চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় - ১০টি সেরা আইডিয়া

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় জানতে চান? আপনারা অনেকেই বাড়তি ইনকাম এর পাশাপাশি ঝুকিমুক্ত ব্যবসা করতে আগ্রহী। ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করার পদ্ধতি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

চাকরির-পাশাপাশি-বাড়তি-আয়ের-উপায়

এছাড়া আপনারা যারা শিক্ষকতার পাশাপাশি কি ব্যবসা করা যায় সে সম্পর্কে দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন তাদের জন্যও রয়েছে সেরা কিছু আইডিয়া। চাকরির সাথে সাইড ইনকাম করার যে আইডিয়া গুলো তুলে ধরেছি তা একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার জন্যও প্রযোজ্য। গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য পেতে হলে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্ট সূচীপত্রঃ চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় বর্তমানে আমরা অনেকেই করতে চায়। ব্যক্তিভেদে কারণ বিভিন্ন হতে পারে, অনেকে আছেন যিনি তার পরিবারের খরচ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের জন্য করে থাকেন। তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশের অনেক চাকরিজীবী মনে করেন যে, চাকরির পাশাপাশি হয়তো সময়ের বাইরে আয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমার মতে এমন কিছু সহজ ও সুবিধাজনক মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে বাড়তি আয় করা সম্ভব। এতে আপনার যেমন সময় কম লাগবে এবং আয়ও ভালো হবে। চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় আইডিয়াগুলো এক নজরে দেখে নিন।

প্রথম আইডিয়া ভয়েস অভার ফ্রিল্যান্সার বা কাজ

কাজটি সম্পর্কে আপনাকে যদি সহজ ভাষায় বলি তাহলে আপনার কথা স্পষ্ট, সুন্দর এবং উচ্চারণ ঠিক থাকলে বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও, বিজ্ঞাপন, অডিও বুক ও অনলাইন কোর্সের জন্য ভয়েস রেকর্ড করে আয় করতে পারবেন। এ কাজটির জন্য আপনার সময় আনুমানিক ১-২ ঘন্টা লাগতে পারে। এবং প্রতি প্রজেক্ট এর জন্য আপনি ৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

কাজটি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে সেরা কেন

কাজটি আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ও অল্প সময়ে শেখা যায়। আপনাকে তেমন কোন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় না। যদি আপনার ল্যাপটপ অথবা ডেক্সটপ না থাকে তারপরেও অনায়াসে কাজটি করতে পারবেন। এখন কথা হল অপশন হিসেবে কাজটি সেরা কেন?

  1. এই কাজটি আপনি অফিস শেষ করে রাতে করতে পারবেন
  2. যেহেতু এটি প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ সে ক্ষেত্রে আপনি নিয়মিত না করলেও হবে
  3. এ কাজের চাপ কম ও টাইপিং কাজ যা আপনি শুয়ে থেকে অথবা বালিশে হেলান দিয়ে আরামে এবং রিলাক্স মুডে করতে পারবেন

কাজটি আপনি কোথায় পাবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

সবার প্রথমে ফেসবুকে সার্চ দিন Voice Over Job Bangladesh। এরপর আপনার চোখের সামনে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ শো করবে। সেগুলোর মধ্যে থেকে ভালো এবং বিশ্বস্ত গ্রুপ যাচাই-বাছাই করে তাদের সাথে যুক্ত হন। তাছাড়া  Fiverr.com, Upwork.com এগিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি গিগ তৈরি করুন। গিগ কিভাবে তৈরি করতে হয় সে সম্পর্কে ইউটিউবে অনেক ভিডিও পেয়ে যাবে। এছাড়া আপনি Voice123.com" ও "Voquent.com প্লাটফর্মে গিয়ে সাইনআপ করে প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন।

দ্বিতীয় আইডিয়া অনলাইন কোর্স তৈরি করে

কাজটি যদি সহজ ভাষায় আপনাকে বুঝিয়ে দি তাহলে, এই কাজটি করার জন্য কোন একটি বিষয়ে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে। যেমনঃ  Excel, প্রেজেন্টেশন, বাংলা সাহিত্য ইত্যাদি টপিক গুলো নিয়ে ভিডিও বা PDF বানিয়ে অনলাইন কোর্স তৈরি করতে পারেন। আপনার নিজের মধ্যে কোন ট্যালেন্ট বিদ্যমান রয়েছে সেটি খুঁজে বের করুন।

সময় কেমন লাগতে পারে এবং ইনকাম কেমন

  1. এ কাজের জন্য আপনার  ১–২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
  2. ইনকামের কথা যদি বলি তাহলে প্যাসিভ ইনকাম হিসেবে প্রতি বিক্রিতে ২০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
  3. কাজটি যদি আপনার কাছে কঠিন বা সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে না থাকেন তাহলে youtube অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওর মাধ্যমে জানার পাশাপাশি শিখে নিতে পারবেন।

কাজটি কেন করবেন এবং আপনার জন্য বেস্ট অপশন কেন

এই কাজটি একবার লক্ষ্য করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, অনলাইন কোর্স একবার তৈরি করলে সেখান থেকে আজীবন আপনি ইনকাম করতে পারবেন। পরবর্তী শুধু সময়ের সাথে কোর্সগুলো আপডেট করতে হবে। বেস্ট অপশন আমি এজন্য বললাম কারণ ছুটির দিনে বসে আপনি ভিডিও তৈরি করতে পারবেন পাশাপাশি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা যায় ও অফিসের কাজ শেয়ার করেও ইনকাম করতে পারেন।

কাজটি আপনি কোথায় পাবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

আপনার তৈরিকৃত কোর্সগুলো 10 Minute School, ClassGap, Udemy ইত্যাদিতে আপলোড করতে পারেন। এছাড়া Thinkific এবং Teachable এ সমস্ত প্লাটফর্ম গুলোতে কোর্স বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন। আর একটি প্ল্যাটফর্ম যেমন facebook এখানে আপনার নিজের পেইজে প্রমোশন করে বিক্রি শুরু করতে পারেন।

তৃতীয় আইডিয়া কুরিয়ার পার্সেল পিক আপ

মনে করেন আপনি একটি দোকান চালান এবং বাসায় থাকেন। কুরিয়ার কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছেন যে, তোমার জায়গাটা এখান থেকে তাদের একটা পিক আপ পয়েন্ট (একটি নির্দিষ্ট জায়গা যেমনঃ দোকান, বাসা অথবা অফিস, সেখান থেকে ডেলিভারি ম্যান পার্সেল আনতে অথবা নিতে আসবে) হবে। 

