রিন টি, বাদাম
রাত: হালকা প্রোটিন ও সবজি
হালকা ব্যায়াম + হাঁটা
৬-১০ দিন সকাল: পানি ও হালকা খাবার
মধ্যাহ্নভোজন: শর্করা নিয়ন্ত্রিত খাবার
বিকেল: ফলমূল ও কম ক্যালোরির খাবার
রাত: হালকা স্যুপ ও সবজি
মাঝারি-স্তরের কার্ডিও + শক্তি ব্যায়াম
১১-১৫ দিন সকাল: সহজ হজমযোগ্য খাবার
মধ্যাহ্নভোজন: সুষম ডায়েট
বিকেল: প্রাকৃতিক পানীয়
রাত: সহজপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবার
উচ্চ-স্তরের কার্ডিও + ভারী ব্যায়াম

দ্বিতীয় ১৫ দিনের পরিকল্পনা দেখুন

দিন খাদ্য পরিকল্পনা ব্যায়াম পরিকল্পনা
১৬-২০ দিন সকাল: আঁশযুক্ত হালকা খাবার
মধ্যাহ্নভোজন: উচ্চ-প্রোটিন ও কম ফ্যাটযুক্ত খাবার
বিকেল: শর্করাবিহীন পানীয়
রাত: সহজ-প্রস্তুত খাবার
১ ঘণ্টা ব্যায়াম + শক্তি প্রশিক্ষণ
২১-২৫ দিন সকাল: নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ খাবার
মধ্যাহ্নভোজন: প্রোটিন ও আঁশ সমৃদ্ধ খাবার
বিকেল: উপকারী স্ন্যাকস
রাত: নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রান্না করা খাবার
ভারী কার্ডিও ও পেশি গঠনের ব্যায়াম
২৬-৩০ দিন সকাল: সাধারণ স্বাস্থ্যকর পানীয়
মধ্যাহ্নভোজন: সহজ হজমযোগ্য ও কম ক্যালোরির খাবার
বিকেল: হালকা পানীয়
রাত: বিশেষ খাদ্য পরিকল্পনা
১ ঘণ্টার বেশি ব্যায়াম

আসুন দেখি গবেষণাপত্র গুলো কি বলে

Blair et al. (2009): আপনি যদি দ্রুত ওজন কমাতে চান তাহলে ক্যালরির ঘাটটি যেমন ঘটে তেমনি ভাবে আপনাকে অধিক শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সেজন্য এটি থেকে বিরত থাকুন কারণ এতে আপনার শরীর এবং স্বাস্থ্য দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Hall & Kahan (2018, NIH): এখান থেকে আমি জানতে পারি দ্রুত ওজন কমানোর ফলে আপনার শরীরের বিপাক হার ধীরগতি হয়ে যেতে পারে যা দীর্ঘদিন পর পুনরায় ওজন বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

Tate et al. (2006, NEJM): গবেষণাতে দেখা যায় দীর্ঘমেয়াদী ওজন কমানোর প্রোগ্রামে ১৮ মাসে ২০ কেজির কাছাকাছি ওজন কমানো সম্ভব। আপনি চাইলে এটি করতে পারেন, তবে ১ মাসে মোটেও আপনার জন্য নিরাপদ নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তা ভাবনা করুন

Colditz (1999, NEJM): গবেষণা থেকে দেখা যায়, যারা ১ মাসে ২০ কেজি ওজন কমানোর প্রচেষ্টা করবে তাদের পেশির ক্ষয়, ডিহাইড্রেশন এবং বিপাক হার কমিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

৩০ দিনে ওজন কমানোর উপায়

৩০ দিনে ওজন কমাতে হলে কিছু দিকনির্দেশনা আপনাকে ফলো করতে হবে। আপনি যদি সাদা ভাত খেতে বেশি পছন্দ করেন তাহলে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। কারণ আপনার এই প্রিয় খাবার ওজন কমানোর পরিবর্তে বাড়াতে সাহায্য করে। ১ প্লেট ভাতে কত ক্যালরি থাকে আপনি কি জানেন? এক প্লেট ভাতে সাধারণত ৩০০-৪০০ ক্যালরি থাকে। গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী ৩০ দিনে ওজন কমানোর কিছু কার্যকরী এবং পদ্ধতি নিয়েই আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। 

কিছু গবেষণার ভিত্তিতে প্রমাণিত তথ্যগুলো দেখুন

ক্যালোরি ট্র্যাকিংঃ এখান থেকে আমি জানতে পারি ডায়েট ট্র্যাকিং এবং ব্যায়াম মনিটরিং এর মাধ্যমে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। আপনি প্রতিদিন কত ক্যালরি খাবার খাচ্ছেন এবং কত ক্যালরি দৈনন্দিন কাজকর্মে খরচ করছেন তা ট্র্যাক করুন অপরদিকে শারীরিক কার্যকলাপ প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে কেমন করছেন সেটি ট্র্যাক করুন। Medical News Today থেকে জানা যায় ক্যালোরি ট্রেকিং এর মাধ্যমে মোটিভেশন বৃদ্ধি করে এবং এটি ব্যবহারিক পরিবর্তন আনে। Medical News Today: How to lose weight fast: 9 scientific ways to drop fat