এই কাজের জন্য কি ব্যবসা থাকতে হবে

  1. প্রথমত আপনাকে বলে রাখি এই কাজের জন্য কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত কোন ব্যবসা থাকতে হবে না
  2. কুরিয়ার সার্ভিস আপনার বাসায় পণ্য রেখে যাবে এবং কাস্টমার সেখান থেকে সংগ্রহ করবে
  3. আপনার লোকেশন ভালো হলে অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে
  4. এ কাজের জন্য আপনাকে বিশ্বস্ত এবং দায়িত্ববান হতে হবে।

আপনার সময় কেমন লাগবে এবং ইনকাম কেমন হতে পারে

  1. এ কাজের জন্য আপনাকে দিনে ৩০-৬০ মিনিট সময় ব্যয় করতে হবে
  2. এ কাজের জন্য প্রতি পার ছেলে আপনি ১৫-৩০ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।
  3. মাসিক আয় আনুমানিক ২০০০-৬০০০ টাকা হতে পারে।

কাজটি আপনি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে বেস্ট কেন

প্রথমত আপনাকে বলে রাখি, এ কাজের জন্য আপনাকে কোনরকম পুঁজি ব্যয় করতে হবে না এবং বাড়িতে বসে খুব সহজে ইনকাম করা যায়। বেস্ট অফ অপশন হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে আপনার বাসায় কেউ থাকলে সহজে ম্যানেজ করে পারত নেওয়া যায় এবং অল্প সময় ও নিরবিচারে কাজটি চলতে পারে।

কাজটি কোথায় পাবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

সবার প্রথমে আপনি REDX, Paperfly, eCourier, Pathao এই সমস্ত কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটে Become a pickup point গিয়ে আবেদনের কাজ সম্পন্ন করুন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক সেখানে গিয়ে Courier Partner লিখে সার্চ দিন এবং একটু কষ্ট করে খুঁজলেই আপনি অনেক নতুন লোক খোঁজা হচ্ছে এমন অনেক পোস্ট পাবেন।

চতুর্থ আইডিয়া ডিজিটাল পণ্য তৈরি এবং বিক্রি

এ কাজটি করার জন্য আপনার মধ্যে ডিজাইন তৈরি করার স্কিল থাকতে হবে। Canva/Word দিয়ে Planner, Resume Template বা Printable ইত্যাদি ডিজাইন করে বিক্রি করতে পারবেন। কেমন করে ডিজাইন করবেন যদি না জানেন তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে শিখে নিতে পারেন। 

ইনকাম এবং সময় আপনার কেমন লাগতে পারে

  1. যেহেতু আপনি প্রথম অবস্থায় শুরু করবেন সেক্ষেত্রে ৪-৫ ঘন্টা লাগতে পারে
  2. পরবর্তীতে আপনি যদি কাজটি নিয়মিত চালু রাখেন তাহলে সময় আরো কম লাগবে।
  3. ইনকামের কথা যদি বলি তাহলে প্রতিফাইলে আপনি ২০০-৫০০ টাকা অব্দি ইনকাম করা সম্ভব

আপনার জন্য বেস্ট অপশন কেন এবং কাজটি কেন করবেন

কাজটি আপনার এই জন্য করা উচিত কারণ একবার ডিজাইন সম্পন্ন হয়ে গেলে সেটি আপনি বারবার বিক্রি করতে পারবেন। আপনার অফিস যখন ছুটি থাকবে সে সময় ডিজাইন কমপ্লিট করে রাখলে প্যাসিভ ইনকাম হয় এবং আপনার ব্যবহার করার টেমপ্লেটও বিক্রি করা যায়

কাজটি কোথায় পেতে পারেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

সবার প্রথমে আপনার কাজ হলো Etsy.com, CreativeMarket.com –এ সমস্ত প্ল্যাটফর্মে গিয়ে একাউন্ট খুলে পণ্য আপলোড করুন। দ্বিতীয় ধাপে আপনি ফেসবুক গ্রুপ যেমনঃ Digital Product Buy Sell বা Template Marketplace খুঁজে বের করে মার্কেটিং শুরু করুন

পঞ্চম আইডিয়া বাংলা কনটেন্ট রাইটিং

কাজটি সম্পর্কে হয়তো বা আপনি কমবেশি সোশ্যাল মিডিয়া শুনে থাকবেন। কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে যদি আপনাকে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেই তাহলে বিভিন্ন ব্লগ, ফেসবুক পেজ, youtube স্ক্রিপ্ট বা নিউজ সাইটের জন্য আপনাকে আর্টিকেল লিখতে হবে। কনটেন্ট রাইটিং সম্পর্কে যদি আপনার কোন রকম অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান না থাকে তাহলে একটু শিখে নিতে হবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। কাজটি অত্যন্ত সহজ এবং আমি আশা রাখি ১৫-৩০ দিনের মধ্যে শিখতে পারবেন। কারণ আমি নিজে একজন আর্টিকেল রাইটার।

ইনকামের পাশাপাশি সময় কেমন লাগতে পারে

  1. নতুন অবস্থায় একজন কন্টেন্ট রাইটারের জন্য সময় বেশি লাগবে এটা স্বাভাবিক
  2. যখন আপনি নিয়মিত কনটেন্ট লিখবেন সময় আস্তে আস্তে কম লাগবে
  3. সময় কেমন লাগবে এটি নির্দিষ্ট ভাবে বলা একটু কঠিন। এটি নির্ভর করবে আপনার নিজের উপর
  4. তবে আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী একজন প্রফেশনাল কন্টেন্ট রাইটারের জন্য ৪ ঘন্টা লাগতে পারে প্রতি লেখার জন্য ২০০-৫০০ টাকা ইনকাম হতে পারে

কাজটি কেন সেরা অপশন এবং কাজটি কি আসলেই করা উচিত

আপনি লেখালেখি জানলে খুব অল্পেই শুরু করতে পারবেন। চাকরির ফাঁকে ফাঁকে রাত অথবা ছুটির সময় লিখতে পারবেন। আপনি যদি মানসম্মত কনটেন্ট লিখতে পারেন তাহলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাজটি কোথায় পাবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

Bangla Tribune, BDNews24 ব্লগ, Roar Bangla ইত্যাদি প্লাটফর্ম গুলোতে ফ্রিল্যান্স রাইটারের ভালো চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া ফেসবুকে যেমনঃ Bangla Content Writers, Freelance Content Jobs BD ইত্যাদি পেজ অথবা গ্রুপ গুলোতে খুঁজে দেখতে পারেন।

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের অতিরিক্ত ৫ টি আইডিয়া

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির। বর্তমান বাজার অনুযায়ী সংসার চালাতে অনেকে হিমশিম খেয়ে যান। চাকরির বেতন যেহেতু সীমিত তা দিয়ে অনেক সময় সংসারের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। আপনি যদি উচ্চ পদের চাকরি করে থাকেন তাহলে হয়তো বা চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের চাহিদা আপনার নাও থাকতে পারে। কিন্তু যারা চাচ্ছেন চাকরির পাশাপাশি ইনকাম করতে তাদের জন্য আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে কিছু আইডিয়া নিয়ে এসেছি। শুরু করার আগে বলে রাখি নিচের ৫ টি আইডিয়া জানার আগে, প্রথমে কিছু আইডিয়া উল্লেখ করেছি সেগুলো অবশ্যই দেখবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক ফুলটাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করার পদ্ধতি।

প্রথম আইডিয়া নিজের পণ্যের ফেসবুক পেজ চালানো

এ কাজের জন্য আপনি ঘরে তৈরি পণ্য, গিফট আইটেম, পোশাক অথবা বাচ্চাদের জিনিস আপনার নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। এখন আপনার যদি নিজের কোন পণ্য না থাকে তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাজটি শুরু করতে পারবেন। এ কাজটির জন্য পণ্য অথবা ডেলিভারি কিছুই আপনাকে করতে হবে না। কাজটি আপনি কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিত দেওয়া আছে। আপনি চাইলে দেখে শিখে নিতে পারেন। কাজটি অত্যন্ত সহজ এবং ঝামেলা মুক্ত।

ইনকাম এবং সময় কেমন লাগবে

এ কাজটির জন্য আনুমানিক সময় ১ ঘন্টা লাগতে পারে। যেমনঃ মেসেজ রিপ্লাই, পোস্ট করা এবং অর্ডার নেওয়া। এখন ইনকামের কথায় আসি, ইনকাম কেমন হবে এটি নির্ভর করবে আপনার পণ্যের ওপর। তবে আপনি মাসে আনুমানিক ২০০০–১৫০০০ টাকা বা তার বেশি উপার্জন করতে পারেন

কাজটি কেন করা উচিত এবং অপশন হিসেবে কেমন

এ কাজের জন্য আপনাকে আহামরি পুঁজি খরচ করতে হবে না অথবা আপনি কম বুঝি দিয়ে কাজটি শুরু করতে পারেন। একটু ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে আস্তে আস্তে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব। আপনার চাকরির ফাঁকে ফাঁকে ফুলের মাধ্যমে সবকিছু ম্যানেজ করতে পারবেন। এছাড়া আপনার এই কাজের জন্য ফ্যামিলির কেউ প্যাকেজিং অথবা ডেলিভারি করতে পারলে আপনার চাপ কমে যাবে। কাজটির সাথে যদি আপনি আঠার মত লেগে থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে বড় ব্যবসায় রূপান্তর করা সম্ভব।

কিভাবে শুরু করবেন এবং কাজটি কোথায় পাবেন

আপনার যদি ফেসবুক পেজ না থাকে তাহলে সেটি খোলার পর নিজের পণ্য ছবি তুলে প্রমোশন করা শুরু করুন। এছাড়া লোকাল গ্রুপে পোস্ট দিন যেমন Buy and Sell BD, Handmade Products BD ইত্যাদি। তাছাড়া ডেলিভারি শুরু করার জন্য আপনাকে Pathao Courier, Paperfly গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

দ্বিতীয় আইডিয়া ট্রাভেল ব্লগ লেখা

এ কাজটির জন্য আপনাকে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিখতে হবে, ছবিসহ গাইড বানানো, স্থানীয় খাবার অথবা ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে। আপনি যদি ভ্রমণ লাভার অথবা খাবার লাভার হয়ে থাকেন তাহলে এ কাজটি আপনার জন্য বেস্ট অপশন।

ইনকাম এবং সময় কেমন লাগতে পারে

ইনকাম শুরুর দিকে আপনার কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু এরপর google এডসেন্স, স্পন্সর এবং এফিলিয়েট থেকে ইনকাম শুরু হবে। সময় কেমন লাগতে পারে এটি নির্ভর করবে আপনার উপর।

কাজটি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে কেমন

আপনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আয় করতে পারবেন এবং একটি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং তৈরি করা যায়। আপনি ছুটির দিনে ঘুরতে গিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। নিজের ভাষায় লিখে সময় মত পোস্ট করলেই চলবে। তাছাড়া আপনার চাপ নেই এবং একদম নিজের মতো করে সবকিছু করা যায়।

কাজটি কোথায় পাবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন

আপনি সবার প্রথমে Medium.com, Blogspot.com ইত্যাদি প্লাটফর্মে বা নিজের ওয়েবসাইটে ব্লগ শুরু করতে পারেন। আপনার যদি ইউটিউব অথবা ফেসবুক থাকে তাহলে সেখানে ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করতে পারেন। তাছাড়া যেগুলো পর্যটক পেজ রয়েছে যেমনঃ Desh Bidesh, Travel Lover BD ইত্যাদিতে গেস্ট পোস্ট দিতে পারেন।

তৃতীয় আইডিয়া ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

এ কাজটি যদি সংক্ষিপ্ত ভাষায় বলি তাহলে বিদেশি অথবা দেশি উদ্যোক্তাদের হয়ে আপনাকে ইমেইল চেক করা, ডাটা এন্ট্রি, ক্যালেন্ডার ম্যানেজমেন্ট ও মেসেজ রিপ্লাই এর কাজ করতে হবে। কারণ অনেক উদ্যোক্তা অথবা ব্যবসায়ী তাদের ব্যস্ততার জন্য ঠিকমতো সময় পান না তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো পরিচালনার জন্য।

ইনকাম এবং সময় কেমন লাগবে

এ কাজের জন্য আপনার দিনে ১–২ ঘণ্টা বা তার বেশি লাগতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে আপনার নিজের উপর। আপনি নতুন অবস্থায় একটু সময় বেশিও লাগতে পারে। তবে নিয়মিত কাজটি পরিচালনার মাধ্যমে সময়ের ব্যবধান অনেকখানি কমে যাবে। মাসিক ইনকামের কথা যদি বলি তাহলে ৫০০০–১৫০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। এটি সাধারণত নির্ভর করবে ক্লায়েন্টের উপর।