প্রোটিন, ফ্যাট এবং শাকসবজিঃ Healthline থেকে জানা যায় ওজন কমাতে হলে আপনাকে প্রোটিন,শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কার্ডিও ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ বেশি হয় এবং আপনার ওজন কমতে সাহায্য করে অপরদিকে ওজন প্রশিক্ষণ যার মানে হচ্ছে ওজন উত্তোলন করা যেমন ভারি বস্তু ডাম্বেল, বারবেল ইত্যাদি ব্যবহার করা। এটি আপনার পেশী বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) বাড়াতে সাহায্য করে যা আপনার শরীরে আরো বেশি ক্যালরি বার্ন করে। Science-Backed Tips to Lose Weight Fast and Sustainably

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংঃ Healthline থেকে আরো জানা যায় ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর মাধ্যমে আপনার শরীরের চর্বি অনেকখানি কমে যায়। বিশেষভাবে জনপ্রিয় এবং কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো 16:8 -- 16 ঘণ্টা রোজা  8 ঘণ্টা খাবার গ্রহণ। এটি আপনার শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম বাড়িয়ে দ্রুত ওজন কমতে সাহায্য করে।  How Much Weight Can You Lose in a Month?

বিভিন্ন ধরনের কিছু ব্যায়ামঃ আপনার ওজন কমানোর জন্য দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা ইত্যাদি পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া আপনি ওজন তোলার ব্যায়ামগুলো করলে আপনার পেশী এবং বিপাক বৃদ্ধি পায়। CDC -- Centers for Disease Control and Prevention প্রদত তথ্য অনুযায়ী আপনি ১ মাসে ৪-৮ পাউন্ড (২-৩ কেজি) ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন কারণ এটি স্বাস্থ্যকর লক্ষ্য হতে পারে।  CDC: How Much Weight Can You Lose in a Month?

Very Low-Calorie Ketogenic Diet (VLCKD) এখানে আপনি ৩০ দিনের ডায়েটের মাধ্যমে ওজন কমানোর ফলাফল দেখতে পারবেন। তাছাড়া এই গবেষণাটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।  Predictors of weight loss in patients with obesity treated with VLCKD

Alternate Day Fasting এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছু গবেষণা করা হয়েছে যেখানে ৩০ দিন ব্যবধানে ডায়েটের কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে Effects of weight loss via high fat vs. low fat alternate day fasting diets

আমরা একটি হিসাব করি যদি আপনি ৩০ দিনে ৪-৮ পাউন্ড অথবা ২ থেকে ৩ কেজি ওজন কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন ৫০০ ক্যালোরি কম খেতে হবে এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ৫০০ ক্যালোরি খরচ করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে Healthy Diet Chart For Weight Loss অথবা সুষম ডায়েটের প্ল্যান উল্লেখ করেছি। 

সবার প্রথমে ডায়েট পরিকল্পনা দেখুন 

খাবার ক্যালোরি পুষ্টি উপাদান বিস্তারিত
সকালের নাস্তা ৩৫০ ক্যালোরি প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ১টি ডিম সেদ্ধ + ১টি রুটি + ১টি কলা + ১ কাপ গ্রিন টি
মধ্যাহ্নভোজন ৫০০ ক্যালোরি প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট গ্রিলড চিকেন বা ডাল + ভাত + সবজি (শাক, গাজর, পালংশাক)
বিকেলের নাস্তা ২০০ ক্যালোরি প্রোটিন, ফাইবার ৫-৬টি বাদাম + ১ কাপ গ্রিন টি
রাতের খাবার ৪০০ ক্যালোরি প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন মাছ বা টফু + সবজি (শাক, টমেটো, পেঁপে)
বিকল্প স্ন্যাকস ৩০০ ক্যালোরি প্রোটিন, ফ্যাট ১ কাপ ফল + ১ টুকরো দই

দ্বিতীয়ত ব্যায়ামের পরিকল্পনা দেখুন

ব্যায়াম সময় ক্যালোরি পোড়ানো (প্রতিদিন) বিস্তারিত
কার্ডিও (Running/Cycling) ৩০ মিনিট ২৫০ ক্যালোরি দৌড়ানো বা সাইক্লিং করুন, যা ফ্যাট বার্নে সহায়ক।
হালকা শক্তি প্রশিক্ষণ ২০ মিনিট ১৫০ ক্যালোরি ভারী কিছু তোলার ব্যায়াম বা স্কোয়াট, লুঞ্জ করুন।
HIIT (High-Intensity Interval Training) ১৫ মিনিট ২০০ ক্যালোরি ২০ সেকেন্ড হাই ইনটেনসিটি ব্যায়াম এবং ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম।
মাঝারি হাঁটা ২০ মিনিট ৫০ ক্যালোরি সহজভাবে হাঁটুন, যা আপনার মেটাবলিজম বাড়াবে।

ব্যক্তিগত মতামতঃ মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত আশা করি আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। মা-বোনেরা যারা আছেন সঠিক দিকনির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে অনায়াসেই ওজন কমাতে পারবেন। তবে অতিরিক্ত কোন কিছু করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি একজন ডাক্তারের সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করুন। আপনার শরীর অনুযায়ী কেমন খাদ্যর প্রয়োজন তিনি আপনাকে সবচেয়ে ভালো ডায়েট চার্ট দিতে পারবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি দোয়া রাখি সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url