কাজটি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে কেমন

আপনার যদি ইংরেজি এবং কম্পিউটার স্কিল থাকে তাহলে সহজেই শুরু করতে পারবেন। আপনার অফিস শেষ হওয়ার পর রাতে বসে খুব আরামে করতে পারেন। খুব ভালো হয় যদি আপনি এ কাজের জন্য নিজের সিডিউল তৈরি করে নিতে পারেন। এছাড়া আপনার অফিসের বাস্তব অভিজ্ঞতাও এই কাজে আসে।

কাজটি কিভাবে শুরু করবেন এবং কোথায় পাবেন

Upwork.com, OnlineJobs.ph, Freelancer.com ইত্যাদি সাইটে আপনি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর চাকরি পাবেন। এছাড়া আপনি ফেসবুক Virtual Assistant Jobs BD লিখে সার্চ দিলে অনেক গ্রুপ পেয়ে যাবেন এবং সেখানে আপনার পছন্দমত যেগুলো বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য সেগুলোর সাথে যুক্ত হতে পারেন। আরেকটি প্লাটফর্ম Linkedin এখানে গিয়ে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে Remote Virtual Assistant লিখে সার্চ করুন। তাহলে অনেকগুলো ইনফরমেশন পেয়ে যাবেন।

চতুর্থ আইডিয়া ইউটিউব শর্টস অথবা ফেসবুক রিলস তৈরি

এ ধরনের কাজ বা কথাগুলো হয়তো বা আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কমবেশি শুনে থাকবেন। আপনি যদি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই ইউটিউব অথবা ফেসবুকে শর্টস বা রিলস দেখে থাকবেন। ৩০-৬০ সেকেন্ডের মজাদার অথবা শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব ও ফেসবুকে আপলোড করার মাধ্যমে আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

সময় কেমন লাগবে এবং ইনকাম

এ কাজের জন্য যদি আপনি প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সময় দেন তাহলে যথেষ্ট। এর চাইতে যদি আরও বেশি সময় দেন তাহলে সেটি আপনার জন্য আরো লাভজনক। আপনার ভিডিও যদি ভাইরাল হয় তাহলে এডসেন্স ইনকাম + Sponsorship এর মাধ্যমে শুরু থেকে ইনকাম কম হবে কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে পরে অনেক বেশি হতে পারে।

কাজটি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে কেমন

কাজটি আপনি এজন্য করবেন কারণ এখানে বিনিয়োগ ছাড়াই নিজের কনটেন্ট তৈরি করে ইনকাম করা যায়। আপনি অফিস থেকে ফেরার পর ঘরে বসেই মোবাইলে শুয়ে অথবা বালিশে হেলান দিয়ে রিলাক্সে করতে পারবেন। আপনি যেকোন বিষয়ে ভিডিও বানাতে পারবেন তবে মনে রাখবেন বর্তমানে কোন বিষয় বেশি চলছে এবং মানুষের চাহিদা কি সেটা অবশ্যই বুঝতে হবে। আপনার ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হলে ইনকামও দ্রুত বাড়বে।

কিভাবে শুরু করবেন এবং কোথায় কাজ পাবেন

YouTube চ্যানেল ও Facebook Page পেজ খুলে চেষ্টা করবেন কনটেন্ট গুলো নিয়মিত আপলোড করার। ভিডিও এডিটের জন্য আপনি CapCut, InShot অ্যাপস গুলো অত্যন্ত কার্যকর এবং মোবাইলে ভিডিও এডিট করা যায়। এছাড়া আপনি টপিক খুঁজতে TikTok ও YouTube ট্রেন্ড ফলো করতে পারেন

পঞ্চম আইডিয়া বই পড়ে রিভিউ লেখা অথবা ভিডিও করা

সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনি নতুন অথবা জনপ্রিয় বই পড়ে তার সারাংশ, ভালো দিক ও মতামত লেখা বা ভিডিও তৈরি করা। আমার মতে কাজটি আপনি একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। ইনশাল্লাহ আশা করা যায় ভালো ফলাফল পাবেন।

ইনকাম এবং সময় কেমন লাগবে

আপনি সপ্তাহে ১ টি বই এবং তার সঙ্গে ১ ঘন্টা রিভিউ লেখা অথবা ভিডিও বানানো। ইনকামের বিষয় যদি বলি তাহলে বই প্রকাশনা থেকে স্পন্সর, বই বিক্রির অ্যাফিলিয়েট কমিশন এবং ফেসবুক ও ইউটিউব মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

কাজটি কেন করবেন এবং অপশন হিসেবে কেমন

এর মাধ্যমে সবচেয়ে উপকার যেটি হয় তাহলে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয় এবং নিজের চিন্তা ধারা প্রকাশের সুযোগ থাকে। চাকরির স্ট্রেস কমাতে আমার মতে বই পড়া বেশ কার্যকর। এছাড়া আপনি নিজের মতামত দিয়ে এই মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন। এ কাজটি রাতে অথবা ছুটির দিনে অনায়াসে করা যায়।

কিভাবে শুরু করবেন এবং কোথায় কাজ পাবেন

আপনার নিজের ফেসবুক পেজ বা youtube চ্যানেল খুলে কাজটি শুরু করতে পারেন। তাছাড়া বই প্রকাশনার প্রতিষ্ঠান যেমনঃ Rokomari, Baatighar ইত্যাদি প্লাটফর্মে স্পন্সর দিতে পারে। এছাড়া আপনি রিভিউ লেখা থেকে শুরু করে বাংলা ব্লগ বা মিডিয়াম ডটকমে গ্যাস পোস্ট হিসেবে দিতে পারেন।

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করার সেরা কিছু উপায়

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করার আইডিয়া আপনার জন্য চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। যদি আপনি চাকরি এবং ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন। শুধু ব্যবসা করলে হবে না, কি ধরনের ব্যবসা করবেন সে সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। ব্যবসার ধারণা অনুযায়ী আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন গবেষণা এবং রিসার্চ থেকে কিছু আইডিয়া সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি। হতে পারে সেগুলো চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার জন্য সেরা কিছু আইডিয়া। তাহলে চলুন, চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করার কিছু আইডিয়া দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম ব্যবসা অর্গানিক ফার্ম প্রোডাক্টসের স্টোর

আপনি যদি একটু খেয়াল করে দেখেন তাহলে বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি অর্গানিক পণ্য চাহিদা বেড়েই চলেছে। এ কাজের জন্য আপনি স্থানীয় যে সমস্ত কৃষক রয়েছে তাদের থেকে অর্গানিক শাকসবজি, ফল, ডাল, মধু ইত্যাদি সংগ্রহ করে প্যাকেজিং এর মাধ্যমে শহরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

এটি আপনার জন্য কেন লাভজনক

  1. বর্তমানে বাংলাদেশে অর্গানিক পণ্যের বাজার এখনো সম্পূর্ণরূপে উন্নত হয়নি
  2. আপনি উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন, এক্ষেত্রে আপনার মুনাফা ২০-৩০% বেশি হবে
  3. আপনি চাকরি অথবা কাজের পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করে কৃষিজ পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে পরিচালনা করতে পারবেন

কিভাবে শুরু করবেন এবং ইনভেস্ট ও আয় কেমন হতে পারে

প্রাথমিক অবস্থায় ১-২ লক্ষ টাকা লাগতে পারে সেটি প্যাকেজিং, স্টোর রেন্ট এবং মার্কেটিং এর জন্য। মাসিক আয় আপনার আনুমানিক ৩০-৫০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এই পরিমাণ আরো বাড়বে যখন আপনার গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাই কাজটি যদি আপনার বাজেটের মধ্যে থাকে তাহলে অনায়াসে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনাকে

অবশ্যই সৎ হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন facebook, instagram ইত্যাদি প্লাটফর্মে আপনার অর্গানিক পণ্যের ভিডিও শেয়ার করুন। মানুষ যেন জানতে পারে আপনার একটি অর্গানিক ব্যবসা রয়েছে। তাছাড়া আপনার একটি ছোট স্টোর লাগবে। আমার মতে স্টোর এর জন্য আপনার এলাকা পারফেক্ট হবে। এছাড়া আপনার বাসায় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা থাকে তাহলে সেখানে শুরু করতে পারেন অনায়াসে।

দ্বিতীয় ব্যবসা খাবার অথবা কেক তৈরি

খাবার অথবা কেক তৈরির ব্যবসা আপনার জন্য লাভজনক সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে কাস্টমাইজড কেক, বার্থডে কেক ইত্যাদি তৈরি করে আপনি বাড়তি আয় করতে পারবেন। কাজটি শুরুর জন্য আপনার এলাকার নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এরপর ব্যবসা যখন ভালোভাবে বৃদ্ধি পাবে তখন এটি সবখানে ছড়িয়ে দিন।

এই ব্যবসা কেন লাভজনক

কেক খেতে কার না ভালো লাগে বলুন। ছোট থেকে শুরু করে বড় সবাই এটি পছন্দ করে। এটি জনপ্রিয় এবং চাহিদাপূর্ণ পণ্য। কেক এবং কাস্টম খাবারের প্রতি বর্তমানে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনি বিক্রি করে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। সেজন্য ভালোভাবে পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং মার্কেটিং করুন।

কাজটি কিভাবে শুরু করবেন এবং ইনভেস্ট ও আয়

  1. সবার প্রথমে আপনাকে কেক বা খাবারের জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে
  2. দ্বিতীয় ধাপে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া অথবা বাজারে প্রমোট করুন এবং স্থানীয় যে সমস্ত ক্লায়েন্ট রয়েছে তাদের কাছ থেকে অর্ডার নিন
  3. এই কাজটি শুরু করার জন্য প্রাথমিক অবস্থায়  ১০,০০০-২০,০০০ টাকা ইনভেস্ট করা লাগতে পারে
  4. ইনকামের কথা যদি বলি তাহলে প্রতি মাসে ২০,০০০-৩০,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

আপনার এই ব্যবসা প্রচার প্রচারণার জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।আপনি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে যদি ভালো প্রচার করতে পারেন পাশাপাশি টাকা ইনভেস্ট করে ও বুষ্টিং করে তাহলে ইনশাল্লাহ আপনি এ ব্যবসায় সাকসেস হবেন।

তৃতীয় ব্যবসায় কফি শপ বা ছোট ক্যাফে

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার নিজের এলাকা অথবা আপনি যেখানে চাকরি করেন তার কাছাকাছি একটি কফিশপ খুলতে পারেন। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে একটু সুখের আশায় মানুষ কফি শপ এ আসবেই। কারণ কফিতে যখন চুমুক দেওয়া হয় সারাদিনের হাজারো ক্লান্তি এবং পেরেশানি কিছুটা হালকা হয়। এতে আপনার জন্য লাভ জনকব্যবসা হতে পারে। তাছাড়া সেই শপ এ আপনার সাথে যারা চাকরি করেন অথবা আশেপাশে যে সমস্ত চাকরিজীবীরা রয়েছে তারা মাঝখানে বিরতিতে আসতে পারেন।

এটি কি আপনার জন্য লাভজনক হতে পারে

বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে যদি আপনি দেখেন তাহলে কফি শপ ব্যবসার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সর্বদা উচ্চ চাহিদা রয়েছে। সেজন্য আপনাকে ভালোভাবে কফি প্রস্তুত করতে হবে এবং চেষ্টা করবেন কিভাবে প্রতিনিয়ত আপডেট করা যায়। কফি শপ হচ্ছে ছোট বিরতি, লাঞ্চ ব্রেক ইত্যাদির জন্য ভালো একটি জায়গা।

কাজটি কিভাবে শুরু করবেন এবং ইনভেস্ট ও আয়

  1. কাজটি শুরু করার জন্য প্রথমে আপনি ছোট জায়গায় একটি কফি শপ চালু করুন
  2. কফি প্রস্তুত করার জন্য ভালো মেশিন এবং কফি সাপ্লাইয়ের জন্য ভালো, বিশ্বস্ত ও যোগ্য কোম্পানির সাথে চুক্তি করুন
  3. চেষ্টা করবেন পরিবেশ সুন্দর এবং আরামদায়ক রাখার যেন মানুষ কাজের ফাঁকে বসে আপনার কফি উপভোগ করতে পারেন
  4. সবচেয়ে বেশি যেখানে আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো সোশ্যাল মিডিয়া এবং লোকাল বিজ্ঞাপনে আপনার এই ব্যবসা সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা চালানো
  5. প্রাথমিক অবস্থায় আপনাকে ইনভেস্ট করা লাগতে পারে ১,০০,০০০-৫,০০,০০০ টাকা। এটি সবকিছু মিলিয়ে কফি মেশিন, জায়গা ভাড়া, সাজ-সজ্জা ইত্যাদি
  6. প্রতি মাসে আপনার আনুমানিক আয় হতে পারে ৩০,০০০-৮০,০০০ টাকা, তবে এটি নির্ধারিত নয় সময় এবং আপনার ব্যবসার বৃদ্ধির পাশাপাশি ইনকামের হার বাড়বে।

চতুর্থ ব্যবসা বেডশীট এবং হোম ডেকোর ব্যবসা

বর্তমানে বেডশীট, পর্দা এবং ডেকোরেটিভ আইটেমের প্রতি মানুষের চাহিদা বেড়েই চলেছে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে ওঠে। এই ব্যবসাটি আপনি অফলাইন এবং অনলাইনে খুব অনায়াসে বিক্রি করতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে আপনার ভালো লাভ হতে পারে।

ব্যবসাটি কেন লাভজনক

বিশ্বজুড়ে হোম ডেকোর মার্কেট গুলো অনেক বড় এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত অফিসের কর্মীরা তাদের বাসার জন্য মানসম্মত আইটেম কিনতে আগ্রহী। এছাড়া সবচাইতে বেশি যাদের আগ্রহ দেখা যায় তারা হলেন ঘরের মা-বোনেরা। তারা সবসময় চেষ্টা করে নিজেদের ঘরকে সুন্দর এবং পরিপাটি দেখানোর। আপনি হোম ডেকোর এবং বেড সিটের ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করতে পারেন

কিভাবে শুরু করবেন

  • সবার প্রথমে আপনি স্থানীয় বাজার থেকে সেরা পণ্য সংগ্রহ করুন এবং সেটি ছোট আকারে বিক্রি করতে শুরু করুন
  • দ্বিতীয় ধাপে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েবসাইটে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে মানুষকে অবগত করুন
  • তৃতীয় ধাপে আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন ভালো পণ্য এবং ভালো সেবা প্রদান করতে

ব্যবসার জন্য ইনভেস্ট এবং আনুমানিক আয় কেমন

এই ব্যবসার জন্য প্রাথমিক অবস্থায় আপনাকে ২০,০০০-১,০০,০০০ টাকা খরচ করতে হতে পারে, এবং প্রতি মাসে আপনার আনুমানিক আয় ১৫,০০০-৪০,০০০ টাকা হতে পারে। আপনার ব্যবসার বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাকার পরিমান আরো বাড়বে, যদি আপনি ভাল ভাবে সার্ভিস প্রদান করতে পারেন তবে।

পঞ্চম ব্যবসা ইন্ডোর প্লান্টস

আজকাল আপনি খেয়াল করে দেখবেন বেশিরভাগ অফিস অথবা বাসায় গাছপালা দেখতে পাওয়া যায়। এর মনোরঞ্জন এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এটি আমাদের মনকে ছুঁয়ে যায়। তাছাড়া এটি আপনি যেখানে রাখবেন সেখানকার সৌন্দর্য বেড়ে যায়। আপনার ব্যবসা হতে পারে এক্সক্লুসিভ ইন্ডোর গাছের দোকান। এটি শুধু আপনি অফিস অথবা বাসার জন্য বিক্রি করবেন।

ব্যবসাটি আপনার জন্য কেন লাভজনক

গাছগুলো যখন অফিসে রাখা হয় তখন প্রফেশনাল ইমেজ তৈরির পাশাপাশি কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়। আপনি চাইলে ব্যবসাটি শুরু করে দেখতে পারেন।

কাজটি কিভাবে শুরু করবেন

  1. সবার প্রথমে আপনাকে ভালো মানের গাছ সংগ্রহ করতে হবে
  2. এগুলো বিভিন্ন অফলাইন অথবা অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি করতে হবে
  3. আপনার এই ব্যবসা সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে
  4. যদি আপনি শহরে থাকেন তাহলে কম খরচে একটি দোকান অথবা স্টল দিয়ে শুরু করতে পারেন

আনুমানিক ব্যয় এবং আয় কেমন হতে পারে

এই কাজের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় আপনাকে ইনভেস্ট করা লাগতে পারে ৪৬,০০০ টাকা মতো। এছাড়া দোকান ভাড়া, পরিবহন ও মার্কেটিং ইত্যাদির জন্য ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। লাভের কথা যদি বলি তাহলে আপনার বিক্রি বাড়লে ২-৩ মাস পর  ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা লাভ হতে পারে। তাছাড়া আপনি যদি ৫০ টি গাছ বিক্রি করতে পারেন তাহলে প্রতি মাসে ২৫,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা নতুনদের জন্য শুরু করার পরামর্শ

চাকরির পাশাপাশি যদি আপনার উদ্যোক্ত হতে চান তাহলে এটি আপনার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং এবং আকর্ষণীয় লক্ষ্য হতে পারে। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করতে চায়। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনাকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ চাকরি এবং উদ্যোক্তা দুটি কাজ একসাথে বহন করা বেশ কঠিন হতে পারে। উদ্যোক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে পরিকল্পনা, সময় পরিচালনা, পুজি সংগ্রহ ইত্যাদি প্রয়োজন। চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্ত হওয়ার জন্য কি কি প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার তা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।

প্রথম ধাপ আপনার পরিকল্পনা এবং লক্ষ্য নির্ধারণ

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনাকে একটি পরিষ্কার এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আপনি যে ব্যবসা শুরু করবেন বলে নিয়ত করে রেখেছেন তার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনার লক্ষ্যর মধ্যে যদি গন্ডগোল থাকে তাহলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাবে। সেজন্য সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্যবসার জন্য কি ধরনের অর্থ প্রয়োজন, কোথায় শুরু করবেন এবং এর লক্ষ্য কি হবে সবকিছু আগে থেকে নির্ধারণ করতে হবে। পরিকল্পনা হয়ে গেলে একটি রোড ম্যাপ তৈরি করতে হবে যাতে আপনি বুঝতে পারেন কিভাবে কাজগুলোকে অগ্রসর করবেন

দ্বিতীয় ধাপ সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন

যেহেতু আপনি একজন চাকরিজীবী এবং উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্ত হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে কাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। এর জন্য আপনি সময়সূচী তৈরি করতে পারেন। এতে করে একটি সুবিধা হবে চাকরি এবং ব্যবসার সময় আপনি খুব অনায়াসে ভাগ করে নিতে পারবেন। সময় ব্যবস্থাপনা আপনি ঠিক রাখতে পারলে ব্যবসার পরিষদ বাড়ানো সম্ভব।

তৃতীয় ধাপ আপনাকে পুঁজি সংগ্রহ করতে হবে

আপনি উদ্যোক্তা হতে চাইলে অবশ্যই মূলধন বা পুঁজি থাকতে হবে। আপনার মূলধন বা পুঁজির ব্যবস্থা যদি হয়ে যায় তাহলে আপনি যে ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন, সেখানে কিছু অল্প অর্থ বিনিয়োগ করে শুরু করতে পারেন। যেহেতু আপনি একজন চাকরিজীবী সেক্ষেত্রে পুঁজি জোগাড় করতে আপনার চাকরি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শুরু করে দিন এবং আস্তে আস্তে এক সময় আপনার ব্যবসা বড় করতে পারবেন।

চতুর্থ ধাপ অভিজ্ঞতা এবং নেটওয়ার্ক তৈরি করা

চাকরি করতে করতে আপনি বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করেছেন যা আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সাহায্যকারী হতে পারে। আপনার কর্মক্ষেত্রে যেসব নতুন দক্ষতা শিখেছেন সেগুলো আপনি ব্যবসা পরিচালনায় কাজে লাগাতে পারবেন। তাছাড়া নেটওয়ার্ক তৈরি করার মাধ্যমে একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে বন্ধু ও পরামর্শক পেতে পারেন। এতে করে তারা আপনাকে সহায়তা করবে এবং আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে তারা সমাধান করবে। এজন্য আপনি চেষ্টা করবেন সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার।

পঞ্চম ধাপ আপনার মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা

দেখুন উদ্যোক্তা হওয়া অত সহজ নয়। কিছু কঠিন পদক্ষেপ আপনাকে নিতে হবে। ব্যবসা মানে ঝুঁকি থাকবে এটি অস্বীকার করার খুব একটি সুযোগ নেই। কিন্তু আপনাকে এই ঝুঁকি সামলানোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই এটি ভেবে দেখবেন এবং এর সঠিক ফল আসবে কিনা, লাভ কেমন হতে পারে সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ষষ্ঠ ধাপ শক্তিশালী মনোবল রাখতে হবে

আপনার চাকরি এবং উদ্যোক্তা দুটি বিষয় একসাথে চালানোর জন্য শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। চাকরি এবং উদ্যোক্তার চাপ একসাথে সহ্য করা কোন কোন সময় কঠিন হতে পারে। সুতরাং আপনার আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল শক্ত করতে হবে যাতে আপনি সবকিছু সহজভাবে সামলাতে পারেন।

সপ্তম ধাপ ব্যবসার জন্য পছন্দের ক্ষেত্র নির্বাচন

আপনি যে ব্যবসা করবেন তার ক্ষেত্র বেছে নিতে হবে। আপনাকে এমন একটি ব্যবসা শুরু করতে হবে যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং আপনি সেটি ভালোভাবে বুঝেন। তাহলে আপনার সফলতা পাওয়া সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আপনার চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা সহজ হবে তখন যখন আপনি সেই ক্ষেত্রে দক্ষ হন। কারণ আপনি খুব একটা সমস্যা অনুভব করেন না। সমস্যা আসলেও খুব সহজে কাটিয়ে দিতে পারেন।

অষ্টম ধাপ আপনি প্রাথমিক গবেষণা করুন

আপনি যে ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন সেটি নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করুন। এই গবেষণা যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা এজন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে কোন কিছু শুরু করার আগে বাজারে চাহিদা, প্রতিযোগিতা এবং পণ্যের দাম ইত্যাদি জানা অত্যন্ত জরুরী। সঠিকভাবে গবেষণা না করলে আপনি প্রথম ধাপেই পিছিয়ে যাবেন। আপনি যে পণ্য নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন তার বাজারে কি ধরনের চাহিদা রয়েছে এবং আপনার পরিকল্পনা আজও সঠিক কিনা সেটি যাচাই করতে হবে। এতে করে আশা করা যায় আপনার ব্যবস্থা সফল হবে।

নবম ধাপ আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রম

সবশেষে আমি বলব আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পাশাপাশি পরিশ্রমী হতে হবে। উদ্যোক্তা হতে চাইলে আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিশ্রমী হওয়ার কোন বিকল্প নেই। এই দুটি কাজ আপনার সামনে সকল বাঁধাকে অতিক্রম করে আপনার পথ চলাকে সহজ করে দিবে। কথায় আছে পরিশ্রম সাফল্য চাবিকাঠি। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের সাথে সামনে এগিয়ে যান ইনশাল্লাহ আপনি সফল হবেন।

চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে নিজের ভবিষ্যত সাজান

আপনি বর্তমানে খেয়াল করলে দেখবেন তরুণ তরুণীরা শুধুমাত্র চাকরির মধ্যেই নিজেদেরকে আর সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। তারা এখন সবাই চায় কোন একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় করতে। আর এই বাড়তি আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। আপনাদের মধ্যে যারা নতুন কিছু শিখতে ভালোবাসেন অথবা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। তবে আপনারা যারা চাকরিজীবী রয়েছেন, চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে কিছু বিষয়ে আপনাকে জানার পাশাপাশি বুঝে নিতে হবে। চলুন বিষয়গুলোকে ধাপে ধাপে বর্ণনা করি।

ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি

সহজ ভাষায় বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং হল এমন এক ধরনের কাজ যেখানে আপনাকে কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে নিজের মত কাজ করে আয় করতে পারবেন। মনে করুন একজন ক্লায়েন্ট অথবা প্রতিষ্ঠান আপনাকে একটি কাজ দিয়েছে সেটি আপনি সময়মতো করে দিলেন। এখানে আপনি নিজে বস এবং কারো অধীনে নয়। আপনি নিজেই নিজের কাজের নিয়ন্ত্রণ। 

চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং একসাথে করা সম্ভব কি

আমার মতে হ্যাঁ একদম সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, যেহেতু আপনি একসাথে দুইটি দায়িত্ব পালন করছেন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় আপনাকে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিতে হবে। সময়টা ঠিক কখন হবে এটা নির্ভর করবে আপনার কাজের ধরনের উপর।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে তা হলো নিজেকে সময়ের সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। ফ্রিল্যান্সিং কিন্তু অনেক ধৈর্যের একটি কাজ। আপনি যদি ধৈর্য ধরে কাজ করেন তাহলে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা এবং আয় দুটোই বাড়বে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার আয় কেমন হবে সেটি নির্ভর করবে আপনার দক্ষতা এবং পরিশ্রমের উপর।

চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে ভারসাম্য বজায়

আপনি যেহেতু চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং দুটোই একসাথে করতে চান, সেক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অফিস শেষ করে, বাড়ি ফিরে এসে যদি এক ঘন্টাও সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য দিতে পারেন তাহলে সেটিও অনেক বড় পদক্ষেপ। আমি বলব আপনি একটি রুটিন তৈরি করুন যেমনঃ

  1. প্রথমত আপনাকে নির্বাচন করতে হবে সপ্তাহে কোন কোন দিন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সময় দিবেন
  2. দ্বিতীয়ত প্রতিদিন অফিসে কত সময় রাখবেন নিজের কাজের জন্য সেটি নির্বাচন করতে হবে
  3. তৃতীয় ঘুম এবং বিশ্রামের জন্য আপনাকে অবশ্যই সময় রাখতে হবে। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  4. আপনি অযথা মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করবেন না
  5. যতটুকু হাতে সময় পাবেন তা ঠিক ভাবে নিজের কাজে লাগান
  6. আপনার সময় গুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং থেকেও ভালো আয় উপার্জন করা সম্ভব

আপনি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন

1. সবার প্রথমে আপনার কাজ হল কোন কাজটা করতে আপনাকে ভালো লাগে অথবা আগ্রহী সেটি খুঁজে বের করুন। নিজের দক্ষতা নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

2. কাজটি শিখার জন্য আপনি youtube এবং বিভিন্ন কোর্স প্লাটফর্ম যেমনঃ Coursera, Udemy, Shikhbe Shobai ইত্যাদি থেকে প্রাথমিক শেখার ধাপ শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যেহেতু প্রফেশনাল ভাবে শিখতে চান সেক্ষেত্রে পেইড ক্লাস করা আপনার জন্য বেস্ট হবে।

3. আপনাকে আপনার কাজের উদাহরণ গুলো বুঝিয়ে অনলাইনে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে, যেখানে আপনার দক্ষতা এবং কাজের মান দেখানো যাবে।

4. ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যে সমস্ত প্লাটফর্ম রয়েছে যেমনঃ Fiverr, Upwork, Freelancer ইত্যাদিতে গিয়ে আপনি প্রোফাইল খুলুন এবং আপনি যে কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন সেই কাজ অনুযায়ী গিগ তৈরি করুন।

5. একাউন্ট খোলার কাজ শেষ হলে আপনি ছোট ছোট কাজ দিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় শুরু করুন। যেহেতু আপনি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার সেক্ষেত্রে বড় অংকের টাকা নির্ধারণ করবেন না। আপনার অভিজ্ঞতা এবং রেটিং যখন আস্তে আস্তে বাড়বে তখন বড় প্রজেক্ট পাবেন এবং আপনার নিজের মতো করে একটি মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন।

6. ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে অবশ্যই যেতে আপনাকে জানতে হবে তা হল ধৈর্য ধারণ করা। এর চাইতে কঠিন কাজ আমার মনে হয় দ্বিতীয়টা নেই। অত্যন্ত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাসী ধৈর্যধারণ এবং আঠার মতো লেগে থাকলেই আপনি সাফল্যের মুখ দেখতে পাবেন ইনশাল্লাহ।

সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য কিছু টিপস

আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ক্লায়েন্টকে খুশি করতে হবে। তিনি আপনাকে যে কাজটি দিচ্ছেন তা ভালোভাবে ও সময়মতো শেষ করুন। কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে করেন আপনি কাজের প্রতিশ্রুতি দিলেন তা অবশ্যই সময়মতো পূর্ণ করবেন। আরো যে বিষয়টি আমি আপনাকে বলব তা হলো ফ্রিল্যান্সিং জগতে যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু কাজ আসছে। তাই প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট


রাখতে হবে যাতে করে সকল পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারেন। আপনার মধ্যে আরেকটি যে গুণ থাকতে হবে তা হল কমিউনিকেশন স্কিল। আপনি যদি ক্লায়েন্টদের সাথে সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন তাহলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া আরও একটি বিষয় আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হল স্মার্টভাবে প্রোফাইল সাজানো। আপনাকে এমন ভাবে প্রোফাইল, বায়ো এবং গিগ সাজাতে হবে যাতে করে ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট হয়।

সবশেষে যে বিষয়টি না বললেই নয় তা হল পজেটিভ মানসিকতা বজায় রাখুন। এটি যদি আপনি ঠিক মতো কন্ট্রোল করতে না পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসা আপনার জন্য নিরর্থক। ক অনেকে আমরা রয়েছি যারা প্রথমবার কাজ না পেলে হতাশ হয়ে যায় এবং শেখা ও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা হারিয়ে ফেলি। আপনি যদি পজেটিভ ভাবে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ আপনি সফল হবেন।

ব্যক্তিগত মতামতঃ চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায়

চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উপায় সম্পর্কে আশা করি আমি কিছুটা হলেও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দ্বারা ধারণা দিতে পেরেছি। চাকরির পাশাপাশি আপনি কোনটি করতে চান ব্যবসা নাকি ফ্রিল্যান্সিং সেটি আগে নির্বাচন করুন। নির্বাচন করা হয়ে গেলে আপনার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান। আপনার নিজের মধ্যে কার দক্ষতাকে খুঁজে বের করুন এবং সব সময় পজেটিভ থাকার চেষ্টা করুন। মানুষের কথায় কান দিবেন না। ঠিকমতো লেগে থাকতে পারলে আপনি সফল হবেন ইনশাল্লাহ।

আমার মতে চাকরির পাশাপাশি ইনকাম করার সেরা উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। তবে এটি সবার জন্য নাও হতে পারে। আপনারা যারা ব্যবসা করতে ইচ্ছুক, তারা চাকরির পাশাপাশি সেটি করতে পারবেন। তবে ব্যবসা করার জন্য কি কি বিষয় মনে রাখতে হবে আশা করি আর্টিকেলটি পড়ার পর বুঝতে পেরেছেন।চাকরির ফাঁকে বাড়তি ইনকামের টিপস কেমন লাগলো অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আপনারা যখন নিজেদের রিভিউ দেন তখন আমার আনন্দ অনুভব হওয়ার পাশাপাশি কাজ করার প্রতি ইচ্ছা এবং আগ্রহ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সব বাজ ব্লগিং ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